“দুই মেয়ের মানসিক স্বাস্থ্যের কথা ভেবেই চুপ ছিলাম, প্রভাবশালী পরিবারে…” স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে সম্পর্কের ইতি, আইনি বিচ্ছেদের পথে স্ত্রী জুঁই! টলিউডের দুর্নীতি প্রসঙ্গে একাধিক তথ্য নিয়ে বি’স্ফোরক কাউন্সিলর!

দক্ষিণ কলকাতার তৃণমূল কাউন্সিলর জুঁই বিশ্বাস এবার প্রকাশ্যে আনলেন তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের বড় সিদ্ধান্ত। দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তিনি জানালেন, স্বামী স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে আইনি বিচ্ছেদের পথে হাঁটছেন তিনি। রাজ্য রাজনীতি এবং টলিউডের অন্দরে দুর্নীতি ও প্রভাবশালী যোগসূত্র নিয়ে যখন একের পর এক বিতর্ক সামনে আসছে, ঠিক সেই সময় এই ঘোষণা ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। দক্ষিণ কলকাতার ৮১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে পরিচিত জুঁই দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বাস পরিবারের বউমা হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। অনেকেই মনে করতেন, স্বরূপ বিশ্বাসের স্ত্রী হওয়ার কারণেই তাঁর রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিচিতি আরও দ্রুত বেড়েছে। যদিও সেই ধারণাকে সবসময়ই অস্বীকার করেছেন জুঁই। এবার তিনি স্পষ্ট করলেন, বহুদিন ধরেই তাঁদের দাম্পত্য সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল।

একান্ত সাক্ষাৎকারে জুঁই বিশ্বাস জানান, এই বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত হঠাৎ করে নেওয়া হয়নি। তাঁর কথায়, “২০১৯ সাল থেকেই আমরা মিউচুয়াল সেপারেশনে রয়েছি।” তিনি জানান, কোভিড পরিস্থিতির কারণে অনেকদিন ঠিকানা বদল করা সম্ভব হয়নি। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরে গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সাল থেকেই তিনি সম্পূর্ণ আলাদা ঠিকানায় থাকতে শুরু করেছেন। জুঁই বলেন, এতদিন বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ না খোলার পিছনে সবচেয়ে বড় কারণ ছিল তাঁদের দুই মেয়ে। তিনি বলেন, “আমাদের দুই মেয়ে রয়েছে। বড় মেয়ে এখন টিনএজের দিকে যাচ্ছে। এই সময়ে আমি ওদের মেন্টাল হেলথকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।” সেই কারণেই ব্যক্তিগত বিষয়কে প্রকাশ্যে আনতে চাননি বলে জানিয়েছেন তিনি।

নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অতিরিক্ত আলোচনা পছন্দ নয় বলেও স্পষ্ট করেছেন জুঁই বিশ্বাস। তিনি বলেন, “এটা তো আমার ব্যক্তিগত জীবন, কোনও বিনোদন চ্যানেল নয়। রোজই তো চারদিকে প্রচুর বিচ্ছেদ হচ্ছে।” পাশাপাশি তাঁর বক্তব্য, সাধারণ মানুষের কাছে এই ব্যক্তিগত তথ্য জানালে কোনও উপকার হবে না বলেই এতদিন নীরব ছিলেন তিনি। জুঁই আরও বলেন, “আমার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে জেনে জনগণের কোনও উপকার হবে না। তাই এটা নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার পক্ষপাতী ছিলাম না।” বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়া চলছে এবং যত দ্রুত সম্ভব সেই প্রক্রিয়া শেষ হোক, সেটাই চান তিনি। তাঁর কথায়, “আইনি প্রক্রিয়া চলছে, যত দ্রুত সম্ভব এটা মিটে যাক, সেটাই চাই।”

সরকার বদল এবং টলিউডে বিশ্বাস পরিবারের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের সঙ্গে এই বিচ্ছেদের কোনও যোগ রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে। এই প্রসঙ্গে জুঁই জানান, ২০১১ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত তৃণমূল সরকারের প্রথম পর্বে অনেক ভালো কাজ হয়েছিল বলেই দল ফের ক্ষমতায় আসে। তবে তাঁর দাবি, “২০১৬ সালের পর থেকে চিত্রটা সাময়িকভাবে বদলে যেতে শুরু করে।” তিনি বলেন, “কিছু ভালো কাজের পাশাপাশি এমন অনেক কাজ হতে থাকে যা মেনে নেওয়া যায় না। আর সেটা আমি মানতে চাইনি। সেই কারণেই আমি ‘অড ম্যান আউট’।” টলিউডে সাম্প্রতিক দুর্নীতি এবং বিশ্বাস পরিবারের নাম জড়ানো প্রসঙ্গে জুঁই সাফ জানিয়েছেন, ২০১৯ সাল থেকেই তিনি ওই পরিবারের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন। ফলে এই সংক্রান্ত নানা রটনা সাধারণ মানুষের মতো তিনিও শুনেছেন মাত্র।

আরও পড়ুনঃ ‘বধূবরণ’ থেকে ‘সাত ভাই চম্পা’ একসময় টিআরপির রানী ছিলেন প্রমিতা চক্রবর্তী! হঠাৎ কেন হারিয়ে গেলেন ছোটপর্দা থেকে? টলিউডের অদৃশ্য চাপ নাকি ইন্ডাস্ট্রির রাজনীতির শি’কার অভিনেত্রী? আবার কবে টেলিভিশনে ফিরবেন তিনি?

ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধেও কড়া অবস্থান নিয়েছেন জুঁই বিশ্বাস। তিনি বলেন, “প্রভাবশালী পরিবারে থাকলেই যে ক্ষমতার অপব্যবহার করতে হবে, তা আমার নৈতিকতার সঙ্গে যায় না।” পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, “সবার নৈতিক চিন্তা আলাদা। আর আমি শুধু আমার কথাই বলতে পারি। অন্যরা কী করছে, সেটা বলতে পারব না।” টলিউডের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও কখনও বিশেষ সুবিধা নেননি বলেও দাবি করেন তিনি। জুঁই জানান, “আমি টলিউডের কোনও প্রিমিয়ার বা পার্টিতে যাইনি। এমনকী, বন্ধুদের সঙ্গে বাংলা সিনেমা দেখতে হলে আমি সবসময় টিকিট কেটেই সিনেমা হলে গিয়েছি।” বিচ্ছেদ নিয়ে এর বেশি কিছু বলতে না চাইলেও তাঁর আশা, খুব দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া শেষ হবে এবং তিনি আবার নিজের কাজের উপর সম্পূর্ণ মন দিতে পারবেন।

You cannot copy content of this page