“আমি আপনাদের মতো হতে পারিনি, আর হতে চাইওনি!” “শিক্ষিত হওয়া ভালো, অতিশিক্ষিত হওয়া ভালো নয়…নিজের বিবেক, আত্মসম্মান আর মেরুদণ্ড বিক্রি করিনি!” মোদী পোস্টার বিতর্কে রত্না ঘোষাল, মমতা শঙ্কর ও কনীনিকার সমালোচনার জবাবে কড়া ভাষায় পাল্টা আক্রমণ শ্রীলেখা মিত্রের! একহাত নিয়ে কী বললেন অভিনেত্রী?

গত মাসে একটি প্রতিবাদ মিছিলকে ঘিরে বড় বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। দিল্লিতে ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনার প্রতিবাদে কলকাতার একটি মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। সেই সময় তাঁর হাতে থাকা একটি পোস্টারের ছবি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পোস্টারটিতে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি বিকৃত কার্টুন ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। ছবিটি ভাইরাল হতেই অভিনেত্রীকে ঘিরে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। শুধু সাধারণ মানুষই নন, বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল থেকেও তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। এমনকি তাঁর নামে ৩০টিরও বেশি থানায় অভিযোগ দায়েরের খবর সামনে আসে এবং তাঁকে গ্রেফতারের দাবিও ওঠে। অভিনেত্রীর বাড়ির সামনেও বিক্ষোভ দেখানোর ঘটনাও ঘটে।

তবে বিতর্কের সূত্রপাত শুধু রাজনৈতিক মহলেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। টলিউডের একাধিক পরিচিত শিল্পীও এই ঘটনায় প্রকাশ্যে মতামত জানান। অনেকের বক্তব্য ছিল, প্রতিবাদ করার অধিকার সকলের থাকলেও সেই প্রতিবাদের ভাষা ও উপস্থাপনা শালীন হওয়া উচিত। অভিনেত্রী রত্না ঘোষাল মন্তব্য করেন, শ্রীলেখার নাকি “মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে”। অন্যদিকে কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মমতা শঙ্করের মতো শিল্পীরাও এই বিতর্ক নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তাঁদের মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি আরও বেশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। সেই সমস্ত সমালোচনারই এবার দীর্ঘ লিখিত জবাব দিলেন শ্রীলেখা মিত্র।

নিজের সমাজ মাধ্যমের পাতায় অভিনেত্রী লেখেন, একজন অভিনেত্রী যখন বলেন, “শিক্ষিত হওয়া ভালো, অতিশিক্ষিত হওয়া ভালো নয়”, তখন তিনি ধরে নিচ্ছেন যে কিছু ক্ষেত্রে তিনি অন্যদের তুলনায় বেশি শিক্ষা, অভিজ্ঞতা, চেতনা কিংবা মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন। এরপরই তিনি লেখেন, শিক্ষা মানে শুধু ডিগ্রি নয়। তাঁর মতে, শিক্ষা বলতে প্রশ্ন করার সাহস, মানবিকতা, অভিজ্ঞতা, সচেতনতা এবং বিবেককে বোঝায়। তিনি দাবি করেন, এই জায়গায় তাঁর অবস্থান আলাদা। যদি সেটাই তাঁর অপরাধ হয়ে থাকে, তাহলে সেই দায় তিনি স্বীকার করতেও প্রস্তুত। এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

রত্না ঘোষালের মন্তব্যেরও সরাসরি জবাব দেন শ্রীলেখা। তিনি লেখেন, “হ্যাঁ, আমার মাথা খারাপ হয়ে যায়, যখন দেখি প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনায় অসংখ্য ছাত্রছাত্রীর স্বপ্ন ভেঙে যায়। কেউ কেউ সেই হতাশায় আত্মহত্যার পথও বেছে নেয়। এই ধরনের ঘটনা আমাকে নাড়া দেয়।” তাঁর কথায়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করাকে যদি কেউ মাথা খারাপ বলে মনে করেন, তাহলে সেই অভিযোগ তিনি মেনে নিতে রাজি। সমাজের নানা সমস্যার বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান আগেও নিয়েছেন, ভবিষ্যতেও নেবেন বলেই তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাঁর এই বক্তব্য নিয়েও সমাজমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

এখানেই থেমে থাকেননি অভিনেত্রী। তিনি আরও লেখেন, “আমি আপনাদের মতো হতে পারিনি, আর হতে চাইওনি। ক্ষমতার সুবিধা পাওয়ার জন্য কখনও দল বদলাইনি। আজ এক দল, কাল অন্য দল, সুবিধা যেখানে সেদিকে ঝুঁকে পড়ার রাজনীতি আমি করিনি। নিজের বিবেক, আত্মসম্মান আর মেরুদণ্ড বিক্রি করিনি।” পাশাপাশি তিনি আরও লেখেন, যদি এটাই তাঁর দোষ হয়, তাহলে সেই দোষ নিয়েই তিনি বাঁচতে চান। শেষে তিনি সতর্ক করে বলেন, সময় সবসময় একরকম থাকে না। আজ যাঁরা তাঁকে আঘাত করছেন, তাঁরা যেন প্রার্থনা করেন তিনি আর কোনও দিন উঠে দাঁড়াতে না পারেন। এই মন্তব্যও ইতিমধ্যেই নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ দীর্ঘদিন ধরেই ছোটপর্দা থেকে দূরে ‘রোশনাই’-এর গরিমা, লেখা চট্টোপাধ্যায়! বারবার ফেরার জল্পনা উঠলেও দেখা মিলছে না অভিনেত্রীর? দর্শকদের একটাই প্রশ্ন, আবার কবে নতুন ধারাবাহিকে ফিরবেন তিনি? তাঁকে কি আবারও মুখ্য চরিত্রে দেখতে চান আপনারা?

উল্লেখ্য, বিতর্কের শুরুতেই শ্রীলেখা মিত্র দাবি করেছিলেন, যে মুহূর্তে ওই ছবি তোলা হয়েছিল, তখন পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে দিয়েছিল। সেই সময় কয়েকজন যুবক তাঁর সঙ্গে ছবি তুলতে এলে তাঁদের হাতে থাকা পোস্টার নিয়েই তিনি দাঁড়িয়েছিলেন। অভিনেত্রীর দাবি, তাড়াহুড়োর মধ্যে পোস্টারে কী ছবি ছিল, তা তিনি খেয়াল করেননি। তিনি আরও জানান, সেদিন তাঁর চোখে সাধারণ চশমা ছিল না, শুধু সানগ্লাস ছিল। সেই কারণেই পোস্টারের ছবিটি স্পষ্টভাবে দেখতে পারেননি। যদিও তাঁর এই ব্যাখ্যা ঘিরেও বিতর্ক থামেনি। একদিকে যেমন অনেকে তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন, অন্যদিকে সমালোচকরাও নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছেন।

You cannot copy content of this page