বাংলা সিনেমার অন্যতম বড় মুখ দেব। শুধু অভিনেতা হিসেবেই নয়, প্রযোজক হিসেবেও বারবার ইন্ডাস্ট্রির ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে দেখা যায় তাঁকে। এই বছর পুজোয় আবার দেব–শুভশ্রীর জুটি বড় পর্দায় ফিরছে—এই খবরে যখন দর্শকদের আগ্রহ তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়েই বাংলা সিনেমা ঘিরে সাম্প্রতিক এক বিতর্কে মুখ খুললেন দেব। তাঁর বক্তব্যে উঠে এল সাফল্য, ষড়যন্ত্র, ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের লড়াই এবং দর্শকের ভূমিকা নিয়ে মন্তব্য।
দেবের মতে, সিনেমা শুধু রিলিজের বিষয় নয়—এটাকে একটি সেলিব্রেশন এবং ইভেন্ট হিসেবে গড়ে তোলা জরুরি। প্রথম দিনের প্রথম ছবিটি আলাদা উৎসব হয়ে উঠতে পারে, যেখানে দর্শকের আবেগই আসল শক্তি। তাঁর ছবির ক্ষেত্রে প্রায় ১০ মাস আগে অ্যাডভান্স টিকিট বিক্রি শুরু হওয়া এবং সকাল সাড়ে ৭টার শো-ও হাউসফুল হওয়া বাংলা ইন্ডাস্ট্রির জন্য ঐতিহাসিক ঘটনা। এত বড় রিস্কের পরেও দর্শকের ভরসাই এই সাফল্যের মূল।
কিন্তু এই সাফল্যের মধ্যেই আসে বাধা। দেবের অভিযোগ, একটি প্রোডাকশন হাউস থেকে BookMyShow-এ মেল করে টিকিট বিক্রিকে বেআইনি বলে নামিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়। শুধু তাই নয়, সেন্সর বোর্ডে ফোন করে চাপ তৈরির চেষ্টাও হয়েছে। দেব এটাকে সরাসরি ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের লড়াই হিসেবেই দেখছেন। তাঁর কথায়, “সাফল্য এলে শত্রু বাড়ে, লড়াই অনিবার্য।”
এই প্রসঙ্গে দর্শকদের ভূমিকাও আলাদা করে তুলে ধরেন দেব। তাঁর মতে, যারা টিকিট কেটেছেন, তারা শুধু দর্শক নন—তাঁরা এই ছবির পার্টনার। সেই টিকিটের টাকা নিজের নয়, দর্শকের বিশ্বাসের টাকা। সেই বিশ্বাস থেকেই টিকিটের অর্থ ফেডারেশনকে দিয়ে টেকনিশিয়ানদের কাজে লাগানোর ভাবনাও এসেছে। ইন্ডাস্ট্রি বড় হলে সবাই বড় হবে—একজন একা নয়।
আরও পড়ুনঃ ‘পরশুরা’মে আর দেখা যাবে না কি লাড্ডুকে? পর্দার মা তটিনীর বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ, তৃনা সাহার আচরণেই কি স্টার জলসার হিট ধারাবাহিক ছাড়ছেন অভিনম বিশ্বাস?
অনির্বাণ প্রসঙ্গেও দেব স্পষ্ট বলেন, কারও নাম কীভাবে লেখা হচ্ছে বা অন্যরা কী বলছে—তার দায় আমার নয়। কাজের জায়গায় সবসময় “ক্ষমা” নয়, দরকার প্রফেশনাল ব্যালেন্সের। ইন্ডাস্ট্রিতে লড়াই থাকবে, কিন্তু কেউ যেন নষ্ট না হয়। দেবের বিশ্বাস, এই লড়াইই শেষ পর্যন্ত শেষ হয়ে বাংলা সিনেমার সম্মান বাড়বে—আর সেই পথেই বাংলা সিনেমা আজ জাতীয় মানচিত্রে জায়গা করে নিচ্ছে।






