বিনোদন জগতের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের জীবনযাপন, কথা বলা কিংবা পর্দার চরিত্র, সবকিছুই সাধারণ মানুষের উপর কমবেশি প্রভাব ফেলে। কেউ তাদের অনুসরণ করেন, কেউ আবার তাদের আইডল হিসেবে দেখেন। ফলে পর্দায় দেখানো প্রতিটি দৃশ্য বা বার্তা অনেক সময় বাস্তব জীবনেও প্রভাব বিস্তার করে। বিশেষ করে ছোট পর্দার ধারাবাহিকগুলিতে দেখানো সম্পর্ক, পারিবারিক টানাপোড়েন কিংবা সামাজিক বার্তা দর্শকদের ভাবনাচিন্তাকে প্রভাবিত করে, এটা আজ আর অজানা নয়।
এই বিষয় নিয়েই সম্প্রতি খোলামেলা মত প্রকাশ করলেন বাংলা ছোট পর্দার পরিচিত মুখ প্রিয়া মন্ডল। সাবলীল অভিনয় এবং বহুমুখী চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি ইতিমধ্যেই দর্শকদের কাছে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন। তার অভিনয় জীবনের শুরু ছোট পর্দাতেই, এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘স্ত্রী’-তে ‘আলিয়া’ চরিত্রে অভিনয় করে তিনি প্রথম বড় পরিচিতি পান।
এরপর ‘ভোজো গোবিন্দ’, ‘বরণ’, ‘তুমিই যে আমার মা’-এর মতো ধারাবাহিকে তার অভিনয় নজর কেড়েছে। ‘তুমিই যে আমার মা’ ধারাবাহিকে ‘আরোহী’ চরিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি ‘হ্যাপি সিং’ নামের এক পুরুষ চরিত্রেও তাকে দেখা যায়, যা দর্শকদের মধ্যে বিশেষ আলোচনা তৈরি করেছিল। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি পেশায় একজন আইনজীবী, শুটিংয়ের ফাঁকেই নিজের পড়াশোনা শেষ করেছেন, যা তার পরিশ্রমের আরেকটি প্রমাণ।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে প্রিয়া মন্ডল জানিয়েছেন, তাকে যদি এমন কোনও চরিত্র দেওয়া হয় যেখানে একজন নারী চরম অত্যাচারের শিকার হচ্ছেন, তাহলে তিনি সেই চরিত্র করতে রাজি নন। তার কথায়, একজন অভিনেতা হিসেবে তিনি জানেন এগুলো চরিত্রের অংশ, কিন্তু একজন মানুষ হিসেবে তিনি সেই বার্তা সমাজে পৌঁছে দিতে চান না। তার মতে, অনেক মানুষ অভিনেতাদের আইডল হিসেবে দেখেন, ফলে পর্দায় যা দেখানো হয়, তা বাস্তব জীবনে প্রভাব ফেলে। তিনি স্পষ্ট বলেন, “আমি চাই না কেউ ভাবুক অত্যাচার সহ্য করাটাই স্বাভাবিক।”
আরও পড়ুনঃ “পকেটে ফোন নিয়ে অভিনয়…মনে হয় এক থাবড়া মা’রি!” নতুন শিল্পীদের নিয়ে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন শুভাশিষ মুখোপাধ্যায়! সমাজ মাধ্যম ও প্রযুক্তির আসক্তিতেই হারাচ্ছে মনোযোগ, প্রতিভা? বর্তমান প্রজন্মকে কোন কঠিন প্রশ্নের মুখে দাঁড় করালেন অভিনেতা?
বরং তিনি চান মানুষ প্রতিবাদ করতে শিখুক, নিজের জন্য দাঁড়াতে শিখুক। প্রিয়ার এই বক্তব্য নিঃসন্দেহে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একদিকে যেখানে অনেকেই মনে করেন, অভিনয় মানেই সব ধরনের চরিত্রে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া, অন্যদিকে প্রিয়ার মতো অভিনেত্রীরা মনে করছেন, সমাজে সঠিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বও সমান গুরুত্বপূর্ণ। শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা থেকেই যায়, শুধু বিনোদন, নাকি তার মধ্যেও লুকিয়ে থাকে সামাজিক দায়বদ্ধতা? অভিনেত্রীর এই বক্তব্য সেই প্রশ্নটাই আরও একবার সামনে নিয়ে এল।






