প্রায় এক মাস আগে বড় অস্ত্রোপচারের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী ‘জোজো মুখোপাধ্যায়’কে (Jojo Mukherjee)। দীর্ঘদিন ধরেই পায়ের গুরুতর সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। ব্যথা নিয়েই নিয়মিত কাজ করে গিয়েছেন, এমনকি একাধিক অনুষ্ঠান ও শুটিংয়েও অংশ নিয়েছেন। কিন্তু পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে শেষ পর্যন্ত অস্ত্রোপচার করানো ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না। বর্তমানে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন শিল্পী। অস্ত্রোপচারের এক মাস পূর্ণ হওয়ার পর সেই সময়ের নানা মুহূর্তের ছবি সমাজ মাধ্যমে ভাগ করে নিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সেই সব মানুষদের, যারা কঠিন সময়ে তাঁর পাশে ছিলেন। সেই পোস্ট ঘিরেই অনুরাগীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
জোজো জানিয়েছেন, হিপ জয়েন্টে চোট পাওয়ার পরও দীর্ঘদিন ওষুধ ও ইনজেকশনের সাহায্যে কাজ চালিয়ে গিয়েছিলেন। এমনও সময় এসেছে যখন তাঁকে লাঠি নিয়ে শুটিং করতে হয়েছে। আবার একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়ে আগের চোট আরও বেড়ে যায়। এরপর চিকিৎসকদের পরামর্শে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। বর্তমানে বিশ্রামে থাকলেও আগের তুলনায় অনেকটাই ভালো আছেন বলে জানিয়েছেন শিল্পী। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে নিয়মিত ফিজিওথেরাপিও চলছে। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। সেই কঠিন সময়ের স্মৃতি তুলে ধরতেই সমাজমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নিয়েছেন জোজো।
হাসপাতালে কাটানো দিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে শিল্পী লেখেন, “শুধুমাত্র পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য আমায় ব্যথা কমার ওষুধের উপর নির্ভর করে বেঁচে থাকতে হচ্ছিল। আমি এই সুযোগে সেই সমস্ত মানুষদের ধন্যবাদ জানাতে চাই, যারা মানসিক ও শারীরিক ভাবে আমার পাশে থেকেছেন। হাসপাতালের কর্মী, ফিজিওথেরাপিস্ট এবং অবশ্যই হাসপাতালের সেবাকর্মীদের এত যত্ন নেওয়ার জন্য আমি তাঁদের সকলকে আমার আন্তরিক শ্রদ্ধা জানাই।” চিকিৎসক থেকে শুরু করে হাসপাতালের কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি।
তাঁদের সহযোগিতা ছাড়া এই কঠিন সময় পার করা আরও কঠিন হয়ে যেত বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন শিল্পী। তাঁর পোস্টে উঠে এসেছে সুস্থ হয়ে ওঠার লড়াইয়ের নানা অনুভূতি। অস্ত্রোপচারের আগে ও পরে মানসিকভাবে কতটা কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে, সেটাও খোলাখুলি জানিয়েছেন জোজো। তিনি লিখেছেন, “সত্যি বলতে, আমি ভিতরে ভিতরে খুব ভয় পেয়েছিলাম। কিন্তু শক্ত থাকার চেষ্টা করেছি মেয়ে বাজোর জন্য। যাকে ছাড়া এই বড় ব্যাপারটি সম্ভব হতো না। ও আমার সঙ্গে ২৪ ঘণ্টা ছিল এবং আমি জানি তার মাকে এত কষ্টে দেখাটা তার জন্য খুব সহজ ছিল না, তবুও ও স্তম্ভের মতো শক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছিল।”
আরও পড়ুনঃ “এটা আবার কেমন ধরনের শ্বশুর?” “এইসব দেখে রাগ চেপে রাখা কঠিন, এমন শ্বশুরবাড়িতে কেউ কীভাবে বাঁচে?” শুরুতেই বি’তর্কে ‘কুমকুম’! প্রথম পর্বেই এমন মাত্রার মানসিক এবং শারী’রিক নি’র্যাতনের দৃশ্য ঘিরে উত্তাল সামাজিক মাধ্যম, ক্ষু’ব্ধ দর্শকরাও!
শিল্পীর কথায়, এই কঠিন সময়ে মেয়েই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠেছিল। সারাক্ষণ পাশে থেকে সাহস জুগিয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সব কাজে সাহায্য করেছে বাজো। সেই কারণেই মেয়ের প্রতি তাঁর আবেগ ও কৃতজ্ঞতা আরও বেশি। পোস্টের শেষ অংশে মেয়ে ও পরিবারের সহায়তাকারীদের উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন জোজো। তিনি লিখেছেন, “এটা আমার জন্য বেশ আবেগঘন একটি মুহূর্ত ছিল। আমি ওকে এবং আমার বাড়ির সহায়তাকারীদের আমায় ভালো করে তোলার জন্য নিজেদের সাধ্যের বাইরে গিয়ে কাজ করতে দেখেছি। ঈশ্বর ওদের সকলের মঙ্গল করুন।” শিল্পীর মতে, অপারেশনের পর বাজো তাঁকে ঠিক একজন মায়ের মতোই যত্নে রেখেছিল। বর্তমানে তিনি আগের তুলনায় অনেকটাই সুস্থ এবং দ্রুত কাজে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।






