“আপনার মাকে ডাকুন, দেখা উচিত মেয়ে পাঁচালি গেয়ে আর চেটে বঙ্গবিভূষণ পেয়েছে!” “কালকে আমার মাকে ছোঁয়া হয়েছে…আমি বিধ্বস্ত, নিতে পারছি না!” মৃ’ত মাকে নিয়ে কটাক্ষে, নেটিজেনদের আক্রমণে বড় সিদ্ধান্ত ইমনের!

আজ, বৃহস্পতিবার সকাল হতেই আচমকাই এক কঠিন সিদ্ধান্তের কথা জানালেন জনপ্রিয় গায়িকা ‘ইমন চক্রবর্তী’ (Iman Chakraborty)। আপাতত ব্যক্তিগতভাবে আর সমাজ মাধ্যমে সক্রিয় থাকবেন না! এই ঘোষণা করে তিনি স্পষ্ট বুঝিয়ে দিলেন, সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার ধাক্কা তাঁকে ভীষণভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে। যদিও তাঁর অফিসিয়াল পেজ ও কাজের আপডেটের জন্য নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্ম চালু থাকবে, তবু নিজের ব্যক্তিগত উপস্থিতি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত সহজে নেননি তিনি। কিন্তু কী এমন ঘটনা, যা তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছে?

এদিন তাঁর কথায় ক্লান্তি, মানসিক অবসাদ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। যদিও এই ঘটনার সূত্রপাত কালকের একটি পোস্ট ঘিরে। মায়ের মৃ’ত্যুবার্ষিকীতে স্মৃতিচারণ করে একটি বার্তা লিখেছিলেন ইমন। সেই আবেগঘন মুহূর্তেও কটূ মন্তব্যের মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে! শুধু তাঁকেই নয়, তাঁর প্র’য়াত মাকেও আক্রমণ করা হয়েছে, এমন অভিযোগ সামনে এনে তিনি জানান, এই সীমা অতিক্রম করা কথাগুলোই তাঁকে ভিতরে ভিতরে ভেঙে দিয়েছে। রাতে এক ফোঁটাও ঘুম হয়নি, শারীরিকভাবেও ভীষণ অসুস্থ বোধ করেছেন বলেও জানান তিনি।

একজন শিল্পীর পেশাগত সিদ্ধান্ত নিয়ে মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু ব্যক্তিগত পরিসরে এমন আঘাত তিনি মেনে নিতে পারছেন না, এই কথাই তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে। প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্য সরকারের একটি অনুষ্ঠানে ‘উন্নয়নের পাঁচালী’ গান পরিবেশন করা নিয়ে তাঁকে নানান সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, একজন পেশাদার গায়িকা হিসেবে বিভিন্ন ধরনের গান গাওয়া তাঁর কাজেরই অংশ। রবীন্দ্রসঙ্গীত থেকে প্লেব্যাক, আঞ্চলিক ভাষার গান, সবই তাঁর পেশার পরিধির মধ্যে পড়ে।

কিন্তু সেই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে যে তীব্র আক্রমণ এসেছে, তা ব্যক্তিগত জীবন পর্যন্ত পৌঁছে যাবে, তা তিনি ভাবেননি। তাঁর প্রশ্ন, তিনি কোথায় গান গাইবেন বা কী পরবেন, তা নির্ধারণ করার অধিকার অন্যের কেন থাকবে? লাইভে এসে ইমন আরও বলেন, তিনি কখনও ঘৃণা ছড়ানোর চেষ্টা করেননি। বরং সংগীতের মাধ্যমেই মানুষের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করেছেন। তবু কেন এত বিদ্বেষ জমা হচ্ছে, সেটাই তাঁর কাছে বিস্ময়ের। ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ, সম্পর্ক বা জীবনযাপন নিয়ে মন্তব্য করার প্রবণতা তাঁকে গভীরভাবে আঘাত করেছে।

কেউ তাঁর গান শুনতে না চাইলে সেটাও তিনি মেনে নিতে প্রস্তুত, কিন্তু অপমান ও বিদ্বেষকে স্বাভাবিক বলে মেনে নেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। তিনি নেটিজেনদের কিছু কটাক্ষ তুলে ধরেন। যেমন, “আপনার মাকে ডাকুন, এসে দেখুক যে মেয়ে কেমন চটি চেটে বঙ্গবিভূষণ পেয়েছে আর খুব তাড়াতাড়ি নোবেলও পাবে!” এরপর তিনি স্পষ্ট করেন, বর্তমান সময়ে কাজের সূত্রে সমাজ মাধ্যম এড়িয়ে যাওয়া যায় না। তাই ইনস্টাগ্রাম বা ফেসবুকে তাঁর পেশাগত উপস্থিতি থাকবে, নতুন গান বা কাজের খবর তিনি দেবেন।

আরও পড়ুনঃ “আমি চ্যালেঞ্জ করছি, টলিউড কোনও ইন্ডাস্ট্রি নয়!” পেনশন-চিকিৎসা সুরক্ষা নেই, শিল্পীদের ইচ্ছাকৃতভাবে রাজনীতিতে টেনে কাজ বন্ধের অভিযোগ! ইন্ডাস্ট্রি নয় বরং ‘ট্রেডিং প্লেস’, বিস্ফো*রক অভিযোগ পাপিয়া অধিকারীর!

তবে ব্যক্তিগত অনুভূতি বা জীবন আর সেখানে ভাগ করে নেবেন না। এই সিদ্ধান্তে হয়তো আক্ষেপ আছে, কিন্তু তার চেয়েও বেশি আছে নিজের মানসিক শান্তি রক্ষা করার তাগিদ। দীর্ঘদিন ধরে অনুরাগীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখলেও এবার সেই দরজাটা তিনি খানিকটা ভেজাতে চাইছেন। কারণ তাঁর মতে, শিল্পী হিসেবে টিকে থাকতে গেলে প্রথমে মানুষটাকে সুস্থ থাকতে হয়। তাই আপাতত নিজেকে আগলে রাখাই তাঁর কাছে সবচেয়ে জরুরি। আপনারা কি গায়িকার সিদ্ধান্তের সঙ্গে সহমত?

You cannot copy content of this page