বাংলা চলচ্চিত্র মহলে বড় বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এবার ইমপা অফিস। গত কয়েক দিন ধরে ইমপা সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত ও বিভিন্ন প্রযোজকদের মধ্যে দফায় দফায় বৈঠক চলছিল। আজ, ২২ মে সমস্ত সদস্যদের নিয়ে চতুর্থ সাধারণ বৈঠকের ডাক দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বৈঠক শুরু হওয়ার আগেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ইমপা অফিসে ব্যাপক বচসা ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগ ওঠে। পিয়া সেনগুপ্তের দাবি, যাঁরা সংগঠনের সদস্য নন, তাঁরাও বৈঠকে উপস্থিত হন। সেই নিয়েই শুরু হয় গোলমাল। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয় যে বৈঠক কার্যত ভেস্তে যায়। টলিউডের প্রযোজক মহলে এই ঘটনা ঘিরে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
ঘটনার পর পিয়া সেনগুপ্ত সরাসরি অভিযোগ করেন, তাঁকে অপমান করা হয়েছে এবং কয়েক জন তাঁর দিকে তেড়ে আসেন। তিনি বিশেষ ভাবে পরিচালক অতনু বোসের নামও উল্লেখ করেন। পিয়ার কথায়, “আমার সঙ্গে অভব্য আচরণ করেন। তেড়ে আসেন। ওঁদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কাছে যাব। আমি অনেক সহ্য করেছি, আর নয়।” তিনি জানান, এই ঘটনার পরে পুলিশের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও ভাবছেন। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সদস্য পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত উত্তেজনা কমেনি। ইমপা অফিসের ভেতরে এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় শিল্প মহলের অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। সংগঠনের ভবিষ্যৎ নিয়েও উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন।
আরও পড়ুন: “এই রাজ্য রে’প কালচার প্রোমোট করেছিল, প্রশাসন, পুলিশ সবাই মিলে…” “ক্রিমি’নালরা জানত অপরাধ করেও ছাড়া পেয়ে যাবে, কুণাল ঘোষ আর দেবাংশু….” আরজি কর মামলায় নয়া মোড়! অভয়া কাণ্ডের তদন্তে নতুন সিট গঠন হতেই, কোন তথ্য ফাঁস করলেন শ্রীলেখা মিত্র?
এই বিতর্কের পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৈরি হওয়া অস্থিরতা। রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ইমপা সভাপতি পিয়া সেনগুপ্তের পদত্যাগের দাবিতে সরব হন পরিবেশকদের একাংশ। তাঁদের মধ্যে অন্যতম পরিবেশক শতদীপ সাহা। বৃহস্পতিবার তিনি নিজের সমাজ মাধ্যমে এই বৈঠকের কথা ঘোষণা করেছিলেন। বাংলা সিনেমার পিআর গোষ্ঠীর একাংশও বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা জানিয়েছিলেন। ঠিক সময়েই বৈঠকে পৌঁছন পিয়া সেনগুপ্ত। পাশাপাশি অভিনেতা জিৎ-এর প্রযোজনা সংস্থার তরফে গোপাল মদনানিও উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়াও এনা সাহা, অনুপ সেনগুপ্ত, সমীরণ দাস-সহ টলিউডের একাধিক পরিচিত মুখ এ দিনের বৈঠকে যোগ দেন।
অন্য দিকে বিরোধীপক্ষের প্রযোজকদের দিক থেকে উপস্থিত ছিলেন শতদীপ সাহা, রতন সাহা, মিলন ভৌমিক, কৃষ্ণ দাগা-সহ আরও অনেকে। পিয়ার অভিযোগ, তাঁরাই প্রথম বচসা শুরু করেন। যদিও শতদীপ সাহা পরিস্থিতি সামাল দিয়ে বৈঠক করার জন্য বার বার অনুরোধ জানান। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকেই বিক্ষুব্ধ প্রযোজকদের একাংশ অভিযোগ করে আসছেন, ইমপা নাকি দীর্ঘদিন তৃণমূল কংগ্রেসের ঘনিষ্ঠ জায়গা হয়ে উঠেছিল। শুধু তাই নয়, নতুন সরকার গঠনের পর শতদীপ সাহা ও তাঁর সমর্থকেরা গঙ্গাজল ছিটিয়ে ইমপা অফিস ‘শুদ্ধ’ করেছিলেন বলেও জানা যায়। সেই সময় থেকেই পিয়ার পদত্যাগের দাবি আরও জোরালো হতে শুরু করে।
পিয়া সেনগুপ্তের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও তুলেছেন বিরোধীপক্ষের একাংশ। পাশাপাশি প্রাক্তন ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। যদিও পিয়া এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। বৃহস্পতিবারের বৈঠকেও কোনও সমাধান সূত্র বের হয়নি। ফলে টলিপাড়ার প্রযোজকদের সংগঠনের নেতৃত্ব নিয়ে জট আরও বেড়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন প্রশ্ন উঠছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে কি শেষ পর্যন্ত সরকারি হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হবে? টলিউডের অন্দরমহলে এই নিয়েই শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা।






