সব জনপ্রিয় ব্যক্তির গল্পের শুরু একরকম হয় না, কিছু গল্প শুরুই হয় লড়াই দিয়ে, ভিড়ের মধ্যে নিজের জায়গা তৈরি করে নেওয়ার অদম্য চেষ্টা দিয়ে। অভিনেত্রী মল্লিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mallika Banerjee) জীবনটাও তেমনই এক গল্প। ছোটপর্দায় তাঁকে আমরা অনেক সময় কঠোর, কখনও চতুর খলনায়িকার ভূমিকায় দেখেছি, কিন্তু পর্দার বাইরে তিনি একেবারে অন্য মানুষ! নিরন্তর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে উঠে আসা একজন বাস্তব জীবনের যোদ্ধা তিনি।
জীবনের থেকে বড় আর বাস্তব শিক্ষাগুলি তিনি পেয়েছেন খুব অল্প বয়সেই। যখন অন্যরা পড়াশোনা আর বন্ধুদের নিয়ে ব্যস্ত, তখন মল্লিকার জীবনে নেমে আসে দায়িত্বের ভার। বাবা করতেন সরকারি চাকরি, তার হঠাৎ অসুস্থতা পুরো পরিবারকে আর্থিক সংকটে ফেলে দেয়। সেই সময় থেকেই অভিনেত্রী নিজের মতো করে লড়াই শুরু করেন। দুটো টাকার জন্য কখনও নাচ শেখানো, টিউশনি করা, এমনকি পরে ছবিতে ব্যাকআপ ড্যান্সার হিসেবেও কাজ করেছেন। কাছের মানুষের সমর্থন না পেলেও নিজের ইচ্ছাশক্তির ওপর ভর করেই তিনি এগিয়ে গেছেন।
প্রসঙ্গত, আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি, ব্যক্তিগত জীবনের স্থিতিও তাঁর জন্য সহজ ছিল না। ভালোবেসে ঘর ছেড়ে কলকাতায় নতুন জীবন শুরু করেছিলেন, কিন্তু সেই সম্পর্ক বেশিদিন টেকেনি। স্বামী একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন, একসময় স্ত্রী এবং সন্তানকে ছেড়ে তিনি চলে যান। একরত্তি মেয়েকে নিয়ে একা হয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা মল্লিকাকে ভেঙে দিতে পারত, কিন্তু তিনি থামেননি। পরে আবার নতুন করে বিশ্বাস করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সেই সম্পর্কেও তিনি সম্মান পাননি।
দীর্ঘদিনের মান’সিক আর শা’রীরিক কষ্টের পর তিনি নিজেই সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেন। আর এটাই যেন ছিল তাঁর জীবনের বড় মোড়। একটা সময় মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে আবার অভিনয়ে ফিরে আসেন। প্রথমে খুব ছোট ছোট চরিত্র দিয়ে শুরু হলেও আবার নিজের জায়গা তৈরি করেন। বিশেষ করে ‘সোহাগী সিঁদুর’ ধারাবাহিক তাঁকে নতুন করে পরিচিতি দেয় এবং তারপর থেকে তিনি আর পিছনে ফিরে তাকাননি। নিজের পরিশ্রমে তিনি আজ স্বনির্ভর। নিজের চেষ্টায় বাড়ি, গাড়ি সবই অর্জন করেছেন ধাপে ধাপে। তবে, আজকের মল্লিকা একেবারেই আলাদা।
আরও পড়ুনঃ “৯০ শতাংশ কাজ করতে বাধ্য হয়েছি, ফুলদানির মতো…” ছোটপর্দা নিয়ে বি’স্ফোরক মন্তব্য! জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও কেন ধারাবাহিক থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখছেন ঋষি কৌশিক? কী কারণ জানালেন অভিনেতা?
তিনি শুধু একজন সফল অভিনেত্রী নন, একজন মা হিসেবেও গর্বিত। আজ সদ্য প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে ‘গরিমা’ তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি। মেয়ের উৎসাহেই তিনি জীবনে আবার নতুন করে সুখ খুঁজে পেয়েছেন। গত বছর চিকিৎসক রুদ্রজিৎ রায়ের সঙ্গে আবার সংসার পেতেছেন তিনি। বর্তমানে তাঁর স্বামী ও মেয়েকে নিয়ে শান্ত, স্থির জীবনে আছেন। অতীতের কষ্টগুলো মুছে না গেলেও, সেগুলোকে সঙ্গে নিয়েই তিনি এগিয়ে চলেছেন আর এই পথচলাই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে।






