সমাজে একজন নারীর পরিচয় নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। জন্মের পর তিনি কারও মেয়ে, বিয়ের পর কারও স্ত্রী, পরে কারও মা এই পরিচয়গুলিই অনেক সময় তাঁর ব্যক্তিগত পরিচয়কে আড়াল করে দেয়। এখনও বহু ক্ষেত্রে দেখা যায়, বিয়ের পর নারীদের নিজের পদবি বদলে স্বামীর পদবি গ্রহণ করতে হয়। যদিও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ধারণায় পরিবর্তন এসেছে, তবুও নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় ধরে রাখার লড়াই অনেক নারীকেই করতে হয়। আর সেই প্রসঙ্গেই নিজের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য।
বাংলা টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র জগতের অত্যন্ত পরিচিত মুখ অপরাজিতা আঢ্য। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি দর্শকদের মন জয় করেছেন। পর্দায় কখনও তিনি মায়ের চরিত্রে, কখনও গৃহবধূ, কখনও আবার একেবারে অন্যরকম চরিত্রে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তবে অভিনয়জগতের সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি বরাবর নিজের মতামত এবং অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে ভালোবাসেন। সম্প্রতি এক আড্ডায় তিনি নিজের পরিচয় এবং পদবি নিয়ে এমন কিছু কথা বলেছেন, যা বহু নারীর অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলে যেতে পারে।
অপরাজিতা জানান, তাঁর বিয়ের ২৮ বছর পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এত দীর্ঘ দাম্পত্য জীবন কাটিয়েও তিনি নিজের পরিচয়কে কখনও অন্য কারও পরিচয়ের আড়ালে হারিয়ে যেতে দেননি। তিনি বলেন, “আমি অপরাজিতা আঢ্য হয়েই বাঁচব।” নিজের এই অবস্থানের পিছনে থাকা একটি পুরনো ঘটনার কথাও তিনি স্মরণ করেন। বিয়ের সময় যখন রেজিস্ট্রি করতে গিয়েছিলেন, তখন তিনি নিজের নাম লিখেছিলেন ‘অপরাজিতা আঢ্য’। কিন্তু রেজিস্ট্রার তাঁকে জানিয়েছিলেন, বিয়ের পর তাঁর পদবি স্বামীর পদবি অনুযায়ী ‘হাজরা’ হওয়া উচিত। অর্থাৎ তাঁর নাম হওয়া উচিত ‘অপরাজিতা হাজরা’।
কিন্তু সেই সময়ও তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। অপরাজিতা স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে তিনি নিজের নাম এবং পরিচয় পরিবর্তন করতে চান না। তাঁর কথায়, তিনি সবসময় চেয়েছেন নিজের ব্যক্তিগত পরিচয়টাকেই গুরুত্ব দিতে। তিনি মনে করেন, একজন নারীর পরিচয় শুধুমাত্র কারও স্ত্রী, কারও মেয়ে বা কারও মা হওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। একজন মানুষ হিসেবে তাঁর নিজস্ব পরিচয়, নিজস্ব সত্তা এবং নিজস্ব অর্জনও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই বিয়ের পরও নিজের পদবি বদলানোর প্রয়োজন তিনি অনুভব করেননি।

আরও পড়ুনঃ “ঠিক মায়ের মতো ২৪ ঘণ্টা আগলে রেখেছে, আমার জন্য নিজের সবটুকু দিয়েছে…ও না থাকলে লড়াইটা হেরে যেতাম” হিপ জয়েন্টে মা’রাত্মক চোট, ওষুধ ও ইনজেকশনেও হচ্ছিল না কাজ! অ’স্ত্রোপচারের একমাস কাটতেই কাকে নিয়ে আবেগে ভাসলেন জোজো? এখন কেমন আছেন গায়িকা?
অভিনেত্রীর এই বক্তব্য শুধুমাত্র একটি পদবি ধরে রাখার বিষয় নয়, বরং নিজের অস্তিত্ব ও আত্মপরিচয়কে সম্মান করার একটি বার্তা। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে একজন নারীর জীবনে সম্পর্কের গুরুত্ব অবশ্যই রয়েছে, কিন্তু সেই সম্পর্কের বাইরে তাঁর নিজস্ব পরিচয়ও সমান মূল্যবান। সমাজের প্রচলিত নিয়মের বাইরে গিয়ে নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকার এই মানসিকতাই তাঁকে আলাদা করে তুলে ধরে। অপরাজিতা আঢ্যের এই বক্তব্য অনেক নারীকেই নিজের পরিচয় ও আত্মমর্যাদা নিয়ে নতুন করে ভাবতে উৎসাহিত করতে পারে। তাঁর কথায় স্পষ্ট, তিনি সারাজীবন নিজের পরিচয়ে পরিচিত হতে চেয়েছেন এবং সেই পরিচয় নিয়েই বেঁচে থাকতে চান।






