“নন্দিনী যেভাবে রাজবীরের সঙ্গে কথা বলে, সেটা খুবই ডিমিনিং…ওদের সম্পর্কটা পুশ রিলেশন, ত্যাগ ছাড়া প্রেম হয় না!” “ভাই বলে রাজকে দিয়ে কাজগুলো করে নিচ্ছে জিতুও” সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে বি*স্ফোরক অনীক ধর! বিগ বস বাংলার ঘরে কি তবে চলছে রাজবীরের সরলতা নিয়ে নোংরা খেলা? সৃজলার দুর্ঘ’টনা থেকে জিতুর কৌশল, কী মতামত দিলেন প্রথম সিজনের চ্যাম্পিয়ন?

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে পর্দায় ফিরেছে বিগ বস বাংলা। আর নতুনসিজন শুরু হতেই প্রতিযোগীদের সম্পর্ক, ঝগড়া, বন্ধুত্ব এবং একে অপরের প্রতি আচরণ নিয়ে দর্শকদের মধ্যে শুরু হয়েছে চর্চা। বিশেষ করে নন্দিনী ও রাজবীরের সম্পর্ক, জিতুর সঙ্গে রাজবীরের বন্ধুত্ব এবং প্রতিযোগীদের মধ্যে চলতে থাকা বিবাদ নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। এবার বিগ বস বাংলার প্রথম সিজনের বিজয়ী অনীক ধর মুখ খুললেন বাড়ির ভিতরের সমীকরণ নিয়ে। এক সাক্ষাৎকারে নিজের অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে প্রতিযোগীদের আচরণ নিয়ে একাধিক মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর কথায়, বিগ বসের বাড়িতে খেলাটা শুধু জেতার নয়, মানুষের মন বোঝারও। তবে সেই খেলায় সম্পর্কের নামে অসম্মানজনক আচরণ কতটা গ্রহণযোগ্য, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

নন্দিনী ও রাজবীরের সম্পর্ক নিয়ে অনিকের বক্তব্য বেশ স্পষ্ট। তাঁর দাবি, রাজবীরের মধ্যে আন্তরিকতার কিছু লক্ষণ তিনি দেখতে পেলেও নন্দিনীর আচরণে সেই স্বচ্ছতা সব সময় খুঁজে পান না। অনীকের কথায়, “আমার মনে হচ্ছে কোথাও এই রিলেশনটা পুশ রিলেশন।” তাঁর মতে, ভালোবাসা থাকলে প্রিয় মানুষের উন্নতিতে খুশি হওয়া উচিত। অথচ নন্দিনীর আচরণে মাঝেমধ্যে তার উল্টো ইঙ্গিত দেখতে পেয়েছেন তিনি। রাজবীরের প্রতি নন্দিনীর কথাবার্তা নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন অনিক। তাঁর বক্তব্য, “যেভাবে নন্দিনী মাঝে মাঝে রাজের সঙ্গে কথা বলে, সেটা খুবই ডিমিনিং।” ভালোবাসার সম্পর্কে অধিকার ও অভিমান থাকতেই পারে, কিন্তু সেই অজুহাতে কাউকে বারবার অপমান করা উচিত নয় বলেই মনে করেন তিনি। অনীকের মতে, সম্পর্ক সত্যি হলে একে অপরের সম্মান রক্ষা করাও জরুরি।

অন্যদিকে, রাজবীরের সঙ্গে জিতুর বন্ধুত্ব নিয়েও নিজের পর্যবেক্ষণ জানিয়েছেন অনীক। তাঁর মনে হয়েছে, রাজবীর জিতুর প্রতি যথেষ্ট অনুগত এবং বিভিন্ন সময়ে নন্দিনীর কাছে জিতুর সমর্থনের কথা তুলে ধরেছে। তবে জিতুর আচরণের পিছনে নিছক বন্ধুত্ব রয়েছে, নাকি কোনও কৌশল কাজ করছে, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। অনীকের কথায়, “আমি চাই যেন জিতু সত্যিই ওকে ওইভাবেই দেখে। ভাই বা বন্ধু বলে ওকে দিয়ে কাজগুলো করে নিচ্ছে, সেটা হলে ব্যাপারটা আনফেয়ার হবে।” অর্থাৎ, বন্ধুত্বের আড়ালে যদি কেউ নিজের খেলার সুবিধা আদায় করে, তা হলে সেটা অন্যায় বলেই মনে করেন তিনি। পাশাপাশি, ভালোবাসার প্রকৃত পরীক্ষা ত্যাগের মধ্যেই রয়েছে বলে মন্তব্য করে অনীক বলেন, “ত্যাগ ছাড়া প্রেম হবে না।” তাঁর মতে, সম্পর্ককে সত্যি প্রমাণ করতে হলে প্রয়োজনে নিজের সুবিধা ছেড়ে প্রিয় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতাও থাকতে হবে।

আরও পড়ুন: ভাইরাস জ্বর থেকে একাধিক শারীরিক জটিলতা, এক মাসেরও বেশি সময় ধরে হাসপাতালে ভর্তি চান্দ্রেই ঘোষ! অসুস্থতার কারণে ছাড়লেন ধারাবাহিক, কী এমন হল অভিনেত্রীর যে অভিনয় থেকেই সরে দাঁড়াতে হল তাঁকে?

সৃজলার দুর্ঘটনা এবং তার পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়েও মুখ খুলেছেন অনীক। তাঁর বক্তব্য, ঘোড়া থেকে পড়ে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনা সৃজলার খেলার সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে। অনীকের মতে, “সৃজলা একটা বড় পয়েন্ট পেয়েছে। ঘোড়া থেকে পড়ে গিয়ে তো অ্যাডভান্টেজ পাবেই।” তাঁর ব্যাখ্যা, এই ঘটনার পর দর্শকদের সহানুভূতি সৃজলার দিকে যেতে পারে, যা প্রতিযোগিতায় তাঁর অবস্থানকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে একই সঙ্গে নন্দিনীর একটি ইতিবাচক দিকও তুলে ধরেছেন তিনি। দুর্ঘটনার পর ক্ষমা চাওয়া এবং নিজের ভুলের কথা স্বীকার করার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছেন অনীক। তাঁর মতে, একজন মানুষের সব দিক খারাপ হতে পারে না, তাই ভুলের পাশাপাশি ভালো দিকগুলিও বিচার করা প্রয়োজন।

বিগ বসের বাড়িতে প্রতিযোগীদের আচরণ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন অনীক। তাঁর মতে, কৌশল, রাজনীতি ও প্রতিযোগিতা খেলার অংশ হলেও ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং অশালীন ভাষা ব্যবহার করে কাউকে ছোট করা উচিত নয়। তিনি মনে করেন, “ভালো দিয়েও তো জেতা যায়।” তাঁর কথায়, বাড়ির ভিতরে যে আচরণ ক্যামেরাবন্দি হচ্ছে, সেটাই বাইরে দর্শকদের কাছে প্রতিযোগীদের ব্যক্তিত্বের পরিচয় হয়ে উঠছে। সবশেষে সম্ভাব্য বিজয়ী প্রসঙ্গে রাজবীরের নাম উল্লেখ করে অনিক জানান, তাঁর অনুমান অনুযায়ী রাজবীরের সেরা দুই বা তিনে পৌঁছনোর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত কে জিতবেন, তা নির্ভর করবে দর্শকদের ভোটের উপরেই। ফলে বিগ বস বাংলার ঘরের ভিতরের সম্পর্ক ও কৌশল নিয়ে অনিকের এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিল।

You cannot copy content of this page