মাধ্যমিক পরীক্ষা (Madhyamik Pariksha) মানেই বহু কিশোর-কিশোরীর জীবনে প্রথম বড় চাপ। বইখাতার বাইরে তখন মনের ভেতর জমে ওঠে অজানা ভয়, অদ্ভুত উত্তেজনা, আবার কোথাও একটা অদৃশ্য আশাও। যতই অভিভাবক বা শিক্ষকরা আশ্বাস দিন, পরীক্ষার নামটা শুনলেই বুকের ভেতর কেমন যেন করে। আজ যারা পরিচিত মুখ, আলোয় ভরা মঞ্চ বা পর্দায় যাঁদের দেখা যায়, তাঁদের জীবনেও কিন্তু এই সময়টা এসেছিল। তখন তাঁরাও সাধারণ পরীক্ষার্থী, একই রকম দ্বিধা আর অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়েই গিয়েছেন।
এই প্রসঙ্গে নিজের মাধ্যমিকের দিনের কথা মনে করে হেসে উঠলেন অভিনেতা ‘অর্পণ ঘোষাল’ (Arpan Ghoshal)। হিন্দু স্কুলের ছাত্র ছিলেন তিনি। আশ্চর্যের বিষয়, মাধ্যমিক নিয়ে তাঁর মনে তেমন কোনও চাপই কাজ করেনি! পড়াশোনা করেছেন ঠিকই, কিন্তু ভয় বা দুশ্চিন্তি নিয়ে নয়। পরিবারের তরফ থেকেও আলাদা করে কোনও মানসিক বোঝা চাপানো হয়নি। পরীক্ষা দিতে যেতেন একাই, বাসে চেপে। তবে সেন্টারে পৌঁছে অন্য অভিভাবকদের উৎকণ্ঠা আর বন্ধুদের গম্ভীর মুখ দেখে বুঝেছিলেন, বিষয়টা নেহাতই হালকা নয়।
তখন তিনিও নিজের মুখে একরকম কৃত্রিম গাম্ভীর্য টেনে আনতেন, যাকে লোক দেখানো বলা যায়। প্রসঙ্গত, অর্পণের জীবনে অভিনয় আর নাটকই ছিল আসল আগ্রহ। পড়াশোনা করেছেন দায়িত্বের জায়গা থেকে, ভালোবাসা থেকে নয়। রাত জেগে পড়ে সবাইকে অবাক করে দেবেন, এমন একটা ইচ্ছে ছিল মাধ্যমিকের আগে। কিন্তু সেই পরিকল্পনা খুব একটা সফল হয়নি। প্রায়ই এমন হতো, পড়তে বসে কখন ঘুমিয়ে পড়েছেন নিজেও টের পেতেন না। মাঝরাতে মা এসে ডেকে তুললে তখন বাস্তবে ফেরা।
এই অভিজ্ঞতাগুলো আজ তাঁর কাছে বিরক্তিকর নয়, বরং মজার স্মৃতি। এছাড়াও তিনি জানান, পরীক্ষার দিনগুলোয় বন্ধুত্বের নানান রকম কান্ড কারখানার কথা। শেষ পরীক্ষার দিনে এমনই এক অদ্ভুত ঘটনার সাক্ষী ছিলেন অর্পণ। পরীক্ষা শেষে বাথরুমে গিয়ে দেখেন, এক সহপাঠী রেগে গিয়ে স্কুলের বাল্ব খুলে নিচ্ছে! কারণ জানতে চাইলে সে সোজাসাপটা জানায়, কঠোর নজরদারির বদলা নিতেই নাকি স্কুলের একটা জিনিস বাড়িতে নিয়ে যাবে! শিশুসুলভ রাগ, অদ্ভুত যুক্তি মিলিয়ে সেই মুহূর্তটা আজও হাসি এনে দেয় তাঁর মুখে।
আরও পড়ুনঃ আজও দর্শকের মনে দাগ কেটে আছে, ২০০৫ সালের সেই ‘নোয়া নোয়া’ গান! মুক্তি পেতেই বিক্রি হয়েছিল ৫০ হাজার কপি! একটা গান কীভাবে রাতারাতি বদলে দিয়েছিল, আজকের অভিনেত্রী ময়না মুখার্জির জীবন?
এই সব স্মৃতি ভাগ করে নিতে নিতে অর্পণের বক্তব্য খুব সোজা। পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ঠিকই, কিন্তু সেটাই জীবনের সব নয়। ভয় পাওয়ার চেয়ে নিজের মতো করে চেষ্টা করাটাই আসল। আজকের পরীক্ষার্থীদের জন্য তাঁর বার্তাও তাই সহজ “মন শান্ত রাখো, নিজের ওপর বিশ্বাস রেখো। সময়টা একদিন পেরিয়ে যাবে, আর তখন এই দিনগুলোকেই মনে পড়বে গল্পের মতো।” গত সোমবার থেকে শুরু হয়েছে এই বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষা, সকল পরীক্ষার্থীদের জন্য আমাদের তরফ থেকেও শুভকামনা।






