টলিউডে কাজের ধরন বদলেছে, দর্শকের প্রত্যাশাও বদলেছে। তবু একটা ধারণা এখনও ঘুরে বেড়ায় যে বিনোদন দুনিয়ায় এগোতে গেলে নাকি সাহসী বা ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় করতেই হয়। এই ভাবনাটা বিশেষ করে অভিনেত্রীদের ক্ষেত্রে আরও বেশি করে চাপিয়ে দেওয়া হয়। ঠিক এই জায়গাতেই ‘স্বস্তিকা দত্ত’ (Swastika Dutta) নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন। জনপ্রিয়তার দৌড়ে থেকেও তিনি জানালেন, কিছু সীমারেখা তিনি নিজেই টেনেছেন, আর সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে কোনও আপস করেননি।
আজকের স্বস্তিকার মধ্যে স্পষ্ট যে তিনি সময়ের সঙ্গে নিজেকে গুছিয়ে নিতে শিখেছেন। কাজের চাপ, পরিচিত মুখ হয়ে ওঠার ঝলকানি, ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েনের মধ্যেই একটা ভারসাম্য খুঁজে পেয়েছেন তিনি। এক সময়ের অস্থিরতা বা হঠকারিতা এখন আর চোখে পড়ে না। বরং তিনি অনেক বেশি সংযত, নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে আত্মবিশ্বাসী। সেই পরিণত মনোভাবই হয়তো তাঁকে আলাদা করে চিনিয়ে দিয়েছেন ইন্ডাস্ট্রির ভিড়ে।
ছোটপর্দা, বড়পর্দা কিংবা ওয়েব মাধ্যম বদলালেও স্বস্তিকার কাজের ধারাবাহিকতায় একটা বিষয় পরিষ্কার। তিনি চরিত্রকে গুরুত্ব দেন, দৃশ্যকে নয়। কোনও গল্পে তাঁর উপস্থিতি মানে শুধু গ্ল্যামার নয়, বরং চরিত্রের ভেতরের মানুষটাকে তুলে ধরার চেষ্টা। তাই আট বছর পর আবার টেলিভিশনে ফিরে তাঁকে নতুন করে প্রমাণ দিতে হয়নি। দর্শক তাঁকে গ্রহণ করেছে তাঁর অভিনয়ের জোরেই, কোনও বিতর্ক বা চমকের ভরসায় নয়।
সম্প্রতি নিজের কাজ আর ব্যক্তিগত পছন্দ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি যে বক্তব্য রাখেন, তা অনেকের চোখে আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে। স্বস্তিকা বলেন, “আমি কখনও চুমু খাই না! তার থেকেও ঘনিষ্ঠ দৃশ্য তো অনেক দূরের কথা। যদি একান্তই এমন কোনও দৃশ্যের প্রয়োজন হয় গল্পের খাতিরে, তাহলে চিট শট নিতে হয়। নায়ক-নায়িকা মুখমুখি দাঁড়াবে আর ক্যামেরাটা পাশ থেকে সরে ঝাপসা হয়ে যাবে। আমার মনে হয়, এই মুহূর্তে আমি তৈরি নই। তাই সিদ্ধান্তটা একান্ত ব্যক্তিগত।”
আরও পড়ুনঃ ‘পাইলটদের চরি’ত্র ভালো হয় না…সব দুঃখ লুকিয়ে অপরাধীকে ভালো সাজিয়েছিলাম, দরকার হলে উল্টোটাও করব!’ ফের লাইভে বিস্ফো’রক দেবলীনা নন্দী! সংসারে নিঃসঙ্গতার যন্ত্রণা আর তৃতীয় ব্যক্তির বিত’র্কে কান্নায় ভেঙে পড়লেন তিনি!
এই কথার মধ্যে কোথাও প্রতিবাদ নেই, আবার কোথাও অহংকারও নেই, আছে শুধু নিজের মতো করে বাঁচার স্বচ্ছতা। সমাজের চোখে অভিনেত্রীদের নিয়ে বহুদিনের যে ধারণা, স্বস্তিকা দত্ত তা ভেঙেছেন খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে। কোনও তর্কে না গিয়ে তিনি দেখিয়েছেন নিজের সীমা বেছে নিয়েও জনপ্রিয় হওয়া যায়। ভুল থেকে শেখা, অভিজ্ঞতা থেকে শক্ত হওয়া আর নিজের মতো করে এগোনোর মধ্যেই তাঁর পথচলা। সামনে তাঁর আরও কাজ, আরও চরিত্র অপেক্ষা করছে। তবে একটা জিনিস স্পষ্ট যে নিজের শর্তে বাঁচার অধিকার তিনি আগেই কায়েম করে নিয়েছেন।






