চলতি বছরের জানুয়ারিতে স্ক্রিনিং কমিটির বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের সামনে দাঁড়িয়ে অনির্বাণ ভট্টাচার্যের হয়ে হাতজোড় করে ক্ষমা চেয়েছিলেন দেব। সেই মুহূর্ত ঘিরেই নতুন করে আলোচনার ঝড় ওঠে টলিপাড়ায়। গত বছর টেকনিশিয়ান ফেডারেশনের সঙ্গে অনির্বাণের সংঘাত চরমে পৌঁছনোর পর থেকেই কার্যত কাজের উপর অলিখিত নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েন তিনি। সেই জট খুলতেই দেব প্রকাশ্যে অনুরোধ জানান সমস্যা মিটিয়ে নেওয়ার। এবার সেই প্রসঙ্গে মুখ খুললেন অনির্বাণ নিজেই।
এক সাক্ষাৎকারে অনির্বাণ স্পষ্ট ভাষায় জানান, দেবের এই উদ্যোগের জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। শুধু দেব নন, বুম্বা দা এবং রাজ দাও তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন বলে উল্লেখ করেন অভিনেতা। অনির্বাণ বলেন, তাঁদের বক্তব্য তিনি দেখছেন স্নেহ এবং ভালোবাসার প্রকাশ হিসেবে। তবে এখানেই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন তিনি। তাঁর মতে, ক্ষমা চাওয়া এমন একটি বিষয় যা মানুষ তখনই করে, যখন সে বুঝতে পারে তার কোনও অন্যায় হয়েছে।
অনির্বাণের কথায়, তিনি আলোচনার বিরুদ্ধে নন। সমস্যা নিয়ে টেবিলে বসে কথা বলতে তিনি বরাবরই প্রস্তুত। কিন্তু তাঁর হয়ে কেউ যেন ক্ষমা না চান, সেটাই তাঁর অনুরোধ। তিনি বলেন, জীবনে বহুবার ক্ষমা চেয়েছেন, কিন্তু প্রতিবারই তখনই চেয়েছেন যখন নিজের ভুল বুঝেছেন। যদি কেউ তাঁকে বোঝাতে পারেন কোথায় তাঁর অন্যায়, তাহলে এক সেকেন্ডও সময় নেবেন না ক্ষমা চাইতে। তবে অযথা ক্ষমা চাওয়ার সংস্কৃতিতে তিনি বিশ্বাসী নন।
সেদিন বৈঠক শেষে দেব যা বলেছিলেন, তা এখনও টলিপাড়ায় আলোচিত। দেব বলেছিলেন, অনির্বাণ একজন অত্যন্ত ভালো অভিনেতা এবং তিনি চান অনির্বাণ যেন নিয়মিত কাজ করতে পারেন। নিজের ছবিতে থাকুক বা না থাকুক, অনির্বাণের অভিনয় চালু থাকুক সেটাই তাঁর কামনা। দেব আরও অনুরোধ জানান ফেডারেশন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে, যাতে এই সমস্যার সমাধান হয়। এমনকি প্রয়োজনে তিনি অনির্বাণের হয়ে ক্ষমা চাইতেও প্রস্তুত বলেই জানান।
আরও পড়ুনঃ “ঈশান আমার কাছের বন্ধু…ভবিষ্যতে যদি কিছু বদলায়, লুকাবো না!” ২০ বছরের দাম্পত্যের পর, জয়জিতের সঙ্গে বিচ্ছেদ সেরে উঠতেই ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে নিয়ে সমাজ মাধমে জল্পনা! তৃতীয় ব্যক্তির হস্তক্ষেপই কি ভেঙেছে বিয়ে? প্রশ্ন উঠতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া শ্রেয়ার!
এই বিতর্কের মাঝেই পুজোর ছবিতে অনির্বাণকে দেখা যাবে কিনা তা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়। বিশেষ করে দেশু জুটির আসন্ন ছবিতে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এই প্রসঙ্গে দেব স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই খবর সম্পূর্ণ ভুয়ো। সব মিলিয়ে দেবের সহানুভূতি এবং অনির্বাণের স্পষ্ট বক্তব্যে এখন প্রশ্ন একটাই, আলোচনার টেবিলে বসে কি আদৌ কাটবে এই দীর্ঘদিনের জট।






