বিনোদন জগতে এমন অনেক তারকা জুটি রয়েছেন, যাঁদের পর্দার রসায়ন দর্শকদের মনে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। তবে পর্দার বাইরেও তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনের নানা ছোট ছোট মুহূর্ত অনুরাগীদের কৌতূহল বাড়ায়। তেমনই এক পরিচিত তারকা জুটি হলেন অভিনেত্রী অনামিকা সাহা (Anamika Saha) এবং অভিনেতা বোধিসত্ত্ব মজুমদার (Bodhisattva Mazumdar)। বাংলা চলচ্চিত্রে দুজনেই দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের অভিনয় দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। বহু বছর পর আবার একসঙ্গে পর্দায় দেখা গিয়েছে তাঁদের। সম্প্রতি ‘বিনি সুতোর টান’ ছবিকে কেন্দ্র করে এক সাক্ষাৎকারে নিজেদের অভিনয়, অপেক্ষার অনুভূতি, মেয়ের কথা এবং বহু বছর আগের এক বিশেষ চিঠির স্মৃতি ভাগ করে নিলেন তাঁরা। তাঁদের কথায় উঠে এল এমন কিছু ব্যক্তিগত মুহূর্ত, যা দর্শকদের কাছে নিঃসন্দেহে বেশ আকর্ষণীয়।
সাক্ষাৎকারে প্রথমেই অনামিকা সাহা জানান, ছবির গল্প শুনেই তাঁর চরিত্রটি ভালো লেগে গিয়েছিল। তাই তাঁকে যখন চরিত্রটি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়, তখনই তিনি রাজি হয়ে যান। তবে ছবির শেষ দৃশ্যের কান্নার মুহূর্ত নিয়ে মজার অভিজ্ঞতার কথাও জানান অভিনেত্রী। তাঁর কথায়, কান্নার সময় যে আবহসঙ্গীত ব্যবহার করা হয়েছিল, তা তাঁর প্রত্যাশার সঙ্গে মেলেনি। তাই ডাবিংয়ের সময় সেটি পরিবর্তনের অনুরোধ করেছিলেন তিনি। অন্যদিকে, বোধিসত্ত্ব মজুমদার জানান, ছবির গল্পের যে বিষয়টি তাঁকে সবচেয়ে বেশি স্পর্শ করেছিল, তা হল একজন পিয়নের চাকরিজীবনের শেষ দিনে নিজের দায়িত্ব পালনের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা। প্রায় ৩০ বছর পরেও একটি চিঠি প্রাপকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য তাঁর প্রাণপণ চেষ্টা গল্পটিকে অন্য মাত্রা দিয়েছে বলে মনে করেন অভিনেতা।
কথা প্রসঙ্গে উঠে আসে অপেক্ষার প্রসঙ্গও। বর্তমানের দ্রুতগতির জীবনে মানুষ যেন অপেক্ষা করার অভ্যাসটাই হারিয়ে ফেলছে। এই প্রসঙ্গে অনামিকা সাহা নিজের সংসার জীবনের একটি সুন্দর অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন। অভিনেত্রী জানান, তাঁদের মেয়ে কাজের সূত্রে অন্য জায়গায় থাকেন। তাই মেয়ে কবে বাড়ি আসবে, কবে দেখা হবে, সেই অপেক্ষা তাঁদের জীবনেরই একটি অংশ। তবে এই অপেক্ষাকে তিনি কষ্টের বদলে উপভোগ করেন। তাঁর কথায়, প্রিয় মানুষের জন্য অপেক্ষা করার মধ্যেও একটা আলাদা আনন্দ এবং মাধুর্য রয়েছে। অন্যদিকে, বোধিসত্ত্বও জানান, তিনি নিজের স্ত্রীর জন্য অপেক্ষা করেন। ভালোবাসার মানুষদের পাশাপাশি ভালো কাজের জন্যও অপেক্ষা করেন তিনি। এই সময়টাকে কাজে লাগিয়ে নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করেন, যাতে ভবিষ্যতে সুযোগ এলে নিজেকে আরও ভালোভাবে তৈরি রাখতে পারেন। নিজেকে ইতিবাচক মানুষ বলেও উল্লেখ করেন অভিনেতা।
তবে সাক্ষাৎকারের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি হয় বহু বছর আগের একটি চিঠির প্রসঙ্গ উঠতেই। অনামিকা সাহা জানান, একসময় তাঁরা ফুলবাগান এলাকায় থাকতেন। কোনও এক কারণে অভিনেত্রী বাড়িতে ছিলেন না। সেই সময় বোধিসত্ত্ব তাঁর বাড়িতে গিয়েছিলেন। কিন্তু দেখা না হওয়ায় বাড়িতে একটি চিঠি রেখে এসেছিলেন। সেই দিনের স্মৃতি মনে করে অনামিকা বলেন, তিনি তখন প্রচুর পারফিউম ব্যবহার করতেন। ফলে বাড়িতে গিয়ে বোধিসত্ত্ব তাঁকে না পেলেও ঘরে ছড়িয়ে থাকা পারফিউমের গন্ধ সঙ্গে করে নিয়ে ফিরে এসেছিলেন। অভিনেতার কথায়, “বাড়িতে এলাম, পেলাম না।” সেই চিঠির কথা আজও তাঁদের মনে রয়েছে। এমনকী বোধিসত্ত্ব জানান, চিঠিটি এখনও অনামিকা সাহার কাছে রয়েছে। কথোপকথনে উঠে আসে, প্রায় ৪৫-৫০ বছর আগের সেই চিঠি আজও তাঁদের স্মৃতির একটি বিশেষ অংশ হয়ে রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ “ধারাবাহিক দিয়েই শুরু, ধারাবাহিক দিয়েই শেষ…অনেক চেষ্টা করেও বড় পর্দায় একটা সুযোগ পেলাম না” ক্রিকেটার হতেই ওড়িশা থেকে এসেছিলেন কলকাতায়! ১৭ বছরের দাম্পত্যে সন্তানহীন সংসার, হারিয়েছেন বাবা-মাকেও! অধরাই রয়ে গিয়েছে অনিন্দ্য চক্রবর্তীর অনেক স্বপ্ন? জীবনের সব ওঠাপড়ায় পাশে থেকেছেন স্ত্রী, তাঁকে নিয়েই এখন কেমন কাটছে অভিনেতার দিন?
এছাড়াও দুজনের একসঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়েও কথা বলেন তাঁরা। অনামিকা জানান, বোধিসত্ত্বের সঙ্গে প্রায় ২০ বছর পর আবার অভিনয় করলেন তিনি। এর আগে ‘ঘাতক’ ছবিতে তাঁদের একসঙ্গে কাজের স্মৃতি রয়েছে। মজার ছলে বোধিসত্ত্ব বলেন, সেই ছবিতে অনামিকার চরিত্রের হাতেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। দুজনের এই খুনসুটি এবং পুরনো স্মৃতিচারণে সাক্ষাৎকারের পরিবেশ হয়ে ওঠে বেশ প্রাণবন্ত। তাঁদের অভিনয়ের পাশাপাশি বাস্তব জীবনের এই আন্তরিক সম্পর্ক, পুরনো চিঠির স্মৃতি এবং প্রিয়জনের জন্য অপেক্ষার অনুভূতিই যেন নতুন করে মন জয় করল দর্শকদের। পর্দায় এই জুটিকে আরও একবার একসঙ্গে দেখার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন অনুরাগীরা।






