হাইভোল্টেজ ভোটে ব্যপক পরাজয়, মমতার তোষন করেও হালে পানি পেলেন না রাজ! হারলেও কমেনি আত্মবিশ্বাস, স্বামীকে ‘সুপারহিরো’ তকমা স্ত্রী শুভশ্রীর! পাশে দাঁড়িয়েই আর কী বললেন ‘লেডি সুপারস্টার’?

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আবহে বারাকপুর কেন্দ্রকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা। শেষ দফার গণনায় ফল ঘোষণার পরই বদলে যায় পরিস্থিতির চিত্র। পরাজয়ের খবর সামনে আসতেই রাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ওঠে ‘চোর চোর’ স্লোগান। এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গণনাকেন্দ্রের বাইরে। কাদা ও জুতো ছোড়ার মতো অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটতে দেখা যায়। তবুও সম্পূর্ণ শান্ত থেকে হাসিমুখে এলাকা ছাড়েন রাজ চক্রবর্তী। এই ঘটনার পর প্রথমে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়।

ফলে রাজনৈতিক ও বিনোদন মহলে শুরু হয় নানা আলোচনা ও জল্পনা। প্রসঙ্গত, একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বারাকপুর কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে রাজ চক্রবর্তীর জয় ছিল উল্লেখযোগ্য। সেই সময় থেকেই এলাকায় তাঁর সক্রিয় রাজনৈতিক উপস্থিতি নজর কাড়ে। ছাব্বিশের নির্বাচনেও তাঁকে দ্বিতীয়বারের জন্য প্রার্থী করা হয়। প্রচারের সময় একাধিক রোড শোয়ে তাঁর পাশে ছিলেন শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। দু’জনের উপস্থিতি ভোট প্রচারে বাড়তি উচ্ছ্বাস তৈরি করেছিল। স্থানীয় মানুষের মধ্যে সেই তারকা দম্পতিকে ঘিরে আগ্রহ দেখা যায়।

প্রচারে অংশ নিয়ে শুভশ্রী কার্যত রাজের পাশে শক্ত অবস্থান নেন। ফলে এই কেন্দ্রকে ঘিরে প্রচার আরও বেশি আলোচনায় আসে। গতকাল গণনার শেষে ফল ঘোষণার পর বারাকপুর এলাকায় পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। রাজ চক্রবর্তীর পরাজয়ের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সমর্থকদের একাংশের ক্ষোভ প্রকাশ পায়। গণনাকেন্দ্রের বাইরে শোনা যায় ‘চোর চোর’ স্লোগান। পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কিছু জায়গায় কাদা ও জুতো ছোড়ার ঘটনাও ঘটে বলে জানা যায়। তবে এই সবকিছুর মধ্যেও শান্ত থাকেন রাজ চক্রবর্তী। কোনও পাল্টা প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে তিনি এলাকা ত্যাগ করেন।

এই দৃশ্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় আলোচনা। ঘটনার পর একদিন নীরব ছিলেন শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। চব্বিশ ঘণ্টা কাটতেই সোশাল মিডিয়ায় নিজের প্রতিক্রিয়া জানান তিনি। গলা তোলা প্রতিবাদের বদলে পারিবারিক মুহূর্ত শেয়ার করেন। রাজ, ইউভান ও ইয়ালিনির সঙ্গে কিছু ছবি পোস্ট করেন তিনি। ছবিগুলিতে পারিবারিক বন্ধন ও স্বাভাবিক মুহূর্ত উঠে আসে। ক্যাপশনে শুভশ্রী লেখেন, ‘আমাদের সুপারহিরো, আমাদের গর্ব, আমাদের সুপারস্টার, আমাদের শান্তির জায়গা, আমাদের এক টুকরো পৃথিবী।’ এই বার্তা যে রাজের প্রতি তাঁর সমর্থন, স্পষ্ট হতে সময় লাগেনি।

আরও পড়ুনঃ“ধৈর্য! ধৈর্য বড় জিনিস” বিজেপি জিততেই গো’মাং’স বিতর্ক উস্কিয়ে ফের লাইম লাইটে সায়ক! তবে কি আগে থেকেই ছিল রাজনৈতিক ঝোঁক? ‘গো’মাং’স বিতর্ক কি ইচ্ছাকৃতই তৈরি করেছিলেন গেরুয়া শিবিরকে সমর্থন জানাতে?’ প্রশ্ন সোশ্যাল মিডিয়ায়!

উল্লেখ্য, রাজের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় একুশের নির্বাচনের সময় জয় দিয়ে। সেই সময় তিনি বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান বারাকপুর কেন্দ্র থেকে। তখন তিনি সংবাদ মাধ্যমে বলেছিলেন, “আবার নতুন লড়াই। ৫ বছর নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আশা করি, আমার এলাকার মানুষরা এবারও আমাকে সমর্থন করবেন। পাশে থাকবেন। আমার এক্তিয়ারের মধ্যে এযাবৎকাল বিধায়ক হিসেবে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। দলও খুশি হয়ে আমাকে দ্বিতীয় সুযোগ দিয়েছে। যথাসাধ্য চেষ্টা করব।” পরিচালক থেকে রাজনীতিক, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁর ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছে।

You cannot copy content of this page