“ঠাকুরকে নিবেদন করার আগে ভোগ চেখে দেখা অন্যায় নয়, বড় বড় সাধকরাও করতেন !”—মমতা শঙ্করের মন্তব্য ঘিরে তীব্র বিত’র্ক, পুজোর চিরাচরিত নিয়ম ভেঙে অভিনেত্রীর আধ্যাত্মিক বিশ্বাসের ব্যাখ্যায় উত্তাল সমাজমাধ্যম!

বাংলার সংস্কৃতি জগতে কিছু ব্যক্তিত্ব এমন আছেন, যাঁদের কথা বা ভাবনা মাঝেমধ্যেই সমাজে নতুন আলোচনার জন্ম দেয়। অভিনয় কিংবা নৃত্য—দুটো ক্ষেত্রেই যাঁর অবদান অনস্বীকার্য, সেই মমতা শঙ্কর বরাবরই নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গিতে বিশ্বাসী। রূপোলি পর্দার জৌলুসের বাইরে তাঁর জীবনে বরাবরই ছিল এক ধরনের শান্ত আভিজাত্য ও আধ্যাত্মিক অনুসন্ধান। সেই বিশ্বাস থেকেই সম্প্রতি তাঁর একটি বক্তব্য ঘিরে ফের বিতর্কের ঝড় উঠেছে সমাজমাধ্যমে।

সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে নিজের বাড়ির পুজো-পদ্ধতি ও আচার নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেন মমতা শঙ্কর। সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ্যে আসার পরই তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে। সেখানে তিনি ঠাকুরের ভোগ রান্না ও নিবেদন করার প্রসঙ্গে এমন কিছু কথা বলেন, যা অনেকের কাছে অপ্রচলিত এবং কারও কারও মতে বিতর্কিত। ধীরে ধীরে সেই বক্তব্যই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।

মমতা শঙ্কর জানান, তাঁর আরাধ্য ঈশ্বর সাইবাবা হলেও হিন্দু ধর্মের অন্যান্য দেবদেবীকেও তিনি সমান শ্রদ্ধায় পুজো করেন। ভোগ রান্নার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেকেই মনে করেন ঠাকুরের ভোগ কখনও খেয়ে দেখা উচিত নয়। কিন্তু তাঁর মতে, ঠাকুর যদি পরম আত্মীয় হয়ে যান, তবে সেখানে আড়াল বা দূরত্বের প্রশ্ন থাকে না। তিনি স্পষ্ট জানান, ভোগে নুন-মিষ্টির সামঞ্জস্য ঠিক আছে কিনা, খাবার নষ্ট হয়েছে কিনা—সেটা নিশ্চিত করতেই তিনি ভোগ চেখে দেখেন।

এই বক্তব্যের স্বপক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে মমতা টেনে আনেন নিজের পারিবারিক অভ্যাস ও পুরাণকথার উদাহরণ। তিনি বলেন, তাঁর মা অমলা শঙ্করও ভোগ রান্নার সময় স্বাদ পরীক্ষা করতেন। পাশাপাশি তিনি শবরীর গল্পের উল্লেখ করেন, যেখানে শবরী রামকে খাওয়ানোর আগে ফল চেখে দেখেছিলেন। এমনকি রামকৃষ্ণ দেবের কথাও তুলে ধরেন, যিনি মা কালীর উদ্দেশে নিজে প্রসাদ গ্রহণের কথা বলতেন। মমতার যুক্তি, মায়ের মতো স্নেহ আর দায়িত্ববোধ থেকেই এই অভ্যাস।

আরও পড়ুনঃ “ঠাকুরকে নিবেদন করার আগে ভোগ চেখে দেখা অন্যায় নয়, বড় বড় সাধকরাও করতেন !”—মমতা শঙ্করের মন্তব্য ঘিরে তীব্র বিত’র্ক, পুজোর চিরাচরিত নিয়ম ভেঙে অভিনেত্রীর আধ্যাত্মিক বিশ্বাসের ব্যাখ্যায় উত্তাল সমাজমাধ্যম!

তবে নিজের বক্তব্য স্পষ্ট করতে গিয়ে মমতা শঙ্কর একাধিকবার জানান, তিনি নিজেকে কোনওভাবেই শ্রীরামকৃষ্ণের আসনে বসাচ্ছেন না। তাঁর কথায়, ঈশ্বর যখন আপনজন হয়ে ওঠেন, তখন নিজের ভালো লাগার জিনিসই তাঁর কাছে নিবেদন করতে ইচ্ছে করে। এই ভাবনাই তাঁর আধ্যাত্মিক জীবনের মূল কথা। যদিও সেই বক্তব্য সমাজের একাংশে সমর্থন পেলেও অন্য অংশে তা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। ফলে মমতা শঙ্করের এই মন্তব্য ঘিরে আলোচনা, বিতর্ক এবং ভাবনার জায়গা—সবই এখন তুঙ্গে।

You cannot copy content of this page