‘আপনি দু’মাস কোথায় ছিলেন?’ ক্যা*ন্সার রো’গীদের পরিষেবা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই মেজাজ হারালেন জুন মালিয়া! তেড়ে এসে কী জবাব দিলেন মেদিনীপুরের সাংসদ তথা অভিনেত্রী? মুহূর্তে ভাইরাল সেই ভিডিও!

বিধানসভা ভোটের পর মে ও জুন মাসে মেদিনীপুরে তাঁকে দেখা যায়নি বলে প্রশ্ন উঠেছিল বিভিন্ন মহলে। অবশেষে জুলাই মাসে জেলার ‘দিশা’ বৈঠকে যোগ দিতে মেদিনীপুরে পৌঁছন সাংসদ জুন মালিয়া (June Malia)। গত মঙ্গলবারের এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা, পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা, জেলার বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিরা। বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হতেই তাঁর দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন ওঠে। সেই প্রসঙ্গেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন সাংসদ।

প্রায় দু’মাস পর জেলায় আসা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জুন মালিয়া বলেন, “দু’মাস পর এসেছি ঠিকই। কিন্তু আমার ডিএম ও বিধায়কদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। এলাকার মানুষ আমাকে ফোন করেন। কোথাও কোনো সমস্যা হলে আমি জেলা শাসককে জানাই। এলাকার সঙ্গে আমি সবসময়ই যুক্ত আছি।” তাঁর বক্তব্য, শারীরিকভাবে সবসময় উপস্থিত না থাকলেও প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে এলাকার সমস্যার সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছেন। তাই শুধুমাত্র জেলায় না থাকাকে কাজের অভাব হিসেবে দেখা ঠিক হবে না বলেই তাঁর দাবি।

এরপর ক্যা*ন্সার রোগীদের সরকারি সুবিধা পাওয়ার জন্য সাংসদের স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়, সেই বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ ছিল, অনেক সাধারণ মানুষকে নাকি স্বাক্ষরের জন্য কলকাতায় যেতে হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে জুন মালিয়া বলেন, “সব ক্যা*ন্সার রোগীই সার্টিফিকেট পাচ্ছেন। আপনার কাছে হয়তো ভুল তথ্য রয়েছে।” তিনি জানান, প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে কোনও সমস্যা হচ্ছে না এবং রোগীরা সরকারি সুযোগ-সুবিধাও পাচ্ছেন।

সাংসদের স্বাক্ষরের জন্য সাধারণ মানুষকে কলকাতায় যেতে হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নে কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করেন জুন মালিয়া। তিনি বলেন, “এইগুলো তো আপনাকে বলব না, আমি কী করছি বা না করছি। আমার কাছে প্রমাণ আছে, মানুষ চিকিৎসা পাচ্ছেন। নিশ্চয়ই আমার সই করা, ডিএম স্যারের সই করা সার্টিফিকেট ছাড়া হচ্ছে না।” তাঁর দাবি, বাস্তবে মানুষ পরিষেবা পাচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় সমস্ত প্রক্রিয়াই নিয়ম মেনেই সম্পন্ন হচ্ছে।

এই ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক মাধ্যমেও শুরু হয়েছে নানা প্রতিক্রিয়া। এক মেদিনীপুরবাসী বলেন, ‘সাংসদ এসেছেন শুনে খুশি হয়েছি। উনি মেদিনীপুরের মেয়ে বলতেন নিজেকে। আসবেন হয়তো আবার। মানুষ ভোট দিয়েছে, কাজ চায়। ওঁকে তো টিভি সিরিয়ালে দেখাই যায়।’ অর্থাৎ এলাকার মানুষের একাংশের আশা, নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে জুন মালিয়াকে আরও বেশি সময় এলাকায় দেখা যাবে এবং উন্নয়নের কাজেও সক্রিয় ভূমিকা নেবেন।

আরও পড়ুনঃ ‘আজ সবাই আছে, সময় এলে বদলেও যাবে…খালি তুমি হাত ছেড়ো না বাবা’ আমেরিকায় গিয়ে চরম শারীরিক দুর্ভো’গ! সেই এক ঘটনার পরই বদলে যায় ইমন চক্রবর্তীর জীবন, কীভাবে আধ্যাত্মিকতার পথে হাঁটলেন গায়িকা? ‘বাবা’কে স্মরণ করে আবেগঘন পোস্টে নিজেই জানালেন সবটা?

অন্যদিকে, এই বৈঠক নিয়ে মন্তব্য করেছেন মেদিনীপুরের বিধায়ক শংকর গুছাইতও। তাঁর দাবি, বর্তমান প্রশাসনিক ব্যবস্থায় সব জনপ্রতিনিধিকে একসঙ্গে নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘তৃণমূল জামানায় আমাদের জনপ্রতিনিধিদের ডাকা হতো না। এখন আমরা সবাইকে নিয়ে কাজ করছি।’ ফলে ‘দিশা’ বৈঠককে ঘিরে যেমন প্রশাসনিক আলোচনার বিষয় সামনে এসেছে, তেমনই জুন মালিয়ার দীর্ঘদিন পর মেদিনীপুর সফরও নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

You cannot copy content of this page