বাংলা টেলিভিশনের দর্শকদের কাছে নবনীতা দে কোনও নতুন নাম নন। ছোট পর্দার পরিচিত মুখ হলেও, পর্দার বাইরের জীবনের গল্প এতদিন তিনি নিজেই আড়াল করে রেখেছিলেন। হাসিমুখে অভিনয়, ক্যামেরার সামনে আত্মবিশ্বাস—সব কিছুর আড়ালে যে এক দীর্ঘ লড়াই লুকিয়ে ছিল, তা খুব কম মানুষই জানতেন। সম্প্রতি নিজের জীবনের সেই অন্ধকার অধ্যায় নিয়ে মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী।
নবনীতার জীবনে একাধিক মোড় এসেছে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই। অভিনয় তাঁর কাছে ছিল নিছক পেশা নয়, বরং বেঁচে থাকার শক্তি। কিন্তু প্রথম বিয়ের পরই সেই জায়গাটাতেই আঘাত আসে। শ্বশুরবাড়ি থেকে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, অভিনয় করা তাদের পছন্দ নয়। নবনীতার কথায়, অভিনয় ছিল তাঁর “অক্সিজেন নেওয়ার জায়গা”, আর সেটাই ধীরে ধীরে কেড়ে নেওয়া হচ্ছিল। কাজ পাওয়া সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে অনেক ধারাবাহিকের সুযোগ হাতছাড়া হয়—যার নেপথ্যে ছিল সংসারের চাপ ও মানসিক বাধা।
এই সম্পর্কের ভেতরে শুধুই পেশাগত বাধা নয়, ছিল গভীর মানসিক অত্যাচারও। অভিনেত্রী নিজেই জানিয়েছেন, শারীরিকভাবে কোনও দিন তাঁর গায়ে হাত তোলা হয়নি, কিন্তু মানসিক নিগ্রহ ছিল ভয়ঙ্কর রকমের। বিয়ের আগেও একাধিকবার সম্পর্ক ভেঙেছে, আবার জোড়া লেগেছে। পরে তিনি জানতে পারেন, তাঁকে বিয়ে করার আগেই তাঁর স্বামীর আরও দুটি বিয়ে হয়েছিল—যা তাঁর কাছে সম্পূর্ণ অজানা ছিল। নবনীতার স্পষ্ট বক্তব্য, তাঁর আগের স্বামী ছিলেন “মোস্ট চিটিংবাজ”। এই সম্পর্কের মধ্যেই তাঁদের কন্যাসন্তানের জন্ম হয়, কিন্তু তাতেও পরিস্থিতির কোনও উন্নতি হয়নি।
দুর্ভাগ্য এখানেই থামেনি, বিচ্ছেদের আগেই মৃত্যু হয় তাঁর প্রথম স্বামীর। একদিকে স্বামীহারা হওয়ার শোক, অন্যদিকে লাগাতার দোষারোপ—সব মিলিয়ে জীবন কার্যত অন্ধকারে ঢেকে যায়। নবনীতা জানিয়েছেন, স্বামীর শেষকৃত্যের পরেও শ্বশুরবাড়ির কেউ তাঁর পাশে দাঁড়াননি। সেই সময় একা হাতে সন্তান সামলে, নিজেকে সামলে দাঁড়িয়ে থাকা ছিল সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা।
আরও পড়ুনঃ “পরিবারের দায়িত্বের ব্যস্ততায় দশ বছর ক্যা*ন্সারের কথা চেপে রেখেছিলেন!” দাম্পত্য জীবনের অজানা অধ্যায় আর স্বামীকে হারানোর পর ডিপ্রে’শনের লড়াই নিয়ে প্রথমবার মুখ খুললেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের স্ত্রী স্বাতী গঙ্গোপাধ্যায়!
তবু জীবন থেমে থাকে না। সময়ের স্রোতেই নবনীতার জীবনে আসে অভিনেতা রাজা চট্টোপাধ্যায়। ২০২০ সালে মেয়েকে সঙ্গে নিয়েই নতুন করে পথচলা শুরু করেন তিনি। দ্বিতীয় বিয়েতে আজ তিনি মানসিকভাবে শান্ত, নিরাপদ। শুধু স্বামী নয়, গোটা শ্বশুরবাড়িকেই নিজের পরিবার বলে মনে করেন নবনীতা। রাজার আগের পক্ষের মেয়েকেও তিনি নিজের সন্তানের মতোই ভালোবাসেন। নেতাজিনগরে দু’জনে মিলেই জিম খুলেছেন। বহু ঝড় পেরিয়ে আজ নবনীতার জীবনে এসেছে স্থিরতা—যার জন্য তাঁকে লড়তে হয়েছে অসম্ভব কঠিন এক যুদ্ধ।






