বাংলা সিনেমার স্বর্ণযুগের অন্যতম পরিচিত মুখ লিলি চক্রবর্তী (Lily Chakravarty)। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বাংলা চলচ্চিত্রে অভিনেত্রী হিসেবে নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করেছিলেন তিনি। নায়িকা হওয়ার মোহ কখনও ছিল না, বরং এমন চরিত্রে অভিনয় করতে চেয়েছিলেন যা দর্শকের মনে দীর্ঘদিন থেকে যায়। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে তিনি অকপটে জানিয়েছেন তাঁর অভিনয়জীবনের নানা অভিজ্ঞতার কথা। কোথাও সাফল্যের গল্প, আবার কোথাও আছে আক্ষেপ—বিশেষ করে সেইসব সময়ের কথা, যখন তাঁর হাতে থাকা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র অন্য অভিনেত্রীদের চাপে হাতছাড়া হয়ে গিয়েছিল।
গত কয়েক বছর ধরে ছোটপর্দাতেও দর্শকরা তাঁকে দেখেছেন। বিশেষ করে ‘নিম ফুলের মধু’ ধারাবাহিকে ঠাম্মি চরিত্রে তাঁর অভিনয় অনেক প্রশংসা পেয়েছিল। কিন্তু এখন আর ধারাবাহিকে কাজ করতে চান না এই প্রবীণ অভিনেত্রী। তাঁর কথায়, ধারাবাহিকের শুটিং মানেই দীর্ঘ সময় সেটে বসে থাকা, বারবার দৃশ্য বদলানো এবং একই রুটিনের মধ্যে দিন কাটানো। এই ধরনের কাজের ধরণ তাঁর কাছে একেবারেই অস্বস্তিকর।
২০২৫ সালের জুন মাসে তিনি স্পষ্ট করে জানান যে, ধারাবাহিকের কাজের চাপ আর নিতে চান না। প্রতিদিন বাড়ি থেকে বেরিয়ে শুটিং করা তাঁর পক্ষে এখন কঠিন হয়ে উঠেছে। বয়সও এখন আশির কোঠা পেরিয়েছে। তার সঙ্গে রয়েছে শ্বাসকষ্ট, সিওপিডি ও উচ্চ রক্তে শর্করার মতো শারীরিক সমস্যা। ২০২৪ সালে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই তিনি কাজ অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছেন। তবে বড়পর্দার জন্য দরজা বন্ধ করেননি। ভালো চরিত্র পেলে সিনেমায় কাজ করতে আগ্রহী বলেই জানিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ “এক্কেবারে ভুল ধারণা, আমরা বন্ধু না” নায়ক ইন্দ্রজিৎকে নিয়ে তৃণা সাহার মন্তব্যে শুরু চর্চা! পর্দায় প্রেম, বাস্তবে ‘শত্রু’? ‘পরশুরাম’-এর সেটে কি ফের বাড়ছে উত্তাপ?
লিলি চক্রবর্তী জানান, তাঁর হাতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলো একাধিকবার অন্য অভিনেত্রীদের চাপের কারণে হারিয়ে গেছে। উদাহরণস্বরূপ, ‘গৃহদাহ’ ছবির রোলটি তাঁর জন্য নির্ধারিত ছিল, কিন্তু সুচিত্রা সেনের কারণে পরবর্তী সময় সেই চরিত্রটি আর করতে পারেনি অভিনেত্রী লিলি। সাবিত্রী দেবীর জন্যও একই ঘটনা ঘটেছিল বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী। উত্তম কুমারের ‘ভোলা ময়রা’ বা অন্যান্য ছবিতে সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় এসে বলতেন, “আমাকে দাও,” ফলে অনেক ছবিই অন্যের হাতে চলে যায়। এছাড়াও অভিনেত্রী জানিয়েছেন ‘জন অরণ্য’-এর কমলা বৌদির রোলের জন্য মানিকদা বম্বে থেকে চিঠি লিখে ডাক ডাক পাঠিয়েছিলেন, তারপরেই অভিনেত্রীর টেস্ট হয়, সবাই খুশি হয়েছিলেন, কিন্তু তা সত্ত্বেও পরবর্তী সময়ে হাত ছাড়া হয় এই সুযোগটি।
অভিনেত্রী স্পষ্ট করে বলেন, “আমি কখনো কারও চরিত্র কেড়ে নিইনি, বরং অনেক সময় আমারটাই অন্যরা নিয়ে নিয়েছে, বম্বে থেকে কলকাতায় সেই সময় বেশি ব্যাকবাইটিং হতো, অর্থাৎ লোকের পেছনে আলোচনা করা হতো।” সত্যজিৎ রায়, তপন সিনহা, তরুণ মজুমদার সকলেই তাঁর অভিনয় দেখে নিজে রোল নিয়েছেন, কিন্তু অন্য নায়িকারা প্রযোজকদের কাছে মিষ্টিভাবে সুযোগের জন্য অনুরোধ করতেন। তবু এই সমস্ত ক্ষতির পরেও লিলি কখনও হতাশ হননি। তিনি মনে করেন, ভালো চরিত্র ও অভিনয়ই একজন শিল্পীর প্রকৃত পরিচয়। বর্তমানে ভালো চরিত্র পেলে বড়পর্দায় কাজ করতে আপত্তি নেই বলেও জানান তিনি।






