জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ঝিলম গুপ্তকে নিয়ে অবশেষে এল স্বস্তির খবর। ছোটপর্দার রিয়্যালিটি শো ‘বিগ বস বাংলা’র প্রতিযোগী হিসেবেও দর্শকদের মধ্যে বেশ পরিচিতি তৈরি করেছিলেন তিনি। তবে শোয়ের অন্দরে নিজের খেলা চালিয়ে যাওয়ার মাঝেই শারীরিক অসুস্থতার কারণে আচমকাই প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়াতে হয়েছিল তাঁকে। দীর্ঘদিন ধরেই শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন ঝিলম। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছিল যে চিকিৎসকদের পরামর্শে অস্ত্রোপচার করানো জরুরি হয়ে পড়ে। বিগ বসের ঘর থেকে বেরিয়ে আসার পর তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে চিন্তায় ছিলেন অনুরাগীরা। দুর্গাপুজোর সময় অবশ্য বন্ধুদের সঙ্গে তাঁকে বেশ আনন্দ করতেও দেখা গিয়েছিল। কিন্তু উৎসবের আনন্দের আড়ালে চলছিল শারীরিক অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই। পুজো মিটতেই নিজের অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছিলেন তিনি।
বাড়ি ফেরার পর থেকেই ঝিলমের চিকিৎসা নিয়ে নানা খবর সামনে আসতে থাকে। এর মধ্যেই কলকাতার এসএসকেএম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগে সাধারণ মানুষের মতো দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে চিকিৎসার টিকিট কাটতে দেখা যায় তাঁকে। পরিচিত মুখ হওয়া সত্ত্বেও কোনও বিশেষ সুবিধা না নিয়ে সাধারণ রোগীদের মতো লাইনে দাঁড়ানোর ঘটনায় তাঁর সরলতার প্রশংসা করেছিলেন অনুরাগীরা। তবে একই সঙ্গে তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছিল। কবে অস্ত্রোপচার হবে এবং তিনি কতটা সুস্থ রয়েছেন, তা জানার অপেক্ষায় ছিলেন অনেকেই। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটালেন ঝিলম নিজেই। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে নিজের একটি ছবি সমাজ মাধ্যমে পোস্ট করে অস্ত্রোপচারের খবর জানিয়েছেন তিনি। ছবির সঙ্গে দেওয়া ক্যাপশনে স্পষ্ট করে লিখেছেন, “অপারেশন সফল!” তাঁর এই ঘোষণায় স্বস্তি ফিরেছে অনুরাগীদের মধ্যে।
তবে অস্ত্রোপচার সফল হলেও এখনও পুরোপুরি যন্ত্রণামুক্ত নন ঝিলম। নিজের পোস্টে তিনি জানিয়েছেন, পেটে অতিরিক্ত মাত্রায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে সেই সমস্যার কারণে তাঁকে যথেষ্ট কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। অস্ত্রোপচারের পরেও পেটের ব্যথা এখনও পুরোপুরি কমেনি। কিন্তু শারীরিক যন্ত্রণার মধ্যেও নিজের মানসিক জোর হারাতে নারাজ তিনি। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে দেওয়া ছবিতে তাঁর হাতে স্যালাইনের চ্যানেল লাগানো অবস্থায় দেখা গিয়েছে। চুলও কিছুটা এলোমেলো, মুখে স্পষ্ট শারীরিক ধকলের ছাপ। তবু পরিচিত হাসিমুখে ক্যামেরার সামনে পোজ দিয়েছেন ঝিলম। তাঁর এই ছবি দেখে অনুরাগীরা যেমন তাঁর শারীরিক অবস্থার কিছুটা ধারণা পেয়েছেন, তেমনই তাঁর মনের জোরও নজর কেড়েছে। কঠিন পরিস্থিতিতেও হাসিমুখে থাকার চেষ্টা করছেন এই জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর।
নিজের অস্ত্রোপচারের পাশাপাশি চিকিৎসকদের প্রতিও বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ঝিলম। কলকাতার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অধ্যাপক চিকিৎসক সিদ্ধার্থ বিশ্বাসের তত্ত্বাবধানে তাঁর অস্ত্রোপচার হয়েছে। অপারেশন থিয়েটারে চিকিৎসক সিদ্ধার্থ বিশ্বাসের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আত্রেয় সরকার, বিদিশা দে এবং ঋতব্রত ঘোষ। এ ছাড়াও চিকিৎসক প্রসেনজিৎ মুখোপাধ্যায়ের কথা আলাদা করে উল্লেখ করেছেন তিনি। এই চিকিৎসকদের কাছেই আজীবন কৃতজ্ঞ থাকবেন বলে জানিয়েছেন ঝিলম। তাঁর কথায়, চিকিৎসকদের দেওয়া সাহস ও ভরসাতেই তিনি আবার উঠে বসতে পেরেছেন। হাতে চ্যানেল লাগানো অবস্থায় ছবিতে পোজ দেওয়ার পিছনেও চিকিৎসকদের উৎসাহ কাজ করেছে। শুধু চিকিৎসকরাই নন, এই কঠিন সময়ে পাশে থাকা কাছের বন্ধু পৌলমী বসাককেও বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। ঝিলমের কথায়, পৌলমী পাশে না থাকলে হয়তো সঠিক সময়ে তাঁর পক্ষে অপারেশন টেবিল পর্যন্ত পৌঁছনো সম্ভব হত না।
আরও পড়ুনঃ “তিরিশ বছরে কাঞ্চন ইন্ডাস্ট্রিকে কিছু দেয়নি, শুধু তিনটে বউ দিয়েছে!” “প্রথম বউয়ের সঙ্গে ওঁর এখনও যোগাযোগ আছে”, তিন দশকের অভিনয় জীবনে তিনবার বউ বদল! প্রথম দাম্পত্যে মেয়ে হলে তাঁর বয়সও হতো শ্রীময়ীর মতো? কাঞ্চনের অতীত নিয়ে একি বলে ফেললেন শ্রীময়ী চট্টোরাজ? কচি বউয়ে কথায় চর্চা তুঙ্গে!
পৌলমীর পাশাপাশি এই কঠিন সময়ে যাঁরা নিয়মিত তাঁর খোঁজ নিয়েছেন এবং পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেকের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ঝিলম। বিশেষ করে নিজের দর্শক ও অনুরাগীদের ভালোবাসার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। শারীরিক অসুস্থতার খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সমাজমাধ্যমে অনেকেই তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন। তাঁদের এই ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা যে ঝিলমের কাছে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ, তা তাঁর পোস্ট থেকেই স্পষ্ট। ঈশ্বরের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি। জীবনের এই কঠিন সময়ে এত ভালো মানুষের সান্নিধ্য পাওয়াকে নিজের সৌভাগ্য বলেই মনে করছেন ঝিলম। উল্লেখ্য, অসুস্থতার কারণে মাঝপথে বিগ বস বাংলার ঘর ছাড়তে হলেও আপাতত তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠা। অস্ত্রোপচার সফল হওয়ার খবরে কিছুটা নিশ্চিন্ত হয়েছেন অনুরাগীরা। এবার দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার নিজের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসুন ঝিলম, সেই প্রার্থনাই করছেন তাঁর শুভানুধ্যায়ীরা।






