বাংলা বিনোদন জগতের তারকাদের একটা বড় অংশই গত কয়েক বছরে সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। অভিনেতা-অভিনেত্রী থেকে শুরু করে গায়ক, পরিচালক বিনোদন জগতের বহু পরিচিত মুখকে ভোটের ময়দানেও দেখা গিয়েছে। কেউ জনপ্রতিনিধি হয়েছেন, কেউ আবার রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন। ফলে পর্দার তারকাদের রাজনৈতিক অবস্থান, দলবদল এবং বিভিন্ন সময়ে তাঁদের নেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়েও সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েই নিজের মতামত জানাতে গিয়ে সরব হয়েছেন অভিনেতা কৌশিক সেন।
তৃণমূল সরকারের দীর্ঘ সময়ের শাসনের পর রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল হয়ে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরই দলবদলের ছবিও সামনে এসেছে। তৃণমূলের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত থাকা বেশ কয়েকজন নেতা-নেত্রী দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন বা বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। এমনকি নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক এবং রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতেই এতদিন যে দলের হয়ে সাধারণ মানুষের কাছে ভোট চেয়েছেন, ক্ষমতার পরিবর্তনের পর তাঁদের অবস্থান বদলানো কতটা যুক্তিসঙ্গত সেই প্রশ্নই তুলেছেন কৌশিক সেন। কৌশিক সেনের কথায়, আগের প্রজন্ম যে সুযোগ বা রাজনৈতিক অধিকার পেয়েছিল, তা তাঁরা নিজেদের লোভের কারণেই হারিয়েছেন।
তাঁর বক্তব্য, এর অন্য কোনও ব্যাখ্যা তিনি খুঁজে পান না। টালিগঞ্জের তারকা-রাজনীতিকদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘‘এরা রাতে ঘুমোয় কী করে?’’ তাঁর যুক্তি, কোনও একজন জনপ্রতিনিধি যে কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হয়েছেন, সেখানে সাধারণ মানুষের ভোট নিয়ে দায়িত্ব পালন করা তাঁর কর্তব্য। অথচ ভোটের সময় নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে কথা বলে মানুষের ভোট নেওয়ার পর পরবর্তীকালে তাঁর সঙ্গেই হাসিমুখে বসে থাকা কতটা নৈতিক সেই প্রশ্নই তুলেছেন তিনি। যদিও তিনি কারও নাম সরাসরি করেননি। তাঁর বক্তব্যের নিশানায় রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়, জুন মালিয়া, সায়নী ঘোষ-সহ দলবদল করা একাধিক তারকা-রাজনীতিক রয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
শুধু তারকা-রাজনীতিকদের অবস্থান নয়, নিজের অভিনয়জীবনের কঠিন সময় নিয়েও ওই সাক্ষাৎকারে মুখ খুলেছেন কৌশিক সেন। তিনি জানান, তাঁর ছেলে ঋদ্ধি সেনকে নিয়ে একসময় ফেডারেশনের তরফে চাপ তৈরি হয়েছিল। ঋদ্ধিকে কাজে নেওয়া হলে তাঁরা কাজ করবেন না এমন কথাও তাঁকে জানানো হয়েছিল বলে দাবি করেন কৌশিক। সেই পরিস্থিতিতে তিনি প্রবল আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। তাঁর কথায়, তখন তিনি শুধু একজন অভিনেতা ছিলেন না, একজন বাবা হিসেবেও বিষয়টি দেখছিলেন। পরিস্থিতির চাপে তিনি অভিনয় ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন এবং মানসিকভাবে অত্যন্ত ভেঙে পড়েছিলেন বলে জানান।
আরও পড়ুনঃ “ওঁনাকে দেশনায়ক বলার নেপথ্যে নিশ্চয়ই একটা কারণ আছে, ইতিহাস না পড়েই যদি এমন বলেন…” নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে বিজেপি সাংসদ অনন্ত মহারাজের মন্তব্যে ক্ষো’ভ উগরে দিলেন ছোটপর্দার ‘নেতাজি’ অঙ্কিত মজুমদার! প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলেই কি সব দাগ মুছে যায়? সারা বিশ্বে সমাদৃত ব্যক্তিত্বের অবমাননায় গর্জে উঠে কী বললেন অভিনেতা?
কৌশিক সেনের এই মন্তব্য ঘিরে ফের আলোচনায় এসেছে টালিগঞ্জের তারকাদের রাজনীতি এবং তাঁদের রাজনৈতিক অবস্থানের ধারাবাহিকতা। ভোটের আগে এক দলের হয়ে প্রচার করা এবং ক্ষমতার সমীকরণ বদলানোর পর অন্য রাজনৈতিক শিবিরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এই প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন নতুন নয়। তবে কৌশিকের মন্তব্য সেই বিতর্ককেই আরও সামনে এনে দিয়েছে। বিশেষ করে তিনি যখন সরাসরি কারও নাম না নিয়ে তারকা-রাজনীতিকদের ভূমিকা এবং তাঁদের নৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, তখন তাঁর বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহল থেকে বিনোদন জগত দুই ক্ষেত্রেই নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।






