দস্যু ক্যা*ন্সারের কাছে হার মানলেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী মিঠু মুখার্জি। গতকাল রবিবার রাতে মুম্বইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। গত প্রায় এক বছর ধরে ক্যা*ন্সারে আক্রান্ত ছিলেন অভিনেত্রী। মুম্বইতেই চলছিল তাঁর চিকিৎসা। তবে শেষ পর্যন্ত আর সুস্থ হয়ে ফিরতে পারলেন না পর্দার এই পরিচিত মুখ। সৌন্দর্য এবং সাবলীল অভিনয়ের পাশাপাশি স্বাভাবিক পর্দা উপস্থিতির জন্য দর্শকের নজর কেড়েছিলেন তিনি। বাংলা ছবির পাশাপাশি হিন্দি ও ওড়িয়া ছবিতেও অভিনয় করেছিলেন মিঠু।
মিঠু মুখার্জির প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে আসে বিনোদন জগতে। তাঁকে নিয়ে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেছেন অভিনেত্রী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। সদ্য প্রয়াত অভিনেত্রীর পুরনো একটি ছবি নিজের সমাজ মাধ্যমের পাতায় পোস্ট করেন তিনি। সেখানেই মিঠু মুখার্জির সঙ্গে দেখা না হওয়ার আক্ষেপের কথা জানান রূপা। তিনি জানান, ‘চাঁদের কাছাকাছি’ ছবির ‘স্বপ্না’কে কিছুদিন আগেই পর্দায় দেখছিলেন। তবে সামনাসামনি দেখা করার সেই ইচ্ছা আর পূরণ হল না। রূপার কথায়, মিঠুদির সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছাটা অনেকদিন ধরেই ছিল, কিন্তু সেই সুযোগ আর এল না।
রূপা গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠানের সময় মিঠু মুখার্জিকে আমন্ত্রণ জানানোর খুব ইচ্ছা ছিল তাঁর। কিন্তু সেই সময় অভিনেত্রী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন বলে জানতে পারেন তিনি। রূপা আরও জানান, তাঁর চুলের সাজসজ্জার কর্মী রিনার কাছ থেকে তিনি নিয়মিত মিঠুর নানান গল্প শুনতেন। মিঠুদি সম্পর্কে আরও জানতে তাঁর নিজেরও খুব আগ্রহ ছিল। মনে মনে ভেবেছিলেন, একদিন নিশ্চয়ই মিঠু কলকাতায় ফিরবেন। তখন তাঁর সঙ্গে দেখা হবে এবং বহুদিনের সেই ইচ্ছা পূরণ হবে। কিন্তু অভিনেত্রীর আকস্মিক প্রয়াণে সেই অপেক্ষা আর পূর্ণ হল না বলেই নিজের পোস্টে আক্ষেপ জানিয়েছেন রূপা।
প্রসঙ্গত, মিঠু মুখার্জির মৃ’ত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তও। সমাজ মাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট লিখে নিজের প্রিয় অভিনেত্রীকে স্মরণ করেছেন তিনি। ঋতুপর্ণার মতে, অনেক অভিনেত্রীই অভিনয় জগতে আসেন এবং অসাধারণ কাজ উপহার দিয়ে একসময় সরে যান। মিঠু ছিলেন তেমনই একজন শিল্পী, যাঁর কাজের সংখ্যা হয়তো খুব বেশি ছিল না। তবে যে কটি ছবিতে তিনি অভিনয় করেছেন, সেগুলির প্রতিটিই দর্শকের মনে আলাদা জায়গা তৈরি করেছে। ঋতুপর্ণা মনে করেন, মিঠুর অভিনয় আগামী দিনেও তাঁদের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। তাঁর অভিনয়জীবনের সেই কাজগুলিই অভিনেত্রীর স্মৃতিকে দীর্ঘদিন ধরে বাঁচিয়ে রাখবে বলে জানিয়েছেন ঋতুপর্ণা।
আরও পড়ুনঃ “প্রেমিক রাখতেই পারো, কিন্তু ওই মানুষটিকেই যে বিয়ে করতে হবে, এমন কোনও কথা নেই!” ২০১৯ সালে দু’বছর কোমায় থাকার পর মৃ’ত্যু হয় বড় মেয়ে পায়েলের, স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির গাফিলতিতে! সন্তানকে হারানোর ক’ষ্টে আজও কাঁদেন অভিনেত্রী! স্বা’র্থপর এবং আত্মকেন্দ্রিক হও, গীতার বাণী টেনে মেয়েকে বিয়ের আগেই কী সতর্কতা দিয়েছিলেন মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়?
মিঠুর অভিনীত ‘স্বয়ংসিদ্ধা’, ‘আশ্রিতা’ এবং ‘মৌচাক’ ছবির কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই ছবিগুলিতে মিঠু মুখার্জির অভিনয় বাংলা সিনেমায় দৃষ্টান্ত তৈরি করেছিল। অভিনেত্রীর কাজের পরিমাণ হয়তো খুব বেশি ছিল না, কিন্তু তাঁর অভিনয়ের প্রভাব ছিল দীর্ঘস্থায়ী। সেই কারণেই তাঁর চলে যাওয়াকে বাংলা বিনোদন জগতের জন্য একটি বড় ক্ষতি হিসেবে দেখছেন সহকর্মীরা। রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের অপূর্ণ দেখা করার ইচ্ছা এবং ঋতুপর্ণার স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে মিঠুর প্রতি তাঁদের গভীর শ্রদ্ধা। পর্দায় অল্প সময়ের উপস্থিতিতেই দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। তাঁর অভিনীত ছবিগুলির মাধ্যমেই আগামী দিনেও দর্শকের স্মৃতিতে থেকে যাবেন বর্ষীয়ান এই অভিনেত্রী।






