২০১৫ সালের একটি পুরনো সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে ফের নতুন করে বিতর্কে জড়ালেন তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষ (Saayoni Ghosh)। সেই পোস্টে একটি গ্রাফিক ছবি দেখা গিয়েছিল, যেখানে এক নারীকে শিবলিঙ্গের উপর কন্ডোম পরাতে দেখা যায়। ছবির মধ্যে লেখা ছিল, “বুলাদির শিবরাত্রি”। যদিও বিষয়টি প্রথম বড় আকার নেয় ২০২১ সালে। সেই সময় থেকেই সায়নী দাবি করে আসছেন, পোস্টটি তিনি নিজে করেননি। তাঁর কথায়, সেই সময়ে তাঁর এক্স হ্যান্ডল হ্যাক হয়ে থাকতে পারে। পাঁচ বছর পর ফের সেই পুরনো পোস্ট ভাইরাল হতেই নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমাজমাধ্যমেও এই নিয়ে তুমুল চর্চা চলছে।
এই বিতর্ক ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হিন্দু সমাজের একাংশ। কয়েকটি ভাইরাল পোস্টে সায়নীর বিরুদ্ধে কড়া মন্তব্যও করা হয়েছে। এমনকি কোথাও কোথাও তাঁর মাথার দাম “১ কোটি টাকা” বলেও দাবি করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সংবাদ মাধ্যমের সামনে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন তৃণমূল সাংসদ। সায়নী বলেন, “প্রথমত এটা আমি করিনি। আমি বহুবার এটা বলেছি। শুধু তাই নয়, জনসম্মুখে আমি ক্ষমাও চেয়েছিলাম সেই ২০২১ সালেই। কেউ চায় না কারও ধর্মকে অপমান করতে। আমি নিজেও তো হিন্দু।” তাঁর বক্তব্য, বিষয়টি নিয়ে তাঁকে ভুলভাবে টার্গেট করা হচ্ছে। একইসঙ্গে তিনি জানান, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার কোনো উদ্দেশ্য তাঁর কখনও ছিল না।
ঘটনাটি নিয়ে আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে সায়নী বলেন, “২০১৫ সাল নাগাদ ২২ বছর বয়স ছিল আমার। সবে সবে টুইটার এসেছিল। না আমি আমার হ্যান্ডেল থেকে পোস্ট করেছিলাম, না কার্টুনটা আমি বানিয়েছিলাম। কারও পিছনে যেতে হলে, যে কার্টুন বানিয়েছে তাঁর পিছনে যাও।” তিনি আরও বলেন, “যখন আমার সামনে এই ব্যাপারটা এল, ২০২১ সালে ৭ বছর বাদে। সঙ্গে সঙ্গে ওই পোস্টটা সরানো হল। আমি ক্ষমাও চাইলাম।” তাঁর দাবি, বিষয়টি নিয়ে আগেই তিনি নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তবুও এত বছর পর আবার এই পোস্ট সামনে এনে তাঁকে বিতর্কে টানার চেষ্টা হচ্ছে বলেই মনে করছেন তিনি। এই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
সায়নীর অভিযোগ, তাঁকে ভয় দেখিয়ে চুপ করিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, “এখন এত বছর পর, আমাকে ভয় দেখিয়ে রাখার চেষ্টা হচ্ছে, যাতে আমি দরকারি বিষয় নিয়ে কথা না বলি।” পাশাপাশি বিজেপির বিরুদ্ধেও সরব হয়েছেন তিনি। সায়নী বলেন, “জনসম্মুখে বলছে সায়নী ঘোষের মাথা কাটলে ১ কোটি টাকা, বিজেপির চেয়ারম্যানই বলছে। এদিকে বিজেপি মুখে নারীদের সম্মানের কথা বলছে!” এছাড়াও তাঁর নাম অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে জড়িয়ে নানা দাবি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত তাঁর কাছে কোনো সরকারি নোটিস আসেনি বলেও জানান সাংসদ। তাঁর দাবি, বিজেপির আইটি সেল ইচ্ছাকৃতভাবেই এই ইস্যুকে সামনে আনছে।
আরও পড়ুনঃ “আমায় ডেকেছিল, সরাসরি না বলেছি তাতেও কাজ হারাইনি” “সবাই শুধু ভয়ে মঞ্চে যাননি, কেউ কেউ দলের কাছাকাছি পৌঁছতেও চেয়েছেন” টলিউড শিল্পীদের ‘ভয়ে রাজনীতি’ তত্ত্বে ভিন্ন সুর ঋত্বিক চক্রবর্তীর! বিরোধিতা করেও, বিজেপি সরকারের কাছে কী দাবি জানালেন তিনি?
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে এই পোস্টকে কেন্দ্র করে প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায় রবীন্দ্র সরোবর থানায় সায়নী ঘোষের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। সেই সময় বিষয়টি নিয়ে প্রবল রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। একই বছর আসানসোল দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রার্থী হন সায়নী, যদিও বিজেপির অগ্নিমিত্রা পালের কাছে পরাজিত হন তিনি। এরপরও রাজনীতি থেকে সরে যাননি অভিনেত্রী। বরং ২০২১ সালের জুন মাসে তাঁকে পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল যুব কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি করা হয়। পরে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে যাদবপুর কেন্দ্র থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হন তিনি। ফলে পুরনো বিতর্ক ফের সামনে আসায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।






