“কাঁদতেও পারিনি, চোখে চাপ পড়লে সব শেষ হয়ে যেত…কাজ করে খেতে হবে তো” হঠাৎ ‘আই স্ট্রোকে’ দৃষ্টিশক্তি হারানোর আশঙ্কা! আতঙ্ক আর কাজ না পাওয়ার দুশ্চিন্তায় ভেঙে পড়েছিলেন সাগরিকা রায়! কীভাবে কাটিয়েছেন সেই দুঃসময়, এখন কেমন আছেন অভিনেত্রী?

বাংলা টেলিভিশন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পরিচিত মুখ সাগরিকা রায়। একাধিক ধারাবাহিক এবং ওয়েব কনটেন্টে কাজ করে তিনি ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন ইন্ডাস্ট্রিতে। স্বাভাবিক অভিনয়, আবেগপ্রবণ চরিত্র ফুটিয়ে তোলার দক্ষতা এই সব মিলিয়েই দর্শকদের কাছে তিনি পরিচিত। সাম্প্রতিক সময়ে নতুন ওয়েব সিরিজ ‘দেবী’-তে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে তাঁর উপস্থিতির কথাও শোনা গিয়েছিল।

তবে অভিনয় জীবনের চেয়েও গত কয়েক মাসে ব্যক্তিগত জীবনের কারণেই বেশি খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন তিনি। কখনও কাজের জায়গায় অসন্তোষ, কখনও আবার ব্যক্তিগত লড়াই সব মিলিয়ে একটা কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন সাগরিকা। আর সেই কঠিন সময়ের সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে তাঁর শারীরিক সমস্যাকে ঘিরে।

২০২৬ সালের মার্চ মাস নাগাদ আচমকাই তাঁর চোখে সমস্যা ধরা পড়ে। প্রথমে তিনি বুঝতেই পারেননি বিষয়টা কতটা গুরুতর। সামান্য ঝাপসা দেখার সমস্যা ভেবেই এড়িয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু পরে চিকিৎসকদের কাছে গেলে জানা যায়, এটি আসলে ‘আই স্ট্রোক’। অর্থাৎ চোখের ভেতরে রক্তক্ষরণ হয়েছে, রক্ত ছড়িয়ে পড়েছে এবং জল জমে গেছে। সাগরিকার কথায়, বাইরে থেকে বোঝার মতো কিছুই ছিল না, কারণ সবটাই ঘটছিল চোখের ভেতরে।

এই পরিস্থিতি জানতে পেরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। তাঁর কথায়, “আমি তো বুঝতেই পারিনি ভেতরে এতটা ক্ষতি হচ্ছে। যখন জানলাম, তখন মনে হচ্ছিল কীভাবে সামলাবো!” চিকিৎসকেরা তাঁকে একাধিক ইনজেকশন নেওয়ার পরামর্শ দেন, যা নিতে সময়ও লাগে, খরচও কম নয়। সেই সময়টা তাঁর কাছে ছিল ভীষণ চাপের। একদিকে শরীরের সমস্যা, অন্যদিকে কাজ হারানোর ভয় সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত দুশ্চিন্তায় কাটছিল অভিনেত্রীর দিন।

তিনি আরও জানান, এই অসুখের সবচেয়ে বড় ভয় ছিল চোখে চাপ পড়া। এমনকি কাঁদতেও বারণ করা হয়েছিল তাঁকে, কারণ তাতে চোখের ক্ষতি হতে পারে। কিন্তু ভিতরের দুশ্চিন্তা, ভয় এসব তো চাপা রাখা সহজ নয়। তবু নিজেকে সামলাতে হয়েছে, কারণ তাঁর নিজের কথায়, “আমাকে কাজ করে খেতে হবে, চোখটা আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।” ইনজেকশন নেওয়ার অভিজ্ঞতাও সহজ ছিল না, যদিও চিকিৎসকেরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন তাঁকে স্বস্তিতে রাখতে।

আরও পড়ুনঃ মঙ্গেশকর পরিবারের মহৎ উদ্যোগ! প্রয়াত কিংবদন্তি লতা মঙ্গেশকর ও আশা ভোঁসলের স্মৃতিতে, এশিয়ার প্রথম হতে চলেছে এমন কিছু? জানলে চমকে যাবেন আপনিও!

এই পুরো সময়টায় তিনি অনেক কিছু নতুন করে বুঝেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের অসুখের কথা সামনে আসার পর অনেকেই তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন, পরামর্শ দিয়েছেন। তখনই তিনি বুঝেছেন, এমন সমস্যায় আরও অনেকেই ভুগছেন। তবে এখনও পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না সাগরিকা। কারণ চিকিৎসকদের মতে, এই সমস্যা আবারও ফিরে আসতে পারে। তাই নিয়মিত চিকিৎসা, ওষুধ আর সতর্কতার মধ্যেই এখন তাঁর দিন কাটছে। তবু সব কিছুর মাঝেও তিনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন নিজের জন্য, নিজের পরিবারের জন্য এবং নিজের কাজকে ধরে রাখার জন্য।

You cannot copy content of this page