“এমন এক য*ন্ত্রণা আমাকে ছুঁয়ে যায়…তুমি নিখুঁত ছিলে না আর কোনও ল্যাবে তৈরিও নও, নিজের ভুলগুলোর জন্য বয়ে বেড়িয়েছিলে…” আজ বেঁচে থাকলে পা দিতেন ৬৮ বছরে, প্রয়াত অভিনেতা তাপস পালের জন্মদিনের শুভেচ্ছাবার্তায় চোখ ভেজালেন অর্ধাঙ্গিনী নন্দিনী পাল! দাম্পত্যের চার দশক পেরিয়ে কোন কোন উপলব্ধি হলো তাঁর?

২০২০ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রয়াত হন বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা তাপস পাল। দেখতে দেখতে তাঁর চলে যাওয়ার পর কেটে গিয়েছে ছয় বছর। বেঁচে থাকলে আজ, ২০২৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ৬৮ বছরে পা দিতেন অভিনেতা। প্রতি বছর এই দিনটিতে স্বামীকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান তাঁর স্ত্রী নন্দিনী মুখোপাধ্যায় পাল। তাপস পাল চলে যাওয়ার পর থেকেই সমাজ মাধ্যমে খোলা চিঠির মাধ্যমে তাঁকে মনে করেন নন্দিনী। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। স্বামীর জন্মদিনে নন্দিনীর লেখায় উঠে এসেছে ভালোবাসা, বিচ্ছেদের যন্ত্রণা এবং বহু পুরনো স্মৃতি।

নন্দিনী তাঁর লেখার শুরুতেই স্বামীকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, তাপস আজ শারীরিকভাবে পাশে না থাকলেও প্রতিটি মুহূর্তে তাঁকে অনুভব করেন। স্বামীর অনুপস্থিতির যন্ত্রণা এমন, যা কোনও শব্দে পুরোপুরি প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে এই কষ্টের মধ্যেও তাঁর মনে হয়, তাপস যেন এখনও তাঁর কাছেই রয়েছেন। এই বিশেষ দিনটিতে তাই স্মৃতি আর আবেগ আরও বেশি করে ঘিরে ধরেছে তাঁকে। তাপসের সঙ্গে কাটানো জীবনের নানা মুহূর্তের কথাও উঠে এসেছে সেই লেখায়। নন্দিনীর কাছে জন্মদিনটি শুধু শুভেচ্ছা জানানোর দিন নয়, বরং প্রয়াত স্বামীকে আরও একবার মনে করার বিশেষ উপলক্ষ।

এবারের জন্মদিনটি আরও বিশেষ হয়ে উঠেছে তাঁদের মেয়ে সোহিনী পালকে ঘিরে। তাপসের জন্মদিনের আগেই ‘বিগ বস বাংলা’র ঘর থেকে বাড়ি ফিরেছেন সোহিনী। এই ঘটনাকে ঘিরেও বাবার সঙ্গে মেয়ের সম্পর্কের কথা লিখেছেন নন্দিনী। তাঁর বিশ্বাস, সোহিনী যখন ওই ঘরে ছিল, তখন তাপস যেন অদৃশ্যভাবে মেয়ের সঙ্গেই ছিলেন। মেয়েকে দেখেছেন, আগলে রেখেছেন এবং নিজের মতো করে সুরক্ষা দিয়েছেন বলেই মনে করেন নন্দিনী। সোহিনীর জন্মের সময় শুটিং থেকে ছুটি নিয়ে তাপস বাড়ি ফিরেছিলেন, সেই স্মৃতিও এদিন মনে পড়েছে তাঁর। বাবা হিসেবে তাপসকে পূর্ণ নম্বর দেওয়ার পাশাপাশি স্বামী হিসেবেও তাঁর প্রতি নিজের ভালোবাসার কথা জানিয়েছেন নন্দিনী।

তাপসের সঙ্গে তাঁর দাম্পত্য জীবনের কথাও চিঠিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন নন্দিনী। তাঁদের বিয়ের ৪২ বছর পূর্ণ হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। তাপস শারীরিকভাবে না থাকলেও যতদিন তিনি বেঁচে থাকবেন, ততদিন তাপসই তাঁর স্বামী হয়ে থাকবেন বলে জানিয়েছেন নন্দিনী। জীবনে তাঁকে সবচেয়ে বড় উপহার দেওয়ার জন্য স্বামীকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন তিনি। সেই উপহার তাঁদের মেয়ে সোহিনী, যাঁকে ঘিরেই তাঁদের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি তৈরি হয়েছে। নন্দিনীর লেখায় তাই স্বামী হিসেবে তাপসের পাশাপাশি একজন বাবা হিসেবেও তাঁর ভূমিকা বারবার ফিরে এসেছে। বহু বছরের দাম্পত্য, পরিবার এবং মেয়েকে ঘিরে তৈরি হওয়া স্মৃতিই তাঁর জন্মদিনের লেখায় নতুন করে জায়গা পেয়েছে।

আরও পড়ুনঃ “দুটো মেয়ে হয়েছে, ছেলে হয়নি…বর ছেড়ে দিয়েছে” সেনা পরিবারের সন্তান, জন্ম থেকে মায়ের অসম্ভব লড়াই দেখে বড় হয়েছেন অর্পিতা মুখোপাধ্যায়! পর্দার হাসিখুশি চরিত্রের আড়ালে লুকিয়ে থাকা সেই কঠিন সংগ্রাম কীভাবে বদলে দিয়েছে তাঁর জীবন? অভিনেত্রী জানালেন, একা দুই মেয়েকে মানুষ করতে গিয়ে কী কী ভয়ংকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁর মা’কে?

চিঠির শেষদিকে তাপসকে নিখুঁত মানুষ হিসেবে তুলে ধরেননি নন্দিনী, বরং তাঁর ভালো-মন্দ দুটো দিকই মেনে নিয়েছেন। তাঁর কথায়, তাপস কোনও পরীক্ষাগারে তৈরি নিখুঁত হিরে ছিলেন না, বরং মাটির গভীর থেকে উঠে আসা এক হিরের মতো ছিলেন। কোথাও তাঁর মধ্যে অমসৃণতা ছিল, আবার কোথাও ছিল অসাধারণ দীপ্তি। জীবন, ভালোবাসা, ভুল, অনুতাপ এবং নানা অভিজ্ঞতা ধীরে ধীরে তাঁকে গড়ে তুলেছিল বলে মনে করেন নন্দিনী। তিনি যেমন তাপসের ভালো দিক দেখেছেন, তেমনই তাঁর ত্রুটিগুলিও কাছ থেকে দেখেছেন। নিজের ভুলের জন্য তাপসের মনে যে অনুতাপ ছিল, সেটিও নন্দিনীর চোখ এড়ায়নি। স্বামীর জন্মদিনে সেই মানুষটির স্মৃতি, ভালোবাসা, অসম্পূর্ণতা এবং জীবনের নানান দিক নিয়েই মনের জমে থাকা কথাগুলি লিখেছেন তিনি।

You cannot copy content of this page