বাংলা সাহিত্য জগতের এক অবিচ্ছেদ্য নাম সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ—সাহিত্যের প্রায় সব শাখাতেই তিনি রেখে গিয়েছেন নিজের স্বতন্ত্র ছাপ। ‘কৃত্তিবাস’ আন্দোলনের অন্যতম মুখ ছিলেন তিনি। মাত্র ১৭ বছর বয়সে, ১৯৫২ সালের ২৯ মার্চ ‘দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল তাঁর প্রথম লেখা। সেই কবিতার নাম ছিল ‘একটি চিঠি’, যা নাকি এক বান্ধবীকে ইমপ্রেস করার জন্যই লেখা—এই গল্প আজও সাহিত্যমহলে চর্চিত।
এই প্রখ্যাত সাহিত্যিকের জীবনের আর এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় তাঁর দাম্পত্য জীবন। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের স্ত্রী স্বাতী গঙ্গোপাধ্যায় নিজেও দীর্ঘদিন সাহিত্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত। একজন সাহিত্যিকের জীবনসঙ্গী হিসেবে তাঁর অভিজ্ঞতা যে সাধারণ দাম্পত্য জীবনের থেকে অনেকটাই আলাদা ছিল, তা সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে অকপটে তুলে ধরেছেন তিনি। স্বামীর প্রয়াণের বহু বছর পর প্রথমবার প্রকাশ্যে মুখ খুলে তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনের নানা অজানা দিক সামনে এনেছেন স্বাতী।
সেই সাক্ষাৎকারে স্বাতী গঙ্গোপাধ্যায় জানান, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় দীর্ঘদিন গুরুতর শারীরিক অসুস্থতায় ভুগলেও তা পরিবারের কাছ থেকে গোপন রেখেছিলেন। ক্যান্সারের মতো একটি রোগ প্রায় দশ বছর ধরে চেপে রেখেছিলেন তিনি, এমনকি নিজের স্ত্রীর কাছেও তা প্রকাশ করেননি। শারীরিক কষ্ট থাকা সত্ত্বেও কাজের মধ্যেই নিজেকে ডুবিয়ে রেখেছিলেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কলম থামাননি।
স্বামীকে হারানোর পর স্বাতীর জীবনও সহজ ছিল না। তিনি জানান, সুনীলের মৃত্যুর পর তাঁর শরীরেও নানা অসুস্থতা দেখা দেয় এবং মানসিকভাবে বহুবার ডিপ্রেশনের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। যদিও তাঁদের ছেলে সর্বদা তাঁকে ভালো রাখার চেষ্টা করে, তবু তাঁর মনে আজও যেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় রয়ে গিয়েছেন—এই কথাও আবেগের সঙ্গে ভাগ করে নেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ “আমাকে কাছে পেতে কা’লাজা’দুর আশ্রয় নিয়েছিল, মিষ্টি খাওয়ার পর থেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ি” ‘ননসেন’কে নিয়ে মুখ খুললেন স্যান্ডি সাহা! ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা ফাঁস, শমীকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ!
এছাড়াও বর্তমান প্রজন্মকে নিয়েও মতামত দিয়েছেন স্বাতী গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, আজকের ভারতীয় তরুণ-তরুণীরা দেশের বাইরে গিয়ে কাজ করতেই বেশি আগ্রহী, যার ফলে বাবা-মায়েদের একাকিত্ব বাড়ছে। সব মিলিয়ে এই সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে শুধু এক সাহিত্যিকের অন্তিম সময় নয়, বরং এক গভীর ভালোবাসা, নীরব ত্যাগ এবং স্মৃতির সঙ্গে বেঁচে থাকার এক মানবিক ছবি।






