টলিপাড়ায় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল মৃত্যুতে ধাক্কা লেগেছে পুরো ইন্ডাস্ট্রিকে। রাহুলের মৃত্যুর পর এই প্রযোজনা সংস্থা, ম্যাজিক মোমেন্টস মোশন পিকচার্সের সঙ্গে আর কোনও শিল্পী বা টেকনিশিয়ান কাজ করবেন না বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই ঘোষণার ফলে সংস্থার সব চলমান ধারাবাহিকের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বিশেষত ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ এবং ‘চিরসখা’ ধারাবাহিকের ফ্যানদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে, যে ধারাবাহিকগুলি দীর্ঘদিন ধরে দর্শকদের সঙ্গে পরিচিত।
এর আগে ২৯ মার্চ ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং চলাকালীন তালসারির সমুদ্রে রাহুলের মৃত্যু ঘটে। ঘটনার পর থেকেই শিল্পী ও টেকনিশিয়ানদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। প্রযোজনা সংস্থা বিভিন্ন বক্তব্যে বিভ্রান্তি তৈরি করায়, আর্টিস্ট ফোরামের তরফে সংস্থাকে চিঠি পাঠানো হলেও কোনো যথাযথ উত্তর মেলেনি। রাহুলের শেষকৃত্যে প্রযোজনা সংস্থার কোনো প্রতিনিধিকে দেখা যায়নি। এরপরও সংস্থা তৃতীয় সিজনের শুটিং শুরু করে দেয় নতুন কাস্ট নিয়ে, যা শিল্পী ও কলাকুশলীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করে।
পরিস্থিতি মিটানোর জন্য ৬ এপ্রিল থেকে কর্মবিরতি শুরু হয়। শিল্পী ও টেকনিশিয়ানরা দাবি করেন, নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় নিশ্চিত না হলে কাজ শুরু হবে না। ৭ এপ্রিল টলিপাড়ায় বড় বৈঠক ডাকা হয় ফেডারেশন, আর্টিস্ট ফোরাম, ইম্পা টিভি প্রযোজক ও চ্যানেল কর্তৃপক্ষদের সঙ্গে। বৈঠকে নিরাপত্তা ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেই মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ম্যাজিক মোমেন্টস মোশন পিকচার্সের সঙ্গে আর কেউ কাজ করবেন না।
এই সিদ্ধান্তের ফলে সংস্থার দুটি জনপ্রিয় ধারাবাহিক, ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ও ‘চিরসখা’, বন্ধ হওয়ার পথে। ‘চিরসখা’ ধারাবাহিকের ‘মিঠি’ অর্থাৎ ঐশী ভট্টাচার্য মিটিংয়ের পর জানান, “সিনিয়ররা যা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেটির সঙ্গে আমি একমত। ফোরামের যা পরামর্শ তা মেনে চলছি। হ্যাঁ, ধারাবাহিক শেষ হচ্ছে।” বর্তমানে দর্শক এবং কলাকুশলীরা দুই ধারাবাহিকের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ “প্রত্যেকের একটা অ্যাজেন্ডা আছে…কে সত্যি আর কে মুখোশ পরে সহানুভূতি দেখাচ্ছে, আলাদা করা এখন খুব কঠিন” বৈঠকের পর চোখে জল! রাহুলের মৃ’ত্যুতে ইন্ডাস্ট্রির ‘গোড়ায় গলদ’ ফাঁস করলেন শ্রীলেখা মিত্র! স্বরূপ বিশ্বাসের প্রভাব নিয়ে ক্ষোভ উগরে কী বললেন অভিনেত্রী?
প্রযোজনা সংস্থা লীনা গঙ্গোপাধ্যায় ও শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। কলকাতার রিজেন্ট পার্ক থানায় ইতিমধ্যেই পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে আর্টিস্ট ফোরামের তরফ থেকে। টলিপাড়ায় নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ নিয়ে সচেতনতার জোরালো বার্তা দেওয়া হয়েছে। এখন দর্শকরা অধীর আগ্রহে জানার অপেক্ষায় রয়েছেন, আগামী দিনে টলিপাড়ায় কী পরিবর্তন আসবে।






