আবারও বিতর্কের কেন্দ্রে বাংলাদেশি গায়ক মইনুল আহসান নোবেল। এক বছর আগেই আইনি জটিলতায় গ্রেফতার হয়েছিলেন তিনি, আর এবার ফের পুলিশের হাতে ধরা পড়লেন আলোচিত এই শিল্পী। বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম কালের কণ্ঠের প্রতিবেদন অনুযায়ী সোমবার দুপুর সাড়ে বারোটা নাগাদ সিদ্ধিরগঞ্জ থানার বটতলা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। খবর প্রকাশ্যে আসতেই সংগীত মহলে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। রিয়্যালিটি শোয়ের মাধ্যমে যিনি এক সময় দর্শকদের মন জয় করেছিলেন, তাঁর নাম এখন আবারও শিরোনামে, তবে তা গানের জন্য নয় বরং গুরুতর অভিযোগকে ঘিরে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নোবেলের বিরুদ্ধে এক তরুণীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আটকে রাখা এবং হেনস্থা করার অভিযোগ উঠেছে। কালের কণ্ঠকে ডেমরা থানার তদন্তকারী আধিকারিক মুরাদ হোসেন জানিয়েছেন, ওই অভিযোগের ভিত্তিতেই গায়কের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরেই মামলাটি তদন্তাধীন ছিল বলে জানা যায়। অবশেষে সোমবার তাঁকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাঁকে আদালতে তোলা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার বিস্তারিত জানতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে প্রশাসন।
রিয়্যালিটি শো সা রে গা মা পা তে অংশগ্রহণের পর ভারতেও পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন নোবেল। তাঁর কণ্ঠ ও মঞ্চ উপস্থিতি এক সময় দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল। এমনকি ভারতীয় চলচ্চিত্রেও গান গাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সাফল্যের সেই পথ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ব্যক্তিগত জীবনের নানা বিতর্ক এবং আইনি জটিলতা ধীরে ধীরে তাঁর কেরিয়ারের ওপর প্রভাব ফেলতে শুরু করে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকলেও তা অধিকাংশ সময়ই নেতিবাচক কারণে।
গত কয়েক বছরে নোবেলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। বিবাহ সংক্রান্ত জটিলতা, প্রতারণা এবং গার্হস্থ্য হিংসার মতো অভিযোগে তাঁর নাম জড়িয়েছে বারবার। এক বছর আগে নেশামুক্তি কেন্দ্র থেকে ছাড়া পাওয়ার পর অনেকেই ভেবেছিলেন তিনি নতুনভাবে জীবন শুরু করবেন। কিন্তু সেই আশায় আবারও ভাটা পড়ল সাম্প্রতিক গ্রেফতারের ঘটনায়। এর আগেও অপহরণ এবং যৌন হেনস্থার অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করেছিল ডেমরা থানার পুলিশ, যা নিয়ে তখনও ব্যাপক চর্চা হয়েছিল।
আরও পড়ুনঃ “সমর্থন ব্যক্তিগত, নিজের দক্ষতায়…” জন্মদিনে মুখ্যমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বার্তার পরই জল্পনা! এবার ভোটে প্রার্থী হচ্ছেন অপরাজিতা আঢ্য? বিধানসভা নির্বাচনে শাসকদলের হয়ে লড়াইয়ের প্রশ্নে, কী বললেন অভিনেত্রী?
উল্লেখযোগ্যভাবে, আগের এক মামলায় অভিযোগকারী এক মহিলাকে নিজের স্ত্রী বলে দাবি করেছিলেন নোবেল। তবে আদালতে বিবাহ সংক্রান্ত কাবিলনামা দাখিল করতে না পারায় সেই দাবি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এবার নতুন অভিযোগ কতদূর গড়ায়, তা সময়ই বলবে। সংগীত জগতে এক সময় সম্ভাবনাময় শিল্পী হিসেবে যাঁকে দেখা হয়েছিল, তাঁর জীবনের বিতর্ক যেন থামছেই না। অনুরাগীরা এখন অপেক্ষা করছেন আইনি প্রক্রিয়ার পরবর্তী পদক্ষেপ এবং সত্য সামনে আসার জন্য।






