সমাজমাধ্যমের দাপটে এখন খুব অল্প সময়ের মধ্যেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠা যেন একেবারে স্বাভাবিক ঘটনা। কেউ নাচ করে, কেউ গান গেয়ে, আবার কেউ ভিন্ন প্রতিভা দেখিয়ে রাতারাতি ভাইরাল হয়ে উঠছেন। কিন্তু এই দ্রুত জনপ্রিয়তার ভিড়ে কি সত্যিই শিল্পের গভীরতা, সাধনা আর আসল শিল্পসত্ত্বা বোঝা যায়? এই প্রশ্নই বারবার উঠে আসছে বর্তমান সময়ে, যখন ‘ভিউ’ আর ‘লাইক’-এর সংখ্যাই অনেক সময় শিল্পের মান নির্ধারণের মাপকাঠি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
এবার সেই বিষয়েই মুখ খুললেন গায়ক মনোময় ভট্টাচার্য। বাংলা সঙ্গীত জগতের এক উজ্জ্বল নাম তিনি। নজরুলগীতি, রবীন্দ্রসঙ্গীত থেকে আধুনিক গান প্রতিটি ধারাতেই নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছেন এই শিল্পী। দীর্ঘদিন ধরে শ্রোতাদের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া এই কণ্ঠশিল্পী শুধু গানের মাধ্যমেই নয়, নিজের চিন্তাভাবনা দিয়েও বারবার আলোচনায় উঠে এসেছেন। শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে তাঁর মজবুত ভিত তৈরি হয় বেণু কুমার দুবে, বিভূতি বোস এবং জয়ন্ত বোসের কাছে।
পাশাপাশি অনল চট্টোপাধ্যায়, বিমান মুখোপাধ্যায় ও জটিলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের মতো দিকপালদের কাছ থেকে তিনি বাংলা গানের সূক্ষ্মতা রপ্ত করেছেন। এছাড়াও তিনি পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তীর কাছে নিয়মিত তালিম নিয়েছেন, যা তাঁর শেখার আগ্রহ এবং নিষ্ঠার প্রমাণ। ক্যাসেট ও সিডির যুগ থেকে শুরু করে ইউটিউব ও ওটিটি সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তিনি নিজের জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছেন। “অন্য মনোময়” ও “জীবনের ধ্রুবতারা”-র মতো অ্যালবাম তাঁর সঙ্গীতজীবনের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
তবে শুধু সাফল্যের গল্প নয়, বর্তমান প্রজন্মের শিল্পচর্চা নিয়েও স্পষ্ট মতামত জানিয়েছেন মনোময়। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, একজন প্রকৃত সংগীতশিল্পী হয়ে উঠতে গেলে দীর্ঘদিনের সাধনা অত্যন্ত জরুরি। তাঁর কথায়, “কমপক্ষে ১২ থেকে ১৫ বছর নিয়মিত রেওয়াজ না করলে একজন পূর্ণাঙ্গ শিল্পী হওয়া সম্ভব নয়।” অর্থাৎ, শুধু জনপ্রিয়তা নয় গভীর অনুশীলনই একজন শিল্পীকে আলাদা করে তোলে।
আরও পড়ুনঃ মেগাস্টারের সাফল্যের মুকুটে নতুন পালক! অভিনেতা, প্রযোজক ও সাংসদের পর, এবার টলিউড সিনে গিল্ডের সম্মানিত সদস্যপদ পেলেন দেব! “অসাধারণ অনুভূতি”, আবেগাপ্লুত প্রতিক্রিয়া তাঁর!
তিনি আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, আজকের দ্রুত জনপ্রিয়তার সংস্কৃতিতে অনেকেই শর্টকাট খুঁজছেন। কিন্তু সেই পথে হয়তো সাময়িক সাফল্য মিলতে পারে, স্থায়িত্ব আসে না। তাঁর মতে, গানের প্রতি নিষ্ঠা, নিয়মিত চর্চা এবং সঠিক শিক্ষাই একজন শিল্পীর আসল পরিচয় তৈরি করে। তাই নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা স্পষ্ট ভিউ বা ভাইরাল হওয়ার চেয়ে গানের মান এবং সাধনাকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।






