“দরজা দিয়ে ঢুকছিল এক অপরূপ সুন্দরী মেয়ে…গায়ের রং দিয়ে যেন আলো বেরোচ্ছে!” ঋদ্ধিমার সঙ্গে প্রথম দেখার অভিজ্ঞতা নিয়ে খুলে বললেন গৌরব চক্রবর্তী! প্রথম ছবির অভিনেত্রীই জীবনসঙ্গী হওয়ার পেছনে, কার কাছে আজীবন কৃতজ্ঞ তিনি?

টলিপাড়ার অন্যতম জনপ্রিয় জুটি বা বলা চলে পাওয়ার কাপল, ‘গৌরব চক্রবর্তী’ (Gourav Chakraborty) এবং ‘ঋদ্ধিমা ঘোষ’ (Riddhima Ghosh)। কয়েক বছর আগেই দীর্ঘদিনের প্রেমের পর বিয়ে করেছেন দু’জনে। এই মুহূর্তে তাদের জীবন ঘিরে রয়েছে একরত্তি পুত্রসন্তান ধীর। ছেলের জন্মের পর দু’জনেই খানিক বিরতি নিয়েছিলেন। তবে, কয়েক মাস আগেই জুটি বেঁধেই জি বাংলার ‘রন্ধনে বন্ধন’এ সঞ্চালনায় ফিরেছিলেন তাঁরা। অবশ্য, পর্দায় তাঁদের সবাই ব্যোমকেশ বক্সী আর সত্যবতী হিসেবেই বেশি পছন্দ করেছেন।

বিয়ের আগে সাত বছরের প্রেম আর পড়ে সাত বছরের দাম্পত্য অতিক্রান্ত করে ফেলেছেন তাঁরা। তবে, কীভাবে প্রথম দেখাতে প্রথম ছবির সহ অভিনেতাকে দু’জনে বেছে নিয়েছিলেন জীবনসঙ্গী হিসেবে? এদিন এক সাক্ষাৎকারে সবটা জানালেন সব্যসাচী পুত্র গৌরব। তিনি বলেন, “আমাদের সবটাই যেন স্বপ্নের মতো হয়েছিল, এখনও ভুলতে পারি না। কৌশিক গাঙ্গুলীর ‘রং মিলান্তি’ ছবিতে প্রথম বড় পর্দায় ডাক পাই আমি। সহ অভিনেত্রী ছিল রিদ্ধিমা। প্রথম যেদিন গল্প শুনতে আমাদের ডাকা হলো, বসে আছি আমি আগে গিয়েই।

কিছুক্ষণ পর দেখি একটি অসম্ভব সুন্দরী মেয়ে, যার গায়ের রং এতই ফর্সা যেন আলো বেরোচ্ছে– ধীরে ধীরে দরজা দিয়ে প্রবেশ করছে। আমি লজ্জায় মুখের দিকে তাকাচ্ছি না, এমন সময় জানা গেল গল্পে একটা চুম্বন দৃশ্য আছে! দু’জনেই একে অপরের দিকে একবার দেখলাম, মনে ভয় কাজ করছে তখন যে পারব কিনা। তারপর শুটিংয়ে বাড়িতে গেলাম। রাস্তায় কোনও কথা নেই দু’জনের, আমি ভয়ে আছি যে রিদ্ধিমা যদি রাগ করে। পরে কৌশিক দা অনেক জোরাজুরি করাতে রাতে আড্ডা দেই, তারপর আমরা খুব ভালো বন্ধু হয়ে গেলাম।

শুটিং চলাকালীনই আমি নিজের মনের কথা রিদ্ধিমাকে জানিয়েছিলাম। ভাগ্য ভালো যে রেগে যায়নি, তারপর তো আমরা একসঙ্গেই আছি আজও।” অভিনেতা আরও যোগ করলেন, “আমি কৌশিক গাঙ্গুলীর কাছে আজীবন কৃতজ্ঞ থাকব, আমায় প্রথম ছবি দেওয়ার জন্য এবং জীবনসঙ্গিনীর সঙ্গে আলাপের সুযোগ করিয়ে দেওয়ার জন্য!” অভিনেতার এই স্বীকারোক্তি ঘিরে সমাজ মাধ্যম এখন প্রশংসায় পঞ্চমুখ! কেউ বলছেন, “সব্যসাচী চক্রবর্তীর ছেলে বলে কথা, পারিবারিক শিক্ষা।

আরও পড়ুনঃ চার বছরের সম্পর্কের ইতি! ‘অনুরাগের ছোঁয়া’র শেষ দিনের শুটিংয়ে সকলে থাকলেও, এলেন না দিব্যজ্যোতি! নতুন ছবির ব্যস্ততা নাকি অন্য কারণ? সূর্যর অনুপস্থিতির ব্যাখ্যা দিলেন দিব্যজ্যোতি নিজেই!

বাবাও যেমন স্ত্রীর পাশে আজীবন থেকেছেন, ছেলেরাও তাই।” একজন বলেছেন, “কতজন এভাবে স্বীকার করে, নিজের বউয়ের প্রথম দেখা তে তাকে এত ভালো লেগেছিল? ভালো লাগে সবার, কিন্তু বলে না কেউ।” অন্যজন বলেছেন, “খুব ভালো থাকো তোমরা, আমার খুব পছন্দের জুটি!” একজন তারকা হয়েও, জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো এত খোলামেলা এবং আন্তরিকভাবে ভাগ করে নেওয়া সত্যিই প্রশংসনীয়। তার সাদামাটা ভঙ্গিতে প্রেম, সম্পর্ক এবং জীবনকে দেখানোর ধরন অনেকেরই অনুপ্রেরণা হতে পারে।