বাংলার জনপ্রিয় ‘ভূমি’ ব্যান্ডের জনপ্রিয় গায়ক সৌমিত্র রায় সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় বাবাকে স্মরণ করে একটি আবেগঘন পোস্ট করেছিলেন। সেই পোস্টের কমেন্ট বক্সেই উঠে আসে তাঁর ছোটবেলার বেশ কিছু মজার স্মৃতি। সেখানেই মহানায়ক উত্তম কুমারকে ঘিরে একটি অজানা ঘটনা শেয়ার করেন সৌমিত্র। তিনি জানান, উত্তম কুমারের সঙ্গে তাঁরও ছোটবেলা থেকে বেশ কিছু স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। এর মধ্যে এমন একটি ঘটনা রয়েছে, যা তাঁর মায়ের কাছে ছিল বেশ বিরক্তিকর।
তখন সৌমিত্রের বয়স মাত্র ৬ বছর। সেই বয়সেই স্বয়ং ‘উত্তম আঙ্কেল’-এর কাছ থেকে এক চুমুক উইস্কি খাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছিল তাঁর। সৌমিত্র জানান, একদিন উত্তম কুমার নিজের গ্লাসের উইস্কি থেকে তাঁকে এক চুমুক খাইয়েছিলেন। ছোট ছেলের মুখে উইস্কি দেওয়ার ঘটনা দেখে স্বাভাবিকভাবেই তাঁর মা খুবই অবাক হয়েছিলেন এবং বিরক্তও হয়েছিলেন। তবে এত বছর পেরিয়ে গেলেও সেই ঘটনার স্মৃতি এখনও সৌমিত্রের মনে স্পষ্ট। শুধু এই ঘটনাই নয়, উত্তম কুমারের সঙ্গে তাঁর পরিবারের ঘনিষ্ঠতার আরও অনেক গল্প রয়েছে।
সৌমিত্রের বাবা এস কে রায়ের সঙ্গে মহানায়কের বন্ধুত্ব ছিল অত্যন্ত গভীর। এক নেটিজেন সেই বন্ধুত্বের প্রসঙ্গ তুলতেই সৌমিত্র জানান, তাঁর বাবাকে ছাড়া উত্তম কুমার নাকি এক সপ্তাহও থাকতে পারতেন না। ব্যস্ততার কারণে দেখা না হলে বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে মহানায়ক যে কাণ্ড করতেন, সেটিও বেশ চমকপ্রদ। সৌমিত্রের কথায়, দেখা করার সুযোগ না পেলে উত্তম কুমার রাতে চাদর মুড়ি দিয়ে ছদ্মবেশে ব্রড স্ট্রিটের বাড়িতে চলে আসতেন। তারপর কারও নজরে না পড়ে রাতের অন্ধকারে জানালার কাচে টোকা দিতেন।
ফিসফিস করে বন্ধুকে ডাকতেন, ‘এসকে, এসকে…’। এই মজার ঘটনাগুলি সৌমিত্র তাঁর নিজের মা এবং ব্রড স্ট্রিটের প্রতিবেশী, প্রয়াত ফ্যাশন ডিজাইনার শর্বরী দত্ত, যাঁকে তাঁরা ঝুমা মাসি বলে ডাকতেন, তাঁদের কাছ থেকেও বহুবার শুনেছেন। বাঙালি দর্শকের কাছে উত্তমকুমার সাধারণত গাম্ভীর্য, আভিজাত্য এবং নায়কোচিত ব্যক্তিত্বের প্রতীক। কিন্তু কাছের মানুষদের সঙ্গে তিনি যে অত্যন্ত প্রাণবন্ত, দুষ্টু এবং রসিক ছিলেন, সৌমিত্র রায়ের শেয়ার করা এই স্মৃতিগুলিতে তারই অন্য ছবি সামনে এল।
আরও পড়ুনঃ “আমার আজকে বোধহয় বাঁচার কোনও উপায় নেই…হয়তো সেদিন ম’রেই যেতুম, কিন্তু রাখে হরি তো মা’রে কে!” ধারাবাহিকের প্রথমদিন শুটিংয়ে যেতে গিয়ে মৃ’ত্যুর মুখ থেকে ফিরেছিলেন মৈত্রেয়ী মিত্র! কী হয়েছিল তাঁর সঙ্গে, কীভাবে প্রাণে বাঁচলেন? শিউরে ওঠার মতো গল্প শোনালেন অভিনেত্রী!
মহানায়কের ব্যক্তিগত জীবনের এমন ছোট ছোট ঘটনাই তাঁর পরিচিত গম্ভীর ভাবমূর্তির আড়ালে থাকা অন্য মানুষটিকে নতুন করে চিনিয়ে দেয়। সৌমিত্র আরও জানান, এই স্মৃতিগুলি তিনি শুধু নিজের মায়ের কাছ থেকেই শোনেননি, বরং বাবার নানান বন্ধু ও অন্যান্য পরিচিতদের কাছে থেকেও শুনেছেন। উত্তম কুমারের সঙ্গে তাঁর বাবার এই ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বের নানান গল্পের মধ্যেই ছোটবেলার সেই মজার ঘটনাগুলিও আজও সৌমিত্রের স্মৃতিতে রয়ে গিয়েছে।






