টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মনামী ঘোষের নাম শুনলেই মনে আসে পরিশ্রম, ধৈর্য এবং প্রতিশ্রুতির গল্প। ছোট্ট মেয়েটি, যিনি বসিরহাটের একান্নবর্তী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, প্রতিদিন কাকভোরে উঠে বসিরহাট এক্সপ্রেস ধরে কলকাতা শহরে আসত স্বপ্ন পূরণের জন্য। কিন্তু এই স্বপ্ন সহজে আসেনি। প্রথমে একের পর এক অডিশন দেওয়া সত্ত্বেও তাকে অভিনয় জগতে সহজেই স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।
প্রথম সময়ে মনামীকে নানা কটাক্ষের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। অনেকেই বলত, “তোমাকে দেখেই মনে হয় না তুমি নায়িকার জন্য ঠিক”, অথবা “তোমার মাধ্যমে কিছু হবে না।” তবে এই প্রতিকূলতার মধ্যেও মনামী থেমে যাননি। অবশেষে, ধারাবাহিক ‘বিন্নি ধানের খই’-তে মোহরের চরিত্রে অভিনয় করে তিনি রাতারাতি দর্শকের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন।
মনামী ঘোষের অভিনয় জীবনের পরবর্তী ধাপও কম আকর্ষণীয় ছিল না। তিনি ধারাবাহিক ‘পুন্যি পুকুর’, ‘আমলকি’, ‘হিয়ার মাঝে’ এবং ‘ইরাবতী’ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের মন জয় করেছেন। সেই সময়ে বাংলা ধারাবাহিক মানেই ছিল বাঙালির আবেগের ঠিকানা, আর মনামী একের পর এক ধারাবাহিক করে দর্শকদের মন জয় করেছেন। তাঁর নামটি যখন নায়িকা হিসেবে উচ্চারিত হত, তখন তা টিআরপির গ্যারান্টি হিসেবে ধরা হতো।
ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মনামী সর্বদা সতর্ক। চল্লিশের ঘরে এসেও তিনি কখনো নিজের প্রেমের সম্পর্ক সোশ্যাল মিডিয়ার সস্তা প্রচার করেননি। তবে দীর্ঘদিন ধরে কোরিওগ্রাফার সৈকত বারুরি-র সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের গুঞ্জন রয়েছে। তারা একসাথে নাচের ট্রুপে কাজ করেছেন, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছেন এবং মনামীকে মাঝেমধ্যেই নানা ভ্রমণে দেখা যায় এবং সেখানে ক্যামেরার পেছনে যে সৈকত থাকেন তা বলাই বাহুল্য। পাশাপাশি মনামী এখন নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ব্লগিংও করেন।
আরও পড়ুনঃ বনির আগেও এক প্রেমিক ছিল কৌশানির জীবনে! অভিনেতার সঙ্গে সম্পর্কে এসে শিখেছেন ভারসাম্যের পাঠ, অতীতের অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী! ইন্ডাস্ট্রির ঝলকেই কি ভাঙে সেই সম্পর্ক?
মনামী শুধু ধারাবাহিকেই সীমাবদ্ধ থাকেননি। তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য ছবিতেও অভিনয় করেছেন। এর মধ্যে ‘বেলাশেষে’ (২০১৫), ‘মাটি’ (২০১৮), ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’ (২০১২), ‘বেলাশুরু’ (২০২২) এবং ‘পদাতিক’ (২০২৪) উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও ‘ওগো বধু সুন্দরী’ (২০১০) এবং ‘ঘর ও বাইরে’ (২০১৮)-তে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা গেছে তাঁকে। এত বছর ধরে প্রতিকূলতা সত্ত্বেও মনামী তার পরিশ্রম, প্রতিভা এবং ধৈর্য দিয়ে টলিউডের এক উজ্জ্বল তারকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।






