২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জনসমর্থন পেয়ে পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আজ শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে নতুন সরকারের তরফে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী মমতা শঙ্করকে। অনুষ্ঠান শেষে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, “খুবই ভাল লেগেছে। আমার মনে হচ্ছিল প্রত্যেকটা মানুষ খুশি। একটা নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে সকলের মধ্যে।” তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের চাপা অস্বস্তির পর মানুষ যেন স্বস্তির জায়গা খুঁজে পেয়েছেন। তাঁর কথায়, “যে জায়গায় গিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ, যে দমবন্ধকরা পরিস্থিতি হয়েছিল সেখান থেকে একটা শ্বাস নেওয়ার জায়গা ফিরে এল।”
নতুন সরকারের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা এখন অনেকটাই বেড়েছে বলেও মত তাঁর। নতুন প্রশাসনের উদ্দেশে মমতা শঙ্কর স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে নিরপেক্ষভাবে। তিনি বলেন, “এখন শুধু এটুকুই চাই, যাঁরা এলেন, তাঁরা যেন সুষ্ঠুভাবে কাজ করতে পারেন।” পাশাপাশি তিনি যোগ করেন, “কোনওরকম ভেদাভেদ না করে, কোনও পক্ষপাতিত্ব না করে ন্যায় আর অন্যায় কড়া হাতে পদক্ষেপ করতে পারেন।” তাঁর মতে, সরকার পরিচালনায় কোনও রকম দলীয় পক্ষপাত বা বিভাজনের জায়গা থাকা উচিত নয়। সাধারণ মানুষ এখন কাজের ফল দেখতে চান। তাই প্রশাসনের প্রথম দায়িত্ব হবে সবার জন্য সমান বিচার নিশ্চিত করা।
কঠোরতা ও ন্যায়ের মধ্যে ভারসাম্য রেখে এগোতে হবে বলেও মত প্রকাশ করেন তিনি। শুধু সরকারের নয়, সাধারণ মানুষেরও দায়িত্ব আছে বলে মনে করিয়ে দেন মমতা শঙ্কর। তিনি বলেন, “আমরাও যেন নিজেদের সঠিকভাবে চালিত করি। আমরাও যেন জীবনে নিয়মশৃঙ্খলা মেনে চলি।” তাঁর বক্তব্য, সমাজ ভালো করতে চাইলে নাগরিকদেরও নিজেদের বদলাতে হবে। তিনি আরও বলেন, “আমাদের মধ্যেও যেন বিবেক জাগ্রত থাকে। আত্মবিশ্লেষণের সময় এটা।” ভাল সমাজ চাইলে ব্যক্তিজীবনেও সৎ পথে চলার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর কথায়, “ভাল কিছুর প্রত্যাশা করলে আমাদেরকেও সৎ পথে চলতে হবে।”
আরও পড়ুন: রাজ্যে পদ্মফুল ফুটতেই রাজনীতিতে নামছেন জিৎ? গেরুয়া সরকারের শপথমঞ্চে সাদা পাঞ্জাবি ও উত্তরীয়তে কেড়েছেন নজর! এবার সব জল্পনায় ইতি টানলেন ‘অরাজনৈতিক’ অভিনেতা, নিজেই জানালেন সত্যিটা?
অর্থাৎ পরিবর্তনের দায় শুধু সরকারের নয়, মানুষেরও। আইনশৃঙ্খলা ও অপরাধ দমনের প্রসঙ্গেও সরব হন মমতাশঙ্কর। তিনি বলেন, “যাঁরা সরকারে এলেন তাঁদেরও যেমন শক্ত হাতে হাল ধরতে হবে, সহমর্মিতার সঙ্গে সঠিক পদক্ষেপ করতে হবে।” ধর্ম, বর্ণ, ভাষা বা নারী পুরুষের ভেদাভেদ ছাড়াই প্রশাসন চালানোর পরামর্শ দেন তিনি। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “ন্যায়কে ন্যায় আর অন্যায়কে অন্যায় বলার শক্তি এবং সততা যেন থাকে।” অপরাধীদের বিষয়ে তিনি বলেন, “যদি কেউ অন্যায় করে তাঁর উপযুক্ত শাস্তি হওয়া উচিৎ।” এমন শাস্তির কথা বলেন, যাতে অন্য কেউ অপরাধ করার আগে ভয় পায়। তাঁর মতে, কঠোর শাস্তি সমাজে অপরাধ কমাতে সাহায্য করতে পারে।
নারী নিরাপত্তা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন মমতা শঙ্কর। তিনি বলেন, “দু’পক্ষকেই সঠিক পথে চলতে হবে। দু’পক্ষকেই ভুল শুধরে নিতে হবে।” তাঁর মতে, সরকার যেমন মেয়েদের নিরাপত্তা দেখবে, তেমনই সমাজের সকলের দায়িত্বও রয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “এটা কেবল মেয়েদের নয়, নারী পুরুষ নির্বিশেষে সকলকে ঠিক হতে হবে যাতে আর অভয়া না হয়।” ছেলে মেয়ে নির্বিশেষে সকলের সম্মান, শালীনতা ও দায়িত্ববোধ বজায় রাখা জরুরি বলেও মত দেন তিনি। অনুষ্ঠানের অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “এই রোদ আর এই গরমে গা পুড়ে যাচ্ছিল। এত ভিড়, এত মানুষ এসেছেন, প্রচুর হেঁটেছি।” তিনি জানান, প্রসেনজিৎ, যীশু, জিৎ এবং বাবা সাইরাম তাঁকে সাহায্য করেছেন, পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতারও প্রশংসা করেন।






