আয়ুষ্মান ভারত কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন একাধিক মন্ত্রী ও প্রশাসনিক আধিকারিক। তাঁদের মাঝেই মঞ্চে ছিলেন অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। মাইক হাতে নিয়েই নিজের স্বভাবসিদ্ধ রসিকতায় জমিয়ে দেন পরিবেশ। মিঠুন বলেন, এত মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীর ভিড়ে তিনি ভাবছিলেন, তাঁর পরিচয়টা কী! নিজেকেই প্রশ্ন করে তাঁর উত্তর আসে, তিনি নাকি ‘সতিমন্ত্রী’। কারণ প্রতিমন্ত্রী হওয়ার যোগ্যতা তাঁর নেই বলেই মজা করেন অভিনেতা। শুরুতেই তাঁর এমন রসিকতায় অনুষ্ঠানের পরিবেশ অনেকটাই হালকা হয়ে যায়। এরপর পাশে বসে থাকা শুভেন্দু অধিকারীকে তিনি ‘সব থেকে প্রিয় মুখ্যমন্ত্রী’ বলে সম্বোধন করেন।
আয়ুষ্মান ভারত নিয়ে নিজের পুরনো ভূমিকার কথাও এদিন তুলে ধরেন মিঠুন চক্রবর্তী। তাঁর দাবি, কেন্দ্রের এই স্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধার কথা তিনি বহুদিন ধরেই সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। বিভিন্ন জায়গায় সভা করতে গিয়ে মানুষকে আয়ুষ্মান ভারতের কার্ড তৈরি করার জন্য উৎসাহ দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। মিঠুনের কথায়, “লোকেরা তখন আমায় বলত ‘স্যার, ওটা বানিয়ে কী হবে? এখানকার মুখ্যমন্ত্রী তো করতে দেবেন না, সব জায়গায় ব্যান করে রেখেছেন!’ আমি বলতাম, তাতে কী হয়েছে! আমাদের মিলিটারি হাসপাতাল আছে, রেলের হাসপাতাল আছে, সেখানে গিয়ে সুযোগ নিন! বহু জায়গায় তো আমি নিজে বসে থেকে মানুষকে আয়ুষ্মান কার্ড করিয়ে দিয়েছি।”
তবে অভিনেতা তাঁদের সেই কথায় নিরুৎসাহিত না হয়ে অন্য জায়গা থেকে সুবিধা নেওয়ার কথা বলতেন। এরই সঙ্গে তিনি আরও বলেন “এত সব মন্ত্রী আর প্রতিমন্ত্রীর ভিড়ে ভাবছিলাম আমি কে? নিজেকেই প্রশ্ন করলাম। জবাব পেলাম আমি ‘সতিমন্ত্রী’! প্রতিমন্ত্রী হওয়ার যোগ্যতা আমার নেই।” তাঁর দাবি, এখন মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে বাংলায় প্রধানমন্ত্রীর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হওয়ায় তিনি অত্যন্ত খুশি বলেও জানান। এরপর নিজের বক্তব্যের মাঝেই দর্শকদের উদ্দেশে মিঠুন মজার ছলে জানতে চান, তাঁর এত ভালো ভালো কথা আদৌ তাঁদের ভালো লাগছে কি না। কারণ দর্শকরা নাকি অপেক্ষা করে বসে রয়েছেন, কখন তিনি তাঁর জনপ্রিয় সংলাপ বলবেন।
তবে এরপরই মিঠুন জানান, এমন অনুষ্ঠানের মঞ্চে তিনি কোনও সংলাপ বলবেন না। তাঁর কথায়, এটি সেই জায়গা নয়, তাই ডায়লগ ফায়লগ কিছুই বলবেন না। কিন্তু মিঠুনের মতো অভিনেতার ক্ষেত্রে জনপ্রিয় সংলাপ থেকে নিজেকে দূরে রাখা যে সহজ নয়, তা পরের মুহূর্তেই স্পষ্ট হয়ে যায়। হঠাৎই তাঁর পরিচিত ভঙ্গিতে মঞ্চে গর্জে ওঠে সেই বহুলচর্চিত সংলাপ। মিঠুন বলেন, ‘আমি জলঢোড়াও নই, বেলেবোড়াও নই, আমি জাত গোখরো! এক ছোবলে ছবি!’ তাঁর এই সংলাপ শুনেই উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে।
এরপর নিজের সেই জনপ্রিয় সংলাপের পুরনো ইতিহাসও মনে করিয়ে দেন মিঠুন। দর্শকদের সামনে তিনি বলেন, আগে এই সংলাপ বলার কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনে মজার ছলেই জানান, তাই আজ আরও জোরে সেই সংলাপ বললেন। তাঁর বক্তব্যের এই অংশে অনুষ্ঠানের পরিবেশ আরও সরগরম হয়ে ওঠে। মিঠুনের সংলাপ শুনে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে হাততালি এবং উচ্ছ্বাস দেখা যায়। স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত নিজের অভিনয় জীবনের অন্যতম জনপ্রিয় সংলাপেই মঞ্চ মাতিয়ে দেন অভিনেতা।
আরও পড়ুনঃ “দিদিকে বলবেন তিনি যেন ওই টাকা দিয়ে মিষ্টি খান!” “মুখের ওপর সেদিন টাকা ছুঁড়ে দিয়েছিলাম…লোভী হলে নাম-টাকার জন্য আমাকে এসব লোকের সঙ্গে মিশতেই হত!” কোন ঘটনা ঘিরে হঠাৎ বি*স্ফোরক অশোক কুমার? বদলের আবহে ইন্ডাস্ট্রির পরিবেশে কী এমন দেখলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা, যে ভালো চরিত্রের প্রস্তাব পেলেও আর ক্যামেরার সামনে ফিরতে চাইছেন না?
সব মিলিয়ে আয়ুষ্মান ভারত কর্মসূচির অনুষ্ঠানে মিঠুন চক্রবর্তীর উপস্থিতি শুধু বক্তব্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। শুরুতে নিজেকে ‘সতিমন্ত্রী’ বলে রসিকতা করা থেকে শুরু করে আয়ুষ্মান ভারতের প্রচারে তাঁর পুরনো ভূমিকার কথা বলা, সবকিছুর মাঝেই ছিল তাঁর পরিচিত রসবোধ। শেষে নিজের বহু চর্চিত ‘জাতগোখরো’ সংলাপ বলেই দর্শকদের মন জয় করে নেন তিনি। মিঠুনের বক্তব্যের পাশাপাশি তাঁর সেই সংলাপ বলার মুহূর্তটিই অনুষ্ঠানের অন্যতম আলোচিত অংশ হয়ে ওঠে। মঞ্চ থেকে নেমে যাওয়ার আগে ফের প্রমাণ করে দিলেন, জনপ্রিয় সংলাপের টানে দর্শকদের উচ্ছ্বাস আজও তাঁর সঙ্গে একইভাবে জড়িয়ে রয়েছে।






