“মৃত্যুই বোধহয় ভালো!”— পঁচিশ হাজার টাকার ওষুধ, নেই কাজ! কোথায় সরকার, কোথায় ইন্ডাস্ট্রি? অবহেলা আর অভাবেই বাঁচছেন প্রবীণ অভিনেত্রী বাসন্তী চট্টোপাধ্যায়!

গত এক বছর যেন ঘোর দুর্দিনে কেটেছে বর্ষীয়ান অভিনেত্রী ‘বাসন্তী চট্টোপাধ্যায়ের’ (Basanti Chattopadhyay) । শরীর একের পর এক রোগে ভেঙে পড়েছে—পেটের ক্যানসার, কিডনির সমস্যা, হার্টে পেসমেকার বসানো—সব মিলিয়ে অসুস্থতা তাঁর নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই কষ্টের দিনে পাশে পেয়েছেন কিছু সহকর্মী, যাঁদের মধ্যে আছেন স্নেহাশিস চক্রবর্তী ও অভিনেতা ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়। বর্তমানে কেমন আছেন এই বর্ষীয়ান অভিনেত্রী?

একসময় নাচ থেকে থিয়েটার হয়ে যাত্রার মঞ্চ পেরিয়ে ছোট ও বড় পর্দায় নিজের জায়গা করে নেওয়া এই প্রবীণ অভিনেত্রী আজ শারীরিক ও আর্থিক সংকটে কার্যত বিপর্যস্ত। শারীরিক সমস্যা ছাড়াও মানসিক যন্ত্রণাও কোনও অংশে কম নয় বাসন্তী দেবীর জীবনে। বাড়িতে পড়ে গিয়ে পাঁজরের হাড় ভেঙে যাওয়ার পর থেকে চলাফেরাতেও সমস্যা হয়েছে তাঁর। প্রতি মাসে বিশ হাজার টাকার ওষুধ এবং প্রায় পাঁচ হাজার টাকার ইনজেকশন নিয়মিত নিতে হয়।

Veteran Bengali actress Basanti Chattopadhyay, Geeta L.L.B, leg injury, Poor condition, stopped shooting, বর্ষিয়ান অভিনেত্রী বাসন্তী চট্টোপাধ্যায়, গীতা এলএলবি, পায়ে চোট, শারীরিক অসুস্থতা, বন্ধ শুটিং

অথচ এখন আর শুটিং করার মতো শারীরিক সামর্থ্য নেই, বন্ধ ‘গীতা এলএলবি’-র কাজও। থাকেন দমদমের একটি ভাড়া বাড়িতে, দক্ষিণ কলকাতায় কাজ করতে প্রতিদিন যাতায়াত করতেন। কিন্তু এখন সেই সামর্থ্য হারিয়ে কার্যত স্থবির জীবনযাপন করছেন তিনি। অভিনেত্রীর কথায়, শারীরিক অবস্থার এতটাই অবনতি হয়েছিল যে ডাক্তাররাও আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু দৃঢ় মানসিকতা আর জীবনের প্রতি অসম্ভব ভালোবাসায় তিনি আবারও মৃত্যুকে হার মানিয়েছেন।

ছোট মেয়ে নিজের সংসারে ব্যস্ত, দীর্ঘদিন পরিজনের সান্নিধ্য থেকে বঞ্চিত তিনি। একসময় মানসিকভাবে এতটাই ভেঙে পড়েছিলেন যে বৃদ্ধাশ্রমে থাকার সিদ্ধান্ত পর্যন্ত নিয়ে ফেলেছিলেন। তবুও অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা তাঁকে আজও বাঁচিয়ে রেখেছে, অভিনয় ছেড়ে দূরে সরে যেতে মন সায় দেয় না তাঁর। বাসন্তী দেবী মনে করেন, বর্তমান প্রজন্মের অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রী প্রবীণ শিল্পীদের সম্মান করতে ভুলে যাচ্ছে।

ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে যেমন অবহেলা, তেমনি সমাজ মাধ্যমেও প্রায়শই ছড়িয়ে পড়ে প্রবীণ অভিনেতাদের মিথ্যা মৃত্যুর গুজব। এসব দেখে মনে হয়, মৃত্যু বোধহয় এতটা কষ্টের নয় যতটা কষ্ট এই অসম্মান। তবে তাঁর দুঃসময়ে কেউ কেউ পাশে দাঁড়িয়েছেন, খোঁজ নিয়েছেন, তাতেই তাঁর মন খানিকটা শান্ত হয়েছে। শেষ বয়সে অর্থকষ্ট, একাকীত্ব, এবং অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করেও বাসন্তী দেবী আশায় বুক বাঁধেন।

আরও পড়ুনঃ দুঃসংবাদ! শেষ হচ্ছে স্টার জলসার জনপ্রিয় সিরিয়াল! ১ বছরের মধ্যেই যবনিকা পতন ধারাবাহিকের

তিনি চান, শিল্পীদের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে সরকার যেন উদ্যোগী হয় তাঁদের পাশে দাঁড়াতে।তাঁর কথায়, শিল্পজগতে কর্মরত বহু প্রবীণ এখনও বিভিন্ন সমস্যায় ভোগেন, যাদের পাশে দাঁড়ানো একান্ত প্রয়োজন। যদিও এখন অনেকটাই সুস্থ তিনি, তবুও শরীরে যন্ত্রণা রয়ে গেছে। তবে আশাবাদী বাসন্তী দেবী জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই আবারও তাঁকে দেখা যাবে পর্দায়—নিজের চেনা ভঙ্গিতে, প্রিয় চরিত্র ব্রজমালার রূপে।