প্রতিদিনের খবরের ভিড়ে নারী নি’র্যাতন আর ধ*র্ষণের মতো ঘটনাগুলো যেন ধীরে ধীরে অভ্যাসে পরিণত হচ্ছে। আলোচনা হয়, বিতর্ক হয় একপর্যায়ে তদন্ত এগোয় তবু বাস্তব চিত্র খুব একটা বদলায় না! এই অস্বস্তিকর বাস্তবতাকেই সামনে রেখে তৈরি হয়েছে অনুভব সিনহার আসন্ন ছবি ‘অস্সী’ (Assi) যা আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে। এই ছবিটি কোনও একক ঘটনার পুনর্নির্মাণ নয়, বরং সমাজে বারবার ঘটে চলা অপরাধ আর তার চারপাশের নীরবতায় প্রশ্ন আর দায়বদ্ধতাকে একসঙ্গে ধরার চেষ্টা।
প্রসঙ্গত, এই ছবিতে দেখা যাবে একাধিক বিশিষ্ট অভিনেতাকে দেখা যাবে। যেমন তাপসী পান্নু, কনি কুশ্রুতি, নাসিরউদ্দীন শাহ, কুমুদ মিশ্র, সুপ্রিয়া পাঠকের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন ‘মনোজ পাহওয়া’ (Manoj Pahwa)। ছবির প্রচারের কাজে সম্প্রতি কলকাতায় এসেছিলেন মনোজ পাহওয়া। কাজের চাপ থাকায় শহরটা খুব একটা ঘুরে দেখার সুযোগ পাননি ঠিকই, তবে কলকাতার মিষ্টি আর বিরিয়ানি তাঁর তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। হাওড়া ব্রিজেও গেছেন, এইটুকুই করে শহরের সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগ রাখতে চেয়েছেন তিনি।
সেই সঙ্গে একাধিক সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গেও কথোপকথনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। সেখানেই ছবি নিয়ে কথার প্রসঙ্গে উঠে আসে ‘আরজি কর’ কাণ্ডের প্রসঙ্গ। যা শুধু রাজ্য নয়, দেশজুড়েই আলোড়ন ফেলেছিল। মনোজ পাহওয়ার মতে, এই ধরনের ঘটনা সমাজের গভীর অসুখের দিকেই আঙুল তোলে। তবে সেই সময় কলকাতার মানুষের, বিশেষ করে মহিলাদের যে সংগঠিত প্রতিবাদ দেখা গিয়েছিল, সেটাই আলাদা করে চোখে পড়ার মতো। তাঁর কথায়, “এই শহরের মানুষ চুপ করে বসে থাকে না, অন্যায়ের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামতে তারা জানে!”
কলকাতার সামাজিক চরিত্র নিয়েও নিজের পর্যবেক্ষণ ভাগ করে নেন অভিনেতা। তাঁর মতে, বাংলার সাংস্কৃতিক চর্চা এখনও দেশের অনেক জায়গার তুলনায় এগিয়ে। ঘরে ঘরে গান, নাচ, আঁকা বা আবৃত্তির চর্চা দেখা যায় আর রাজনীতি নিয়েও এখানে আলোচনা হয় অনেক বেশি সচেতন ভাবে। অন্য কোথাও যেখানে মানুষ অনেক সময় অপরাধ হতে দেখলেও ‘আমার কী?’ বলে এড়িয়ে যায়, সেখানে কলকাতায় মানুষ একজোট হয়ে প্রতিবাদে সামিল হয় এবং ধর্নামঞ্চে বসে, এই পার্থক্যটাই তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুনঃ লম্বা গোঁফ ও রাগী চেহারায় ‘কথা’র চকলেট বয় ‘এভি’ থেকে সোজা ভিলেনরূপে সাহেব! নতুন ধারাবাহিকের চরিত্রদের রূপ ফাঁস! আত্মবিশ্বাসী হিয়ার টক্করে জমবে রসায়ন! কেমন হতে চলেছে গল্প? হয়ে গেছে প্রোমো শুট, কবে আসছে পর্দায়?
উল্লেখ্য, এই কারণেই কলকাতায় থিয়েটার বা সাংস্কৃতিক কাজ করতে এলে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন বলে মনে করেন মনোজ পাহওয়া। তাঁর কথায়, “এখানকার দর্শক খুব মনোযোগী, ছোট ভুলও তাদের চোখ এড়ায় না। সেই সচেতনতা আর প্রশ্ন করার মানসিকতাই হয়তো এই শহরের শক্তি!” মুক্তির পথে ‘অস্সী’ ছবিটিও ঠিক সেই জায়গাটাকেই স্পর্শ করতে চায়, যেখানে নীরবতা ভাঙা জরুরি আর মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখার দায় এড়ানো যায় না। গল্পটা কত মানুষকে ছুঁতে সক্ষম হয় বা সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনবে কিনা, তা বলবে সময়!






