বাংলার বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এ বিজেপির জয়ের পর ফের সামনে এল অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীকে ঘিরে পুরনো বনগাঁ বিতর্ক। বছরের শুরুতে বনগাঁর একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে সমস্যায় জড়িয়েছিলেন অভিনেত্রী। সেই সময় মিমি দাবি করেছিলেন, তাঁকে জোর করে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ঘটনাটি তখন ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে ওঠে। পরে বিষয়টি আইনি পথেও গড়ায়। ভোটের ফল প্রকাশের পর সেই মামলাকে ঘিরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। কারণ এবার বিজেপির জয়ী আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি জানিয়েছেন, বিষয়টি তিনি ভুলে যাননি।
সব রাজনৈতিক ব্যস্ততা মিটলেই মামলা আদালতে তোলা হবে। ঘটনার সময় অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা তনয় শাস্ত্রী সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে অনুষ্ঠানে পৌঁছেছিলেন মিমি চক্রবর্তী। রাত ১২টার পর আর অনুষ্ঠান চালানো সম্ভব ছিল না বলেই তাঁকে মঞ্চ ছাড়ার অনুরোধ করা হয়। তনয়ের দাবি, কোনও অসম্মান করা হয়নি, নিয়ম মেনেই অনুষ্ঠান শেষ করতে হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, যথেষ্ট সম্মান দেখিয়েই মিমিকে স্টেজ থেকে নেমে যেতে বলা হয়েছিল। তবে মিমির অভিযোগ ছিল, তাঁকে জোর করে নামানো হয়েছে।
এই দুই পক্ষের বক্তব্য ঘিরেই তখন বিতর্ক তীব্র হয়। পরে ঘটনাটি আইনি লড়াইয়ের দিকে এগোয়। এই ঘটনার কিছুদিন পর তনয় শাস্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয় মিমি চক্রবর্তীকে হেনস্তার অভিযোগে। জেল থেকে বেরিয়ে এসে তিনি মিমির বিরুদ্ধে পাল্টা আইনি পদক্ষেপ নেন। জানা যায়, তিনি মিমির বিরুদ্ধে জোড়া মামলা দায়ের করেন। তনয়ের অভিযোগ, তাঁকে অন্যায়ভাবে ফাঁসানো হয়েছে এবং চাপ সৃষ্টি করে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনার পর আরও চমক দেখা যায়, যখন তাঁকে বিজেপির পতাকা হাতে দলে যোগ দিতে দেখা যায়।
সেই সময় থেকেই বিষয়টি রাজনৈতিক রং পেতে শুরু করে। ফলে নির্বাচন শেষে আবার এই মামলা নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রসঙ্গত, তনয় শাস্ত্রীর হয়ে এতদিন মামলা লড়ছিলেন আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। বিধানসভা ভোট, নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথ এবং রাজনৈতিক ব্যস্ততার কারণে তিনি এতদিন বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেননি। তবে তিনি আনন্দবাজার ডট কমকে জানান, সব কিছু তাঁর মনে রয়েছে। তরুণজ্যোতির কথায়, নির্বাচন নিয়ে তিনি ব্যস্ত ছিলেন, কিন্তু বনগাঁ মামলার কথা ভোলেননি।
এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই মিমি চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে করা মামলাগুলি আদালতে তোলা হবে। এরপর আইন অনুযায়ী যা করার, সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। তাঁর মন্তব্যে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। আইনজীবীর দাবি, প্রথম মামলায় ২ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে, যা অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পারিশ্রমিক হিসেবে নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। দ্বিতীয় মামলাটি করা হয়েছে মানহানির অভিযোগে, যেখানে ২০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: “আশা করার প্রশ্নই জাগে না…রাজ্যের শিরদাঁড়া ভেঙে গিয়েছে, জনতা উত্তর দিয়েছে, দরকারে আবারও দেবে” বাংলায় গেরুয়া সরকারের শাসন শুরু হতেই মুখ খুললেন বামমনস্ক কৌশিক সেন, মানসী সিনহা, ঊষসী চক্রবর্তী ও চন্দন সেন! আশা না শঙ্কা? কী দাবি জানালেন, কী বলছেন তাঁরা?
তরুণজ্যোতি আরও বলেন, মিমি অনেক দেরিতে অনুষ্ঠানে পৌঁছেছিলেন এবং তাঁর ব্যবহারও ভালো ছিল না। অনুষ্ঠান নির্ধারিত সময়েই শেষ করার কথা ছিল, তাই তাঁকে নামতে বলা হয়। তাঁর অভিযোগ, মিমি অকারণে মিথ্যা অভিযোগ করেছিলেন তনয়ের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে তনয়কে হেনস্থা করা হয়েছিল। এখন আদালতেই এই মামলার পরবর্তী দিক নির্ধারিত হবে।






