“মঞ্চে ঢোকার দু’সেকেন্ডেই চমকে দিয়েছিল, ভুলে গিয়েছিলাম ওর পরিচয়!” “রোগা আর ফর্সা হলেই সুন্দরী, কে বানিয়েছে এই নিয়ম?” সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে গেলে চাই নিখুঁত ফিগার ও উজ্জ্বল ত্বক? সোহিনী সেনগুপ্তর অভিনয়ের কাছে কীভাবে হার মেনেছিল মিথ্যে সৌন্দর্যের সংজ্ঞা? সেই অভিজ্ঞতা ভাগ করে সমাজকে আয়না দেখালেন মানসী সিনহা!

বিনোদন জগতে কাজ করতে গেলে সুন্দর দেখতে হতে হবে, এমন ধারণা আজও অনেকের মনে গেঁথে রয়েছে। বিশেষ করে অভিনয়ের দুনিয়ায় নায়িকা হতে গেলে চাই ছিপছিপে চেহারা, উজ্জ্বল ত্বক আর নিখুঁত ফিগার! কিন্তু একজন অভিনেতার আসল পরিচয় কি শুধুই তাঁর বাহ্যিক সৌন্দর্যে? অভিনয়ের দক্ষতা, চরিত্রকে পর্দায় ফুটিয়ে তোলার ক্ষমতা এবং দর্শকের মনে জায়গা করে নেওয়ার যোগ্যতা কি তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়? ইন্ডাস্ট্রির এই চেনা ধারণা নিয়েই এবার সরব হলেন অভিনেত্রী মানসী সিনহা। বাংলা বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ মানসী সিনহা।

দীর্ঘদিন ধরে অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁর বক্তব্যেও বরাবরই উঠে আসে ইন্ডাস্ট্রির নানা দিক। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সৌন্দর্যের প্রচলিত সংজ্ঞা এবং অভিনেতা-অভিনেত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে চেহারার গুরুত্ব নিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করেন তিনি। আর সেই প্রসঙ্গেই অভিনেত্রী সোহিনী সেনগুপ্তর অভিনয়ের একটি পুরনো অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন মানসী। মানসী জানান, অনেক পুরনো একটি ঘটনা। যখন ‘ফুটবল’ নাটকটি আবার মঞ্চস্থ হয়েছিল, তখন তিনি নাটকটি দেখতে গিয়েছিলেন। সেখানে সোহিনী মঞ্চে প্রবেশ করার আগে গৌতমদা তাঁর সম্পর্কে এমন একটি বর্ণনা দিয়েছিলেন, যেখানে তাঁর চেহারা ও গড়নের কথা উঠে এসেছিল।

কিন্তু সোহিনী যখন মঞ্চে প্রবেশ করেন, তখন তাঁর অভিনয়ই সমস্ত ধারণা বদলে দেয়। মানসীর কথায়, সোহিনী একটু ভারী গড়নের পোশাক পরা একটি চরিত্রে প্যান্ট পরে হেঁটে মঞ্চে ঢুকেছিলেন। কিন্তু মাত্র দু’সেকেন্ডের মধ্যেই তাঁর শক্তিশালী অভিনয় দর্শকদের এমনভাবে মুগ্ধ করে যে, তাঁর শারীরিক গড়নের কথা কারও মনেই থাকে না। সোহিনীর অভিনয়ের প্রশংসা করে মানসী বলেন, তিনি সত্যিই অসাধারণ এবং অত্যন্ত শক্তিশালী অভিনেত্রী। এই অভিজ্ঞতার কথা বলেই মানসী বোঝাতে চান, সুন্দরী হওয়ার অর্থ শুধুমাত্র পাতলা শরীর কিংবা উজ্জ্বল ত্বক নয়।

অভিনয়ের দক্ষতাই একজন শিল্পীর আসল শক্তি। তাঁর মতে, ইন্ডাস্ট্রিতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই ধারণা ভাঙা প্রয়োজন যে সঠিক ফিগার এবং ফর্সা ত্বক না থাকলে সুন্দর অভিনেত্রী বা অভিনেতা হওয়া যায় না। এই বাধা সরিয়ে দেওয়া গেলে ইন্ডাস্ট্রি আরও অনেক অসাধারণ প্রতিভাবান নায়ক-নায়িকা পেতে পারে। তবে শুধু শিল্পীরা চাইলেই এই পরিবর্তন সম্ভব নয় বলেও মনে করেন তিনি। কারণ, মানসীর কথায়, শুধু তাঁর ইচ্ছায় তো আর সবকিছু বদলাবে না।

আরও পড়ুনঃ “এটা মিষ্টি প্রেম নয়, চরম নোংরামির পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে!” সিক্রেট রুম থেকে নন্দিনী ফিরতেই ফের শুরু লাগামহীন ঘনি*ষ্ঠতা? রাজবীর ও নন্দিনীর মেকি সম্পর্কের তুলোধোনা সৌরভ দাসের মায়ের! “ওর মধ্যে এমন দক্ষতা রয়েছে, যা অনেক অভিনেতারও নেই” ছেলের প্রতিভায় গর্বিত, বিগ বসের ঘরে সৌরভের খেলা নিয়ে কী বললেন মা?

যাঁরা ছবিতে টাকা বিনিয়োগ করেন, অর্থাৎ প্রযোজকরাও যদি এই পুরনো মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে চান, তবেই বদল সম্ভব। অর্থাৎ প্রতিভার পাশাপাশি চেহারাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রবণতা বন্ধ করতে হলে ইন্ডাস্ট্রির সিদ্ধান্তগ্রহণকারীদেরও মানসিকতা বদলাতে হবে। মানসী সিনহার এই বক্তব্য নতুন করে প্রশ্ন তুলছে, অভিনয়ের জগতে কি এখনও প্রতিভার চেয়ে বাহ্যিক সৌন্দর্যকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়?

You cannot copy content of this page