টলিপাড়ার অন্যতম চর্চিত দম্পতি কাঞ্চন মল্লিক এবং শ্রীময়ী চট্টোরাজ। প্রেম থেকে বিয়ে, তারপর সংসার—তাঁদের সম্পর্কের প্রতিটি মুহূর্তই আলোচনার কেন্দ্রে থেকেছে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন তাঁরা, আর সেই বছরের নভেম্বরেই তাঁদের কোলজুড়ে আসে কন্যা কৃষভি। এখন ছোট্ট মেয়ের বয়স প্রায় দেড় বছর। মাঝেমধ্যেই মেয়ের ছবি ও ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাগ করে নেন এই তারকা দম্পতি, আর তাতেই ভালোবাসায় ভরিয়ে দেন অনুরাগীরা। এবারও তার ব্যতিক্রম হল না। তবে এবার চমকটা একটু আলাদা, কারণ কৃষভির জীবনে এসেছে এক নতুন ভাই।
সম্প্রতি শ্রীময়ী একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন, যেখানে দেখা যাচ্ছে কাঞ্চন মেয়ের জন্য একগুচ্ছ কেনাকাটা করে বাড়ি ফিরেছেন। খেলনা আর জামাকাপড়ের সঙ্গে ছিল একটি ছেলে পুতুল। সেটিই নাকি কৃষভির নতুন ভাই। পুতুলটি হাতে পেয়েই আনন্দে আটখানা খুদে। কখনও তাকে আদর করছে, কখনও চুমু খাচ্ছে, আবার কখনও ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করছে। এমনকি খাবার খাওয়ানোর ভানও করছে সে। পুতুলটি হাতে তুলে দেওয়ার সময় শ্রীময়ীর মুখে শোনা যায় মিষ্টি কথা, তোমার জন্য ভাই এনেছি। পরিবারের এই সরল আনন্দের মুহূর্ত দেখে নেটিজেনরাও মুগ্ধ।
মেয়ে অন্ত প্রাণ কাঞ্চন, সে কথা নতুন নয়। শ্রীময়ী মাঝেমধ্যেই মজা করে বলেন, মেয়ের জন্য কেনাকাটায় একেবারেই কার্পণ্য করেন না তিনি। জামাকাপড় থেকে খেলনা, প্রয়োজনের আগেই সবকিছু হাজির হয়ে যায় বাড়িতে। যদিও এই কারণেই সমাজমাধ্যমে মাঝে মাঝে কটাক্ষের মুখেও পড়তে হয় তাঁকে। নেটপাড়ার একাংশের দাবি, দ্বিতীয় বিয়ে থেকে জন্মানো ছেলে ওশের প্রতি নাকি দায়িত্বজ্ঞানহীন তিনি। এই অভিযোগ নিয়েই দীর্ঘদিন ধরেই চর্চা চলছে।
যদিও ট্রোলকে বিশেষ গুরুত্ব দেন না কাঞ্চন। তবে একাধিকবার প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, ছেলেকে ভুলে থাকার প্রশ্নই ওঠে না। ওশের জন্মদিনে তাঁর মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করেন তিনি। বহুবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন অভিনেতা বিধায়ক। তাঁর বিশ্বাস, সময়ের সঙ্গে সব ভুল বোঝাবুঝি মিটে যাবে এবং ছেলে একদিন বাবাকে বুঝতে পারবে। ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন সত্ত্বেও দায়িত্ব থেকে সরে যাননি বলেই দাবি তাঁর।
আরও পড়ুনঃ “ওকে এভাবে দেখতে পারি না…আমার বউয়ের কষ্ট চোখে দেখা যায় না!” স্ত্রীর যন্ত্রণায় কাতর, শ্বেতাকে কোন অবস্থায় দেখে ভেঙে পড়লেন রুবেল?
প্রসঙ্গত, বিচ্ছেদের পর দ্বিতীয় স্ত্রী ও ছেলের ভরণপোষণের জন্য ৫৬ লক্ষ টাকা দিয়েছেন কাঞ্চন। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিতর্ক থাকলেও মেয়েকে ঘিরে তাঁর উচ্ছ্বাস স্পষ্ট। কৃষভির ছোট্ট ভাই পাওয়া আর তাকে ঘিরে খুনসুটি যেন আবারও প্রমাণ করল, আলোচনার বাইরে গিয়ে এই পরিবারে রয়েছে হাসি আর ভালবাসার একান্ত নিজস্ব জগৎ। সেই ঝলকই আবার মন জিতল অনুরাগীদের।






