২০২২ সালে ছোটপর্দায় পথচলা শুরু করেছিল ‘অনুরাগের ছোঁয়া’। প্রথম থেকেই আলাদা এক আবেগ তৈরি করেছিল এই ধারাবাহিক। একের পর এক টানটান মোড়, বাস্তবধর্মী গল্প বলার ধরণ আর চরিত্রগুলোর আন্তরিক অভিনয়—সব মিলিয়ে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দর্শকের ঘরের আপন হয়ে উঠেছিল এই সিরিয়াল। টিআরপি তালিকায় একনাগারে প্রথম স্থানে থাকা ছিল একসময় প্রায় নিয়মিত ঘটনা। স্বস্তিকা ঘোষ ও দিব্যজ্যোতি দত্ত অভিনীত এই ধারাবাহিক অবশেষে তিন বছর পর শেষ হলেও, তার প্রভাব এখনও দর্শকের মনে রয়ে গিয়েছে।
দর্শকদের ভালোবাসাই ছিল ‘অনুরাগের ছোঁয়া’-র সবচেয়ে বড় শক্তি। শুধু বাংলাতেই নয়, রাজ্যের বাইরে এবং দেশের নানা প্রান্তে এই ধারাবাহিকের জনপ্রিয়তা ছিল চোখে পড়ার মতো। চরিত্রগুলোকে দর্শক শুরু থেকেই আপন করে নিয়েছিলেন। গল্পের ওঠানামা, সম্পর্কের টানাপোড়েন—সবকিছুতেই নিজেদের খুঁজে পেয়েছেন বহু মানুষ। তাই সিরিয়াল শেষ হওয়ার খবরে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন দর্শকের বড় অংশ।
এই প্রসঙ্গেই সম্প্রতি মুখ খুলেছেন ধারাবাহিকের অভিনেতা দিব্যজ্যোতি। তাঁর কথায়, যেখানে এখন টেলিভিশনের বেশিরভাগ প্রজেক্ট ছ’মাস বা সাত মাসেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, সেখানে ‘অনুরাগের ছোঁয়া’ চার বছরের কাছাকাছি সময় ধরে চলা একেবারেই ব্যতিক্রমী ঘটনা। তাঁর মতে, এটা একরকম ইতিহাসই বলা যায়। এই দীর্ঘ যাত্রার পিছনে শুধুই গল্প নয়, আরও অনেক কারণ কাজ করেছে।
অভিনেতার বক্তব্য অনুযায়ী, সেটের ভেতরের সুন্দর বন্ডিংটাই ধীরে ধীরে পর্দায় ফুটে উঠেছিল। মেকআপ রুম থেকে শুরু করে শুটিং ফ্লোর—সব জায়গায় একটা সমন্বয় ছিল। প্রত্যেকটা চরিত্রকে শুরু থেকে দর্শক যেভাবে ভালোবেসেছেন, সেটাই ধারাবাহিকের দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার অন্যতম কারণ।
আরও পড়ুনঃ সাহেব ভট্টাচার্যের সঙ্গে ‘কথা’র পর, এবার সুস্মিতা দে ফিরছেন পর্দায়! নতুন বছরের শুরুতেই, পাহাড়ে শুরু শুটিং! অভিনেত্রীর বিপরীতে কি এবারও নায়ক সাহেব?
এই ধারাবাহিকের জনপ্রিয়তা বাংলা ছাড়িয়ে পৌঁছে গিয়েছিল দেশের বাইরে। দক্ষিণ আফ্রিকায় ইংরেজি ডাবিং হয়ে সম্প্রচার, আবার বিহার বা ঝাড়খণ্ডের মন্দিরে বসেও মানুষ চিনে ফেলেছেন অভিনেতাকে—সব মিলিয়ে ‘অনুরাগের ছোঁয়া’ শুধু একটি সিরিয়াল নয়, হয়ে উঠেছিল এক আন্তর্জাতিক পরিচিত নাম। এই কারণেই হয়তো শেষ হয়ে গিয়েও এই ধারাবাহিক নিয়ে আলোচনা থামছে না।






