“আমার ৩১ বছর ইন্ডাস্ট্রিতে, বাম শাসন দেখেছি, তৃণমূল দেখেছি, এখন বিজেপিও দেখছি…টমেটো নই, আমি আলু, পেঁয়াজ” সরকার বদলের পর রচনা থেকে হিরণ, একাধিক টলিউড বিতর্কে স্পষ্ট বার্তা ভরত কলের!

রাজ্যে সরকার বদলের পর বাংলা চলচ্চিত্র জগতেও নতুন পরিবেশ গড়ে তোলার কথা বারবার উঠে এসেছে। ব্যান সংস্কৃতি ও হুমকির রাজনীতি দূর করে শিল্পীদের জন্য স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ তৈরির দাবি তুলেছেন বিজেপির একাধিক বিধায়ক। এই বিষয়ে পাপিয়া অধিকারী, রূপা গঙ্গোপাধ্যায় ও রুদ্রনীল ঘোষের পাশাপাশি টলিউডের দায়িত্বে থাকা বিজেপি বিধায়ক হিরণ চ্যাটার্জিও একাধিকবার মুখ খুলেছেন। সোমবার নন্দনে একটি জরুরি বৈঠকের পর হিরণ অভিযোগ করেন, আর্টিস্ট ফোরামের কাছ থেকে তিনি কোনও সহযোগিতা বা কাজ পাননি। সেই মন্তব্য ঘিরেই নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা। হিরণের বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর এ বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন আর্টিস্ট ফোরামের সহ সভাপতি ভরত কল (Bharat Kaul)

তিনি বলেন, এই অভিযোগের সঙ্গে বাস্তবের মিল নেই এবং বিষয়টি নিয়ে ভুল ধারণা তৈরি করা উচিত নয় হিরণের মন্তব্যের জবাবে ভরত কল বলেন, “হিরণকে জানতে হবে আর্টিস্ট ফোরাম এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ নয়। একথা ঠিক যে সব কাজে আর্টিস্ট ফোরাম সাহায্য করতে পারেনি। তবে আর্টিস্ট ফোরাম কাউকে কোনও দিন কাজ দেয়নি।” অনির্বাণ ভট্টাচার্যকে নিয়ে ওঠা ব্যানের অভিযোগ প্রসঙ্গেও তিনি মুখ খোলেন। তাঁর বক্তব্য, “অনির্বানের ব্যান নিয়ে এত কথা ওঠে। কিন্তু অনির্বান কি কখনও আর্টিস্ট ফোরামকে কিংবা বুম্বা দা-কে লিখিতভাবে জানিয়েছে?” একই সঙ্গে তিনি জানান, “যদিও স্বস্তিকা মুখার্জির একটা অভিযোগ ছিল।

সেটা কোনওভাবে নজর এড়িয়ে গিয়েছে। এব্যাপারে আমি হাত জোড় করে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার না করে ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেন। আর্টিস্ট ফোরামের কাজের ধরন নিয়ে ভরত কল বলেন, সংগঠনটি সব সময় নিরপেক্ষভাবে কাজ করার চেষ্টা করেছে। তাঁর কথায়, “বেশিরভাগ সময় আর্টিস্ট ফোরামের মাথায় থেকেছে বুম্বা দা, রূপা দি, সব্যসাচী চক্রবর্তী আমাদের সেক্রেটারি থেকেছেন। আমরা কোনওদিনই রং লাগতে দিইনি। যতদিন মাথার ওপর বুম্বা দা আছে, রং লাগতে দেব না।” তিনি আরও বলেন, “সবকিছুর জন্য আর্টিস্ট ফোরাম দায়ী হতে পারে না। এটা একটা পরিবার।

পরিবারে কি ঝামেলা হয় না! একটা আঙুল আমার দিকে তুললে অনেকগুলো নিজের দিকে যাবে।” একইসঙ্গে সম্প্রতি রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে হওয়া বিতর্ক নিয়েও মত প্রকাশ করেন তিনি। ভরত কলের মতে, “রচনা যা বলতে চেয়েছেন তা হয়তো বোঝাতে পারেননি। ও বলতে চেয়েছেন আমি কোনও রাজনীতি করে টাকা রোজগার করিনি। রাজনীতির আগেই অনেক কাজ করেছি। মি. বচ্চনের সঙ্গে কাজ করেছি। উনি যদি এই প্রজন্ম বলতেন তাহলে সব ঠিক হয়ে যেত। আসলে মানুষ যখন রেগে গিয়ে কথা বলেন, তখন দু একটা লাইন এদিক ওদিক হয়ে যায়। রচনা খুবই যোগ্য একজন মানুষ, নিজের যোগ্যতায় নিজের জায়গায় পৌঁছেছেন।”

সরকার পরিবর্তনের পর টলিউডের অনেক শিল্পীকে ‘পাল্টিবাজ’ তকমার মুখে পড়তে হয়েছে। সেই প্রসঙ্গ উঠতেই ভরত কল নিজের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও স্পষ্ট বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, “আমি সক্রিয়ভাবে আমরা সেভাবে পার্টি করতে পারব না। আমার পক্ষে কখনও সময় ছিল না, এমন আশাও ছিল না। আমি কংগ্রেস পরিবারের ছেলে। আমি একজন কাশ্মিরী ব্রাহ্মণ। কংগ্রেস পরিবারের এই পরিচয়টা জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত থাকবে। সেটা একটা দিক। সেই পরিচয় আমার মনে হয় কোনও দিন আমার কোনও কাজে প্রভাব ফেলেনি, ফেলবেও না।” পাশাপাশি তিনি নতুন সরকারকে শুভেচ্ছাও জানান। তাঁর কথায়, “যারা ক্ষমতায় এসেছে তাঁরা জিতে এসেছে। শুভেচ্ছা নতুন সরকারকে। আমাদের অনেক সহযোদ্ধা ওখানে আছেন। তাঁরা তাঁদের সেরা কাজ করার চেষ্টা করবেন।”

আরও পড়ুনঃ “আমি বাঁচব কী করে?” আচমকাই এমন প্রশ্ন কেন তুললেন কিংবদন্তি গায়িকা হৈমন্তী শুক্লা? জীবনের এই পর্যায়ে এসে কে হয়ে উঠেছে তাঁর নিত্যদিনের সবচেয়ে বড় সঙ্গী, যাকে ছাড়া বাঁচা অসম্ভব? নিজেই ফাঁস করলেন তিনি!

তৃণমূল সরকারের সময় শুধুমাত্র শাসক ঘনিষ্ঠ শিল্পীরাই কাজ পেতেন, এমন অভিযোগও বহুবার সামনে এসেছে। তবে সেই দাবি মানতে নারাজ ভরত কল। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “যারা বলেন তৃণমূল সরকার কাজ পাইয়ে দিয়েছে, সেটা ভুল কথা। কাজ মানুষ নিজের যোগ্যতায় কাজ পায়।” নিজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমার ৩১ বছর হয়ে গিয়েছে। আমি বাম শাসন দেখেছি, তৃণমূল দেখেছি, এখন বিজেপিও দেখছি। যাকে জনতা বলবে কাজ করবে, তাকেই নির্বাচিত করা হবে। জনগণ পরিবর্তন চাইলে হবে।” তাঁর মতে, রাজনৈতিক পরিবর্তন হলেও শিল্পীদের কাজের মূল্যায়ন হওয়া উচিত যোগ্যতার ভিত্তিতে, কোনও রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়।

You cannot copy content of this page