বাংলা সিনেমার বর্তমান প্রজন্মের অন্যতম জনপ্রিয় এবং সফল অভিনেতাদের মধ্যে প্রথম সারিতেই নাম আসে আবীর চট্টোপাধ্যায়ের। নিজের সাবলীল অভিনয়, পরিমিত ব্যক্তিত্ব এবং সুদর্শন চেহারার জন্য তিনি দীর্ঘদিন ধরেই দর্শকদের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছেন। অনেকের কাছেই তিনি বাংলার অন্যতম ‘হার্টথ্রব’ অভিনেতা। বিশেষ করে মহিলা অনুরাগীদের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া। বড়পর্দায় আবীরের উপস্থিতি মানেই দর্শকদের বাড়তি আগ্রহ। তবে তাঁর অভিনয় কিংবা ব্যক্তিত্বের পাশাপাশি আরেকটি বিষয় বহুদিন ধরেই কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তাঁর ডান গালের সেই পরিচিত কাটা দাগ।
‘ব্যোমকেশ বক্সী’ থেকে ‘সোনাদা’, আবার কখনও রোম্যান্টিক নায়ক, কখনও রহস্যের কেন্দ্রীয় চরিত্র বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে নিজের বহুমুখী প্রতিভার প্রমাণ দিয়েছেন আবীর। বাংলা চলচ্চিত্র জগতে খুব কম অভিনেতাই এত বৈচিত্র্যময় চরিত্রে সমান দক্ষতার সঙ্গে অভিনয় করতে পেরেছেন। বিশেষ করে ব্যোমকেশ চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকদের এতটাই মুগ্ধ করেছে যে অনেকেই তাঁকে বাস্তবেও ‘ব্যোমকেশ’ হিসেবেই কল্পনা করেন। কিন্তু তাঁর অভিনয়ের মতোই দর্শকদের মনে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খেয়েছে আবীরের ডান গালের দাগটি কীভাবে এল? এটি কি কোনও শুটিংয়ের স্মৃতি, নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও গল্প?
সম্প্রতি সেই রহস্যের উত্তর সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে, ছোটবেলায় এক দুর্ঘটনার কারণেই আবীরের গালে এই স্থায়ী দাগ তৈরি হয়। যখন তিনি সপ্তম শ্রেণিতে পড়তেন, একদিন বৃষ্টিভেজা বিকেলে স্কুল থেকে সাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। হঠাৎ রাস্তার সামনে একটি বেড়াল চলে আসায় তিনি তড়িঘড়ি ব্রেক দিয়েছিলেন কিন্তু ভেজা রাস্তায় সাইকেল পিছলে যায় এবং তিনি পড়ে যান। সেই সময় সাইকেলের হাতল তাঁর গালে আঘাত করে। আঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে গালের এক পাশে অস্ত্রোপচার পর্যন্ত করতে হয়। সেই ক্ষতের স্মৃতিই আজও রয়ে গিয়েছে তাঁর মুখে একটি দাগ হয়ে।
তবে আশ্চর্যের বিষয়, এই দাগ নিয়ে কোনওদিনই অস্বস্তিতে ভোগেননি আবীর। এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা জানান, দুর্ঘটনার সময় তাঁর একটি দাঁতও পড়ে গিয়েছিল এবং চিকিৎসার জন্য অস্ত্রোপচার করতে হয়েছিল। ছোটবেলায় তাঁর দিদা এই দাগ নিয়ে খুব চিন্তিত ছিলেন। বারবার বলতেন, মুখে দাগ থেকে গেল। বড় হওয়ার পরও অনেকেই তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছেন দাগটির কারণ কী। এমনকি কেউ কেউ মজা করে জানতে চেয়েছেন, তিনি ইচ্ছা করে এমন কিছু করেছিলেন কি না। কিন্তু এসব মন্তব্য কখনওই তাঁর আত্মবিশ্বাসে প্রভাব ফেলতে পারেনি।
আরও পড়ুনঃ “পাপিয়া খুব বুদ্ধিমতি মেয়ে, ও আছে মানেই সব ভালো হবে” আশাবাদী অনামিকা সাহা! টলিউডের অ’শান্তিকে কেন পরিবর্তনের অংশ বলেই দেখছেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী?
আবীর আরও জানান, জীবনের কোনও পর্যায়েই তিনি এই দাগ নিয়ে ইনসিকিউরিটি অনুভব করেননি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দাগটি তাঁর ব্যক্তিত্বেরই একটি অংশ হয়ে উঠেছে। মজার বিষয়, কলেজ জীবনে একমাত্র একজন মেয়েই তাঁকে বলেছিলেন যে তাঁর গালের এই দাগটি দেখতে ভালো লাগে। পরে সেই মেয়েই তাঁর জীবনসঙ্গী হন। আজও সেই স্মৃতি অভিনেতার কাছে বিশেষ। দর্শকদের কাছে যেমন তাঁর অভিনয় প্রশংসিত, তেমনই তাঁর এই আত্মবিশ্বাসী মনোভাবও অনেকের কাছে অনুপ্রেরণা। আর সেই কারণেই হয়তো গালের ছোট্ট একটি দাগ আজ আবীর চট্টোপাধ্যায়ের পরিচয়ের অন্যতম স্বাক্ষর হয়ে উঠেছে।






