“এত বড়লোক হয়েও এত হালকা নেকলেস? কম করে ১২-১৩ গ্রাম দিতে পারতে!” বোন অনন্যার বিয়েতে সোনা উপহার ঘিরে সমাজ মাধ্যমে তীব্র কটাক্ষের মুখে অলোকানন্দা গুহ! ‘ভালোবাসা কি গ্রাম দিয়ে মাপবেন? আগে মেন্টালিটি চেঞ্জ করুন’ পাল্টা জবাবে বি’স্ফোরক অভিনেত্রী!

সোশ্যাল মিডিয়ার দুনিয়ায় এখন প্রায় প্রতিদিনই নতুন কোনও বিতর্ক জন্ম নিচ্ছে। কখনও ব্যক্তিগত মত, কখনও ব্যক্তিগত পছন্দ—সবকিছুই যেন বিচারসভায় তোলা হচ্ছে প্রকাশ্যে। বিশেষ করে তারকাদের জীবন নিয়ে কৌতূহল আর মন্তব্যের ঝড় তো লেগেই থাকে। সম্প্রতি সেই ঝড়েই জড়িয়ে পড়লেন অভিনেত্রী অনন্যা গুহর পরিবার। আর এই ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় উঠে এলেন তাঁর দিদি, অভিনেত্রী অলোকানন্দা গুহ।

অনন্যা গুহর বিয়ে সামনে,বাড়িতে খুশির আবহ, প্রস্তুতির ব্যস্ততা। দিদি হিসেবে স্বাভাবিকভাবেই অনেক দায়িত্ব অলোকানন্দার কাঁধে। সেই দায়িত্বের পাশাপাশি বোনকে একটি সোনার নেকলেস উপহার দেন তিনি। ভালোবাসার মুহূর্তটি ধরে রাখতে সেই ভিডিও পোস্ট করা হয় সমাজমাধ্যমে, এখান থেকেই শুরু হয় বিপত্তি। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়তেই নেটিজেনদের একাংশ উপহারের ওজন নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন। কেউ মন্তব্য করেন, “এত হালকা গয়না কেন?” আবার কারও দাবি, “কম করে ১২–১৩ গ্রামের সোনা দেওয়া উচিত ছিল!”

এই প্রথম নয়, এর আগেও নানা বিতর্কে নাম জড়িয়েছে অনন্যা গুহর—কখনও খাদ্যাভ্যাস নিয়ে, কখনও সহ-অভিনেতা রাহুল ব্যানার্জী–র সঙ্গে মতবিরোধ প্রসঙ্গে। তবে এবার বিষয়টি সম্পূর্ণ পারিবারিক। তবু সেই জায়গাতেও ছাড় মিলল না। মন্তব্যের ঝড়ে কেউ তুললেন ধনী–গরিবের তুলনা, কেউ আবার নিজের অভিজ্ঞতার কথা টেনে বললেন, “আমি আমার বোনকে মোটা নেকলেস দিয়েছিলাম।” এমন তুলনা ও পরামর্শের বন্যায় অস্বস্তি বাড়তে থাকে।

লাগাতার কটাক্ষের পর অবশেষে মুখ খুললেন অলোকানন্দা গুহ। স্পষ্ট ভাষায় জানালেন, একজন দিদি হিসেবে তিনি যা দিয়েছেন, তা সম্পূর্ণ ভালোবাসা দিয়ে। তাঁর কথায়, “আমি আমার বোনকে গয়নাটা দিয়েছি ভালোবেসে। সে-ও ভালোবেসেই গ্রহণ করেছে। সেখানে কত গ্রাম, কত দাম—এসবের কোনও মানে হয় না।” তিনি আরও বলেন, সময় বদলেছে, সোনার দামও বেড়েছে বহুগুণ। তাই অতীতের সঙ্গে বর্তমানের তুলনা টানা অযৌক্তিক। তাঁর মতে, উপহার মানে আশীর্বাদ, সম্পর্কের উষ্ণতা—তা ওজন দিয়ে মাপা যায় না।

আরও পড়ুনঃ “সম্মান নাকি ভোটের আগের বিনিয়োগ?” “এত আবেগ দেখাচ্ছেন, তবে কি অন্য কোনও পরিকল্পনা আছে?” ‘মাতৃসমা’ সম্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে আবেগঘন পোস্ট! বঙ্গবিভূষণ পাওয়ার পর সমাজ মাধ্যমে প্রশ্নবাণে জর্জরিত ইমন চক্রবর্তী!

এই ঘটনাকে ঘিরে এখন বড় প্রশ্ন উঠছে—আমরা কি সত্যিই উপহারের মূল্যকে ভালোবাসার চেয়ে বড় করে দেখছি? অলোকানন্দার বক্তব্য স্পষ্ট, “মেন্টালিটি একটু বদলানো দরকার।” তাঁর মতে, সমাজমাধ্যমে মন্তব্য করার আগে ভাবা উচিত, প্রতিটি পরিবারের আবেগ আলাদা। বোনের বিয়ের আনন্দঘন মুহূর্তে তিনি যে উপহার দিয়েছেন, তা তাঁর সামর্থ্য, পছন্দ ও অনুভূতির প্রকাশ। শেষ পর্যন্ত বিতর্কের কেন্দ্রে রয়ে গেল একটাই কথা—ভালোবাসা কি সত্যিই গ্রাম ও টাকার অঙ্কে বিচার করা যায়?

You cannot copy content of this page