বামপন্থীরা মাঠে নামলেও, টিকি খুঁজে পাওয়া গেল না সায়নী ঘোষের! মধ্যরাতের উচ্ছেদে তছনছ রুটিরুজি, উ’ত্তপ্ত যাদবপুরে কোথায় ছিলেন ঘরের সাংসদ? প্রশ্নের মুখে দায় সারলেন কীভাবে?

যাদবপুর স্টেশন রোডে মধ্যরাতের উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রবিবার গভীর রাতে প্রশাসনের তরফে বুলডোজার চালিয়ে একের পর এক দোকান ভেঙে ফেলা হয়। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসা বহু হকার মুহূর্তের মধ্যে জীবিকার উৎস হারান। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। উচ্ছেদের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামে বাম ও কংগ্রেস সমর্থকরা। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধ্বস্তির ঘটনাও ঘটে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন এলাকার একাংশের মানুষ।

উচ্ছেদ অভিযানের সময় বামপন্থী কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে একাধিক ব্যক্তি আহত হন। লাঠির আঘাতে মাথায় চোট পান প্রবীণ বাম নেতা সুজন চক্রবর্তী। পাশাপাশি আটক করা হয় সৃজন ভট্টাচার্যকে। রাতভর চলা এই অভিযানের সময় তৃণমূলের কোনও দৃশ্যমান উপস্থিতি ছিল না বলেই অভিযোগ উঠেছে। যদিও ঘটনার পর প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন সাংসদ সায়নী ঘোষ। তিনি প্রশাসনের এই পদক্ষেপ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “যাদবপুর স্টেশন রোডে যেভাবে বুলডোজার চালানো হয়েছে, তা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। এই উচ্ছেদ অভিযান হাজার হাজার সাধারণ মানুষকে তাঁদের আয়ের উৎস থেকে বঞ্চিত করছে।”

সায়নী ঘোষ আরও বলেন, “কোনও আগাম নোটিশ বা ইতিবাচক আলোচনা ছাড়া এভাবে বলপূর্বক উচ্ছেদ করা একেবারেই অন্যায্য।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে আসে উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ। একইসঙ্গে তিনি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। সাংসদের মতে, পুনর্বাসনের কোনও স্পষ্ট পরিকল্পনা সামনে না এনে এভাবে উচ্ছেদ চালানো উচিত হয়নি। তিনি আরও মন্তব্য করেন, “পুনর্বাসন পরিকল্পনা নিয়ে প্রশাসনের এই সম্পূর্ণ নীরবতা দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতি সরকারের অসহনশীলতার পরিচয় দেয় এবং তাদের আসল উদ্দেশ্য সম্পর্কে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।”

তবে সাংসদের এই মন্তব্যের পরও ক্ষোভ কমেনি স্থানীয়দের একাংশের। হকারদের অভিযোগ, যখন তাঁদের দোকান ভাঙা হচ্ছিল এবং জীবিকার পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল, তখন এলাকায় দেখা যায়নি জনপ্রতিনিধিদের। তাঁদের বক্তব্য, ভোটের সময় নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সংকটের সময়ে সেই প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন চোখে পড়েনি। অনেকের প্রশ্ন, যদি উচ্ছেদ অভিযানকে অন্যায্য বলেই মনে করা হয়, তাহলে সেই সময়ে সরাসরি ঘটনাস্থলে গিয়ে পাশে দাঁড়ানো হলো না কেন? এই প্রশ্নই এখন যাদবপুরের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

আরও পড়ুনঃ ‘বাংলার হার্টথ্রব’ আবীর চট্টোপাধ্যায়, গালের দাগের নেপথ্যে কোন ঘটনা? এই দাগের কারণেই কি বারবার অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে অভিনেতাকে? সামনে এল অজানা সত্য!

অন্যদিকে হকার সংগঠনগুলোর দাবি, তাঁরা অবৈধ দখলের পক্ষে নন, কিন্তু বছরের পর বছর ধরে ব্যবসা করা মানুষদের বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া উচ্ছেদ করে দিলে তাঁদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। বহু পরিবারের রোজগারের একমাত্র পথ ছিল এই ছোট ব্যবসা। তাই পুনর্বাসনের স্পষ্ট রূপরেখা না থাকায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদেরও এই বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন। এখন নজর রয়েছে প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। উচ্ছেদ হওয়া হকারদের জন্য কোনও ইতিবাচক সমাধান বা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয় কি না, সেটাই দেখার।

You cannot copy content of this page