“সংসার করতে যাচ্ছ, মাথায় বরফ নিয়ে যাবে”, “স্বামীর সঙ্গে মনোমালিন্য হলেই ব্যাগ গুছিয়ে বাপের বাড়ি আসা চলছে না!” মা কখনও শ্বশুরবাড়ির বিষয়ে অযাচিত হস্তক্ষেপ করেননি, বরং তাঁর কারণেই টিকে গেছে রগচটা মেয়ের সংসার! মায়ের দেওয়া শিক্ষাতেই কীভাবে স্বামী-সংসার আগলে রেখেছেন, জানালেন অভিনেত্রী স্বাগতা মুখোপাধ্যায়?

বিনোদন জগতের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের পর্দার আড়ালের জীবন নিয়ে দর্শকদের কৌতূহল বরাবরই বেশি। পর্দায় তাঁদের যে জীবন বা চরিত্র দেখা যায়, বাস্তব জীবনের গল্প অনেক সময় তার থেকে একেবারেই আলাদা। কাজের ব্যস্ততা, পরিবার, সম্পর্ক, ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত সব মিলিয়ে তারকাদের জীবনেও থাকে নানা ওঠাপড়া। এমনই এক সাক্ষাৎকারে নিজের ব্যক্তিগত জীবন, পরিবার, স্বামী ঋষি মুখার্জির সঙ্গে সম্পর্ক এবং ছোটবেলার নানা স্মৃতি নিয়ে খোলামেলা কথা বললেন অভিনেত্রী স্বাগতা মুখোপাধ্যায়। অভিনয়ের পাশাপাশি গান, থিয়েটার এবং অভিনয় প্রশিক্ষণের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত তিনি। নিজের জীবনে পাওয়া শিক্ষা এবং পরিবারের ভূমিকা নিয়েও এদিন অকপটে কথা বলতে শোনা যায় তাঁকে।

স্বাগতার অভিনয়জীবনের শুরুটা অনেকটাই আকস্মিক। ছোটবেলা থেকেই সাংস্কৃতিক পরিবেশে বড় হয়ে ওঠা, গান শেখা এবং থিয়েটারের সঙ্গে পরিচয় তাঁর অভিনয় জীবনের ভিত তৈরি করে। পরবর্তীকালে ‘দায়বদ্ধ’ নাটকের মাধ্যমে মঞ্চে অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি। ‘বাসভূমি’-সহ একাধিক নাটকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। বাংলা টেলিভিশন এবং সিনেমাতেও তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে নিজের সাফল্য নিয়ে কখনও অহংকার করতে চান না অভিনেত্রী। বরং তিনি মনে করেন, যতটা পেয়েছেন, তার জন্য ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। অভিনয়ের পাশাপাশি নিজের অভিনয় প্রশিক্ষণ কেন্দ্রও পরিচালনা করেন স্বাগতা ও তাঁর স্বামী ঋষি মুখার্জি। সেখানেও ছাত্রছাত্রীদের ক্যামেরা, আলো এবং মনিটরের মাধ্যমে অভিনয়ের খুঁটিনাটি শেখানো হয়।

তবে নিজের জীবনদর্শনের কথা বলতে গিয়ে বারবার মায়ের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে স্বাগতার কথায়। অভিনেত্রীর কথায়, তাঁর মা অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন এবং সংসার সম্পর্কে তাঁর বাস্তববোধ ছিল গভীর। বিয়ের পর মেয়েকে মায়ের দেওয়া একটি বিশেষ পরামর্শ আজও মনে রেখেছেন স্বাগতা। তাঁর মা বলেছিলেন, “সংসার করতে যাচ্ছ, মাথায় বরফ নিয়ে যাবে।” অর্থাৎ দাম্পত্য জীবনে রাগের বশে তৎক্ষণাৎ কোনও সিদ্ধান্ত না নিয়ে ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি সামলানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, কোনও কারণে মনোমালিন্য হলে ব্যাগ গুছিয়ে বাড়ি চলে আসতেও নিষেধ করেছিলেন। স্বাগতার কথায়, মায়ের সেই শিক্ষা তাঁর দাম্পত্য জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন: ‘খ*তম’ করার হুম’কি সৌরভ ও ডোনাকে! প্রথমে কটূ’ক্তি সহ একের পর এক আপত্তিকর চিঠি! এবার সরাসরি মৃ’ত্যুর শাসানি! কার নিশানায় প্রাক্তন অধিনায়কের পরিবার? ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য, কার বিরুদ্ধে করলেন থানায় অভিযোগ দায়ের?

স্বাগতা জানান, তাঁর মা কখনও মেয়ের শ্বশুরবাড়ির বিষয়ে অযাচিত হস্তক্ষেপ করেননি। বিয়ের পর মেয়ের সংসারে কী হচ্ছে, তা জানতে নিয়মিত ফোন করে খোঁজ নেওয়া বা ব্যক্তিগত বিষয়ে মাথা গলানোর অভ্যাস তাঁর ছিল না। খুব বেশি হলে কী খেয়েছেন, কী রান্না হয়েছে এই ধরনের সাধারণ কথাবার্তাই হত। স্বাগতার মতে, মায়ের এই সংযম এবং বিশ্বাসই তাঁকে নিজের সংসার নিজের মতো করে সামলানোর সুযোগ দিয়েছে। অন্যদিকে, স্বামীর পরিবারের কাছ থেকেও তিনি যথেষ্ট ভালোবাসা পেয়েছেন বলে জানান অভিনেত্রী। তাঁর এবং ঋষির সম্পর্কও শুধুমাত্র স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; দুই পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও গভীর বন্ধন তৈরি হয়েছে। বাবা-মায়ের দেওয়া সেই মূল্যবোধই হয়তো আজও তাঁর সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে রেখেছে।

স্বাগতার কথায় স্পষ্ট, অভিনয়জীবনের সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও তাঁর বাবা-মায়ের শিক্ষা গভীরভাবে প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে মায়ের শান্ত থাকা, পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং সংসারে অযথা হস্তক্ষেপ না করার শিক্ষা আজও তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ। স্বামী ঋষি মুখার্জিকে নিজের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মানুষ হিসেবে উল্লেখ করে অভিনেত্রী জানান, তাঁরা একে অপরের খুব ভালো বন্ধু এবং জীবনের প্রায় সব কথাই পরস্পরের সঙ্গে ভাগ করে নেন। তাঁর কথায়, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে শুধু ভালোবাসা নয়, প্রয়োজন পারস্পরিক বোঝাপড়া, বিশ্বাস এবং নিজের সীমারেখা সম্পর্কে সচেতন থাকা। আর সেই জায়গাতেই মায়ের বহু বছর আগের একটি ছোট্ট পরামর্শ ‘মাথায় বরফ নিয়ে সংসার করো’আজও স্বাগতার জীবনে বড় শিক্ষা হয়ে রয়েছে।

You cannot copy content of this page