টলিপাড়ায় নতুন ছবির শুটিং শুরু মানেই সাধারণত উৎসাহ আর ব্যস্ততার আবহ। কিন্তু সেই পরিবেশেই আচমকা জটিলতার মুখে পড়ল প্রয়াত অভিনেত্রী মহুয়া রায়চৌধুরী-র জীবনভিত্তিক বায়োপিকের কাজ। বহুদিন ধরে আলোচনায় থাকা ‘গুনগুন করে মহুয়া’ (GunGun Kore Mahua) প্রোজেক্টের শুটিং শুরু হওয়ার প্রথম দিনেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তি ছড়িয়েছে ইউনিটে!
প্রসঙ্গত, ঘটনার সূত্রপাত একটি আর্থিক দাবি ঘিরে। জানা গিয়েছে, লাইট কেয়ার টেকারদের একাংশ হঠাৎই শুটিং ফ্লোরে এসে উপস্থিত হন এবং এক ব্যক্তির কাছ থেকে তাঁদের বকেয়া টাকা দাবি করতে শুরু করেন। যদিও সেই পাওনা এই বায়োপিকের বর্তমান প্রযোজনা দলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়, তবুও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে এই প্রোজেক্টের একটি যোগসূত্র থাকায় ঘটনাটি শুটিংয়ের মাঝখানেই সামনে আসে।
এক সময়ে পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে কথা কাটাকাটির জেরে কাজ কার্যত থমকে যায় কিছু সময়ের জন্য। ইউনিটের সদস্যরা প্রথমে বিষয়টি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও পরে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। ঘটনাটি এখন ফেডারেশনের নজরেও এসেছে বলে জানা গেছে, যা থেকে বোঝা যাচ্ছে বিষয়টি শুধুমাত্র ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝিতে সীমাবদ্ধ নেই। এই প্রেক্ষাপটে প্রযোজক পক্ষও নড়েচড়ে বসেছেন।
তাঁদের অভিযোগ, অন্য একটি প্রোজেক্টের আর্থিক সমস্যার জেরে তাঁদের শুটিং ব্যাহত হয়েছে, যা মেনে নেওয়া কঠিন। সেই কারণেই থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও খবর। নতুন একটি গুরুত্বপূর্ণ ছবির শুরুর দিনেই এমন বাধা তৈরি হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই ক্ষোভ তৈরি হয়েছে প্রযোজনা শিবিরে। এক কথায়, একটি বহুল প্রত্যাশিত জীবন-ছবির যাত্রা শুরুতেই অনিশ্চয়তার ছায়া ফেলল এই ঘটনা!
আরও পড়ুনঃ “শাশুড়ি কখনো মা হতে পারে না!” এই বহুলচর্চিত ধারণা কি মমতা শঙ্করের পরিবারেও সত্যি? সমাজে ও সংস্কৃতি নিয়ে স্পষ্টভাষী অভিনেত্রী কি বাড়িতেও ততটাই কড়া? ছেলের বউদের উপর নিজের মত চাপিয়ে দেন? তাঁর কোন রূপ তুলে ধরলেন তাঁরই দুই পুত্রবধূ?
উল্লেখ্য, ছবিটির প্রযোজকের ভূমিকায় রয়েছেন রানা সরকার। মুখো চরিত্রে রয়েছেন অঙ্কিতা মল্লিক এবং তার বোনের চরিত্রে অভিনয় করবেন গায়িকা দেবলীনা নন্দী। প্রথম দিনেই শুটিংয়ের এমন ঘটনা ঘটার পর, শিল্পী এবং টেকনিশিয়ানদের স্বার্থ, প্রযোজনার স্বচ্ছতা এবং কাজের পরিবেশ, এই তিনটি বিষয়ই সামনে চলে এসেছে আরও জোরালো ভাবে। এবার পরিস্থিতি কোন দিকে এগোয়, এবং শুটিং কত দ্রুত স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে পারে, সেটাই দেখার!






