টলিপাড়ায় আজ ‘কাঞ্চন মল্লিক’ (Kanchan Mullick) এবং ‘শ্রীময়ী চট্টোরাজ’-এর (Sreemoyee Chattoraj) সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। কাজের বাইরে তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন বারবার উঠে এসেছে চর্চার কেন্দ্রে আর সেই চর্চার সুর সব সময় সদর্থক ছিল, এমনটা বলা যায় না। বছর দুয়েক আগে বিয়ে করলেও, ১২ বছর আগেই আলাপ থেকে বন্ধুত্ব হয়ে ভালোবাসার পথ পেরিয়েছেন তাঁরা। কিন্তু এই সম্পর্কের শুরু থেকেই শ্রীময়ীকে ঘিরে যে ধরনের কটাক্ষ আর অবমাননাকর মন্তব্য চলেছে, তা সম্প্রতি তাঁর মুখেই উঠে এল আরও একবার। কথাগুলো শুনলে অস্বস্তি হওয়াই স্বাভাবিক, কারণ সেখানে প্রশ্ন তোলা হয়েছে একজন নারীর পরিচয়, সম্মান এবং ব্যক্তিস্বাধীনতা নিয়ে!
এদিন শ্রীময়ীর বক্তব্যে স্পষ্ট, কাঞ্চনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের সময় ইন্ডাস্ট্রিরই কিছু মানুষ তাঁকে এমনভাবে চিহ্নিত করতেন, যেন তিনি একজন মানুষ নন, কারও ‘সম্পত্তি!’ কোথাও একসঙ্গে গেলে কানে আসত ‘কাঞ্চনের মাল’ এই ধরনের শব্দ! শ্রীময়ী জানিয়েছেন, কথাগুলো শুনতে যেমন খারাপ লাগে, তেমনই অবাকও লাগে যে এই মন্তব্যগুলো আসত কাঞ্চনের ঘনিষ্ঠ মহল থেকেই! মজার বিষয়, শ্রীময়ীর কথায় যাঁরা তখন এই ভাষা ব্যবহার করতেন, তাঁরাই আজ নৈতিকতার প্রশ্ন তুলে প্রতিবাদে সরব! শ্রীময়ীর চোখে এই বদলে যাওয়া অবস্থান একদিকে স্বস্তির, অন্যদিকে তীব্র ভণ্ডামির উদাহরণ।
তিনি আরও বলেন, শুধুমাত্র কাঞ্চনের সঙ্গে নাম জড়ানোর কারণেই তাঁকে বিচার করা হয়েছে। কারও পার্টিতে গিয়ে শুনতে হয়েছে কটাক্ষ, ‘আর কটা হবে কাঞ্চনদা!’ যা আসলে সরাসরি আঘাত করেছে তাঁর ব্যক্তিত্বে। কাঞ্চনকে নিয়ে রসিকতা এক বিষয়, কিন্তু সেই সূত্রে একজন মহিলাকে এইভাবে ছোট করে দেখা, তাঁর চরিত্র নিয়ে ইঙ্গিত করার মানসিকতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন শ্রীময়ী। সহজ ভাষায় এবং শান্ত গলায় তিনি যা বলেছেন, তার মধ্যেই লুকিয়ে আছে দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষত আর ক্লান্তি।
শুধু ইন্ডাস্ট্রি নয়, সম্পর্কের শুরুর দিকে শ্রীময়ীকে বুঝতে পারেনি তাঁর নিজের পরিবারও! এমনকি মায়ের কাছ থেকেও তাঁকে শুনতে হয়েছে কঠিন কথা, ‘অন্যের সংসার ভাঙার অভিযোগ’। তবে কাঞ্চনের দাবি, তাঁর আগের দাম্পত্য জীবনে সমস্যা অনেক আগেই শুরু হয়েছিল, আর ব্যক্তিগত জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ে তিনি একাই ছিলেন। সেই সময় পাশে দাঁড়িয়েছিলেন শ্রীময়ী। আজ তাঁদের সম্পর্ক আইনি স্বীকৃতি পেয়েছে, কিন্তু অতীতের কটাক্ষ, অপমান আর ভুল বোঝাবুঝির দাগ এখনও রয়ে গেছে।
আরও পড়ুনঃ “একটা সময় খুব ভেঙে পড়েছিলাম, আর পারছিলাম না” কেরিয়ারের শুরুতেই গলায় ধরা পড়ে টিউমার! অস্ত্রোপচারের ঝুঁকি থেকে একাকীত্বের লড়াই পেরিয়ে আজ নতুন পথে শ্রেষ্ঠা প্রামাণিক! এখন কেমন আছেন অভিনেত্রী?
শ্রীময়ীর কথায় সেই দাগেরই ছায়া গভীরভাবে মানবিক। এই প্রসঙ্গে কাঞ্চন, স্ত্রীর অভিজ্ঞতার সূত্র ধরেই বলেছেন যে জীবনের অনেক না বলা কথা হয়তো একদিন বইয়ের পাতায় উঠে আসবে। তবে সেই বই এখনই নয়, তাঁর কথায় সেই বইয়ে নিজের জীবন নিয়ে সব সত্যি কথা তিনি লিখে যেতে চান, কিন্তু তা প্রকাশ পাবে তাঁর মৃ’ত্যুর পর! কথার ফাঁকে ফাঁকে তিনি মনে করিয়ে দেন পুরনো প্রবাদ, “অন্যর দিকে আঙুল তুললে, নিজের দিকেও চারটে আঙুল থাকে।” এই মন্তব্যে স্পষ্ট, কটাক্ষ আর নৈতিকতার মুখোশ নিয়ে তাঁরও ক্ষোভ কম নয়।






