“আমার কাছে ২৩ পাতার স্ক্রিপ্ট আছে, ম্যাজিক মোমেন্টসের ওয়াটারমার্কসহ, জানি কী লেখা ছিল” বি*স্ফোরক দাবি পারমিতা মুন্সির! লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখাতেই লুকিয়ে রাহুলের মৃ’ত্যুর রহস্য? সবাই জেনেও চুপ, প্রকাশ্যে আসছে না কেন? লাভের জন্যই ঝুঁকির মুখে ঠেলা হয়েছিল অভিনেতাকে?

সাম্প্রতিক সময়ে টলিউডে একের পর এক ঘটনা যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে, শুটিং ফ্লোরে কাজ করা শিল্পীদের জন্য নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত? ক্যামেরার সামনে ঝলমলে দৃশ্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকে ঝুঁকি, চাপ আর অনিশ্চয়তা। অনেক সময়ই অ্যাকশন দৃশ্য, আউটডোর শুটিং বা দীর্ঘ কর্মঘণ্টার মধ্যে দিয়ে কাজ করতে গিয়ে শিল্পীদের শারীরিক ও মানসিক চাপে পড়তে হয়। এতদিন যেগুলো ভিতরে ভিতরে ছিল, এখন সেগুলোই ধীরে ধীরে সামনে আসছে সাধারণ মানুষের সামনে।

এই প্রেক্ষাপটেই অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যু গোটা ইন্ডাস্ট্রিকে নাড়িয়ে দিয়েছে। তাঁর এই অকাল প্রয়াণের পর থেকেই শুরু হয়েছে নানা প্রশ্ন, অভিযোগ আর বিতর্ক। কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, আদৌ কি যথেষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল, এই সব প্রশ্ন এখন ঘুরছে চারদিকে। শুধু শোক নয়, এই ঘটনাকে ঘিরে উঠে আসছে অবহেলা ও দায়িত্বজ্ঞান নিয়ে গুরুতর অভিযোগও।

এই ঘটনার পর অনেক শিল্পী ও কলাকুশলী তাঁদের নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে শুরু করেছেন। কেউ শুটিং করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন, কেউ বা অসুস্থ অবস্থাতেও কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন। কেউ সরাসরি অভিযোগ তুলছেন, আবার কেউ ইঙ্গিত করছেন কাজের পরিবেশ নিয়ে অসন্তোষের কথা। ফলে বোঝা যাচ্ছে, সমস্যা একদিনের নয় বরং বহুদিন ধরে জমে থাকা এক বাস্তবতা, যা এতদিন আড়ালে ছিল।

এই পরিস্থিতিতেই পরিচালক পারমিতা মুন্সি মুখ খুলেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে অভিযোগ করেন, বর্তমান সময়ে অনেক ক্ষেত্রে কাজের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। তাঁর কথায়, এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে সহ-অভিনেতারাই নিজেদের মতো করে দৃশ্য লিখে নিচ্ছেন, পরিচালকের ভূমিকা গুরুত্ব পাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, অনেক সময় স্ক্রিপ্টের মান নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায়, আর এই সব মিলিয়ে কাজের পরিবেশ অনিয়ন্ত্রিত হয়ে উঠছে। তাঁর মতে, এই অব্যবস্থার ফলেই শিল্পীদের নিরাপত্তা বিপন্ন হচ্ছে এবং মানুষের জীবন নিয়ে খেলা করা হচ্ছে।

পারমিতা মুন্সি শুধু অভিযোগেই থেমে থাকেননি, তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও সামনে এনেছেন। তাঁর দাবি, তাঁর কাছে ম্যাজিক মোমেন্টসের একটি ২৩ পাতার স্ক্রিপ্ট রয়েছে, যেখানে সংস্থার ওয়াটারমার্ক স্পষ্টভাবে দেওয়া আছে। এই নথিকে তিনি প্রমাণ হিসেবে দেখাতে পারবেন বলেও জানিয়েছেন। তাঁর মতে, এই ধরনের নথি সামনে এলে অনেক অজানা দিক প্রকাশ্যে আসতে পারে। সেই কারণেই তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের ওপর জোর দিয়েছেন, যাতে পুরো বিষয়টি পরিষ্কারভাবে সামনে আসে এবং দায় ঠিকভাবে নির্ধারণ করা যায়।

You cannot copy content of this page