বিয়ে মিটতে না মিটতেই, ঘরে নতুন বউ পা রাখতেই অসুস্থ শাশুড়ি মা, এই হঠাৎ ঘটনাই এখন চর্চার কেন্দ্রে এনে দিয়েছে ‘সুকান্ত কুণ্ডু’ (Sukanta Kundu) ও অনন্যা গুহর (Ananya Guha) পরিবারকে। কয়েকদিন আগেও যেখানে ছিল বিয়ের আনন্দ, আত্মীয়স্বজন আর বন্ধুদের ভিড়ে ভরপুর ঘর, সেখানেই আচমকা দুশ্চিন্তার ছায়া নেমে আসে! নতুন জীবনের শুরুতেই এমন পরিস্থিতি যে কারও জন্যই কঠিন, আর সেই বাস্তবটাই এখন সামনে এসেছে তাঁদের জীবনে। বিয়েটা নিয়ে আগেই বেশ আলোচনা চলছিল সামাজিক মাধ্যমে।
যদিও আইনি বিয়ে আগেই সেরে ফেলেছিলেন তাঁরা, তবু পরিবারের ইচ্ছেতে বড় করে সামাজিক অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা ছিল। সেই মতো কল্যাণী ও মালদার পৈত্রিক বাড়িতে সব রীতিনীতি মেনে বিয়ে সম্পন্ন হয়। পরে কলকাতায় ফিরে রিসেপশনও হয় বেশ ধুমধাম করে। সব মিলিয়ে আনন্দের আবহই ছিল চারদিকে, যা হঠাৎ করেই ভেঙে দেয় এই অসুস্থতার খবর। এই পরিস্থিতির মাঝেই সুকান্ত সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও শেয়ার করে লিখেছেন, “কাল রাতেই ইমারজেন্সি বেসিসে ভর্তি করতে হলো মাকে!
অনেক কাকিমা জেঠিমা, মাসিমারা আমার ব্লগ দেখেন তাদের একটাই কথা বলার শরীরের কোনও রকম সিম্পটমই ইগনোর করবেন না মা অনেকদিন ধরে অবহেলা করেছিল! আর একটা মেডিক্লেম অবশ্যই করিয়ে রাখুন!” তাঁর এই কথাগুলো শুধু নিজের অভিজ্ঞতা নয়, বরং অন্যদের জন্যও একটি সতর্কবার্তা হিসেবে উঠে এসেছে। ভিডিওতে তিনি আরও বিস্তারিতভাবে জানান, “গতকাল রাতে হঠাৎ মায়ের প্রচন্ড পেটে ব্যথা শুরু হয়, তার সঙ্গে বমি। দম আটকে আসার মত পরিস্থিতি হয়েছিল একটা পর্যায়ে।
এমার্সিপি রিপোর্টটা তখনও আসেনি, তাই কালকে ইমার্জেন্সিতে ভর্তি করা হয়েছে মাকে। রাত্রেবেলা চিকিৎসা হয়েছে, সকালে রিপোর্টটা আসার পরে আমি এসে জানতে পারি যে ‘স্টোন’ আছে। আগেও এইটা বের করা হয়েছিল, কিন্তু আবার হয়েছে। আর ওইটার জন্যই মাঝে মাঝে অসুস্থ হয়ে পড়ছে মা। আজকে ইআরসিপি হবে, যেটা দিয়ে ওই স্টোনটা বের করা যায় শরীর দিয়ে। আশা করি সব ঠিক হবে। গ্যাসের সমস্যা বলে মা বরাবর ওষুধ খেয়ে চাপা দিয়ে রেখেছে। যেটা নিয়ে সন্দেহ হয় আমাদের যে ব্যথাটা হলেই তার সঙ্গে জ্বর চলে আসে। তাই আমার বিয়ের আগে শেষবার যখন মা কলকাতায় এসেছিল বাজার করতে।
আরও পড়ুনঃ “রুবি হাসপাতালের বিল আমি মিটিয়েছি, ওই রাতটা এখনও ভুলতে পারিনি”, “অ’ন্তর্বাস পরে ‘আখিয়া তু মিলাও’ গানে নাচ…নার’কীয় অ’ত্যাচার থেকে বন্ধু এসে আমাকে উদ্ধার করে” সুস্মিতাকে ‘দেবী’ বলে সমর্থন করে, সায়ক চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে লাইভে বি’স্ফোরক দাবি স্যান্ডি সাহার! প্রকাশ্যে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য
জোর করে একটা চেকআপ করিয়েছিলাম। ওইদিনই অনেকগুলো পরীক্ষাও করানো হয়েছিল। তারপরে বিয়ের জন্য মালদা চলে যাওয়ায় রিপোর্টগুলো আর পাইনি। তবে ডাক্তার জানিয়েছিল হয়তো স্টোন হতে পারে, কিন্তু মায়ের অনেক বছর আগেই গলব্লাডার বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাই একটু আশ্চর্য লেগেছিল। ভগবানের দয়ায় সেটা তাড়াতাড়ি ধরা পরল আর চিকিৎসা শুরু হল, এটাই অনেক।” তবে, এই দুশ্চিন্তার মধ্যেও কিছুটা স্বস্তির খবরও আসে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই।
প্রসঙ্গত, আরও একটি ভিডিওতে পরে সুকান্ত জানান, অপারেশন সফল হয়েছে এবং শরীর থেকে সব স্টোন বের করে দেওয়া গেছে। চিকিৎসকেরা আশ্বাস দিয়েছেন, খুব শিগগিরই তাঁর মা বাড়ি ফিরতে পারবেন। সেই সঙ্গে ভিডিওতে তার মাকে আগে থেকে কিছুটা হলেও সুস্থ দেখায়। ভিডিওর কমেন্ট বক্সে অনেক অনুরাগীরাই দ্রুত সুস্থতা কামনাও করেছেন তার। তবে, নতুন জীবনের শুরুতেই এমন একটি অভিজ্ঞতা নিঃসন্দেহে কঠিন, কিন্তু এই ঘটনার মধ্যে দিয়ে স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন থাকার যে বার্তা উঠে এসেছে, সেটাই হয়তো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকল।






