অভিনয় এবং নৃত্য—এই দুই জগতেরই অন্যতম পরিচিত মুখ ‘মালবিকা সেন’ (Malabika Sen) । টেলিভিশন পর্দায় তার উপস্থিতি মানেই এক মায়াবী আবেদন, এক স্বতন্ত্রতা। ‘জল থৈ থৈ ভালোবাসা’ (Jol Thoi Thoi Bhalobasa) ধারাবাহিকে অভিনয় করতে দেখা গেছিল শেষ। তবে শুধু এই ধারাবাহিকেই নয়, ‘তুমি রবে নীরবে’, ‘ফাগুন বউ’, ‘শ্রীময়ী’, ‘গুড্ডি’, ‘খড়কুটো’-সহ একাধিক জনপ্রিয় ধারাবাহিকে তাঁর নিখুঁত অভিনয় নজর কেড়েছে দর্শকদের।
পাশাপাশি নৃত্যশিল্পী হিসেবেও বহু বছর ধরে তিনি নিজের জায়গা পাকাপাকি করে নিয়েছেন। অভিনয় হোক বা নৃত্য, দুই ক্ষেত্রেই তাঁর আত্মবিশ্বাস ও নিষ্ঠা এককথায় অনবদ্য। একদা মালবিকা সেন উপস্থিত ছিলেন লেখিকা ও প্রযোজক ‘লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের’ (Leena Gangopadhyay) বুটিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। সেখানেই জীবনের দর্শন, অভিজ্ঞতা ও আদর্শ নিয়ে কিছু মূল্যবান কথা বলেন তিনি।
তাঁর মতে, জীবনে সাফল্য মানে বড় গাড়ি, বিলাসবহুল জীবন নয়—বরং নিজের পায়ে দাঁড়ানো, প্রিয়জনদের ভালো রাখা এবং রাতে শান্তিতে ঘুমানোই জীবনের প্রকৃত সার্থকতা। তিনি বিশ্বাস করেন, জীবনে যা কিছু পাওয়া যায়, সেটুকু নিয়েই খুশি থাকতে শেখা উচিত। কারণ অতিরিক্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষা কখনও কখনও মানুষকে অস্থির করে তোলে এবং না পাওয়ার যন্ত্রণা বাড়িয়ে দেয়।
মালবিকা স্পষ্টভাবে জানান, নতুন প্রজন্মের অনেকের মধ্যেই লক্ষ্য, ধৈর্য আর ডিসিপ্লিনের ঘাটতি দেখা যায়। এখনকার অনেকেই দ্রুত সাফল্যের শিখরে পৌঁছাতে চায়, কিন্তু বোঝে না যে ধীরে এগোনোই টেকসই সফলতার চাবিকাঠি। সময়মতো কাজে পৌঁছানো, কাজের প্রতি মনোযোগ থাকা, এবং নিজের যত্ন নেওয়া—এই সমস্ত ছোট ছোট অভ্যাসই একজন শিল্পী বা মানুষ হিসেবে সফল করে তোলে।
তাঁর কথায় আরও উঠে আসে বর্তমান প্রজন্মের এক অস্থির চিত্র। মালবিকার মতে, আজকাল অনেকেই মনে করে সমাজ মাধ্যমে ফলোয়ার বাড়লেই বুঝি জনপ্রিয়তা এসে যায়। কিন্তু সেটা ক্ষণস্থায়ী। আসল জনপ্রিয়তা আসে বছরের পর বছর ধরে নিজেকে পরিশ্রম দিয়ে গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে। তিনি বলেন, “তাড়াতাড়ি ওঠা মানেই তাড়াতাড়ি পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা। বরং ধীর গতিতে, কিন্তু মজবুত ভিত গড়ে তোলাটাই বেশি জরুরি।”
আরও পড়ুনঃ “মৃত্যুই বোধহয় ভালো!”— পঁচিশ হাজার টাকার ওষুধ, নেই কাজ! কোথায় সরকার, কোথায় ইন্ডাস্ট্রি? অবহেলা আর অভাবেই বাঁচছেন প্রবীণ অভিনেত্রী বাসন্তী চট্টোপাধ্যায়!
শেষে মালবিকা সেন নতুন প্রজন্মকে একটি বার্তা দিয়ে বলেন, সবার আগে একজন ভালো মানুষ হওয়া দরকার। তারপরে আসে শিল্পী হওয়ার প্রসঙ্গ। কারণ ভালো মানুষ না হলে শিল্পেও স্থায়িত্ব আসবে না। জীবনের সমস্ত কিছুর মধ্যে ভারসাম্য রাখা, নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখা এবং নিয়ম মেনে এগিয়ে যাওয়াই হতে পারে যে কোনও তরুণ-তরুণীর আসল সাফল্যের পথ।